Published : 28 Jan 2026, 05:44 PM
বিতর্কিত ইউনিফিকেশন চার্চের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার দায়ে দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রেসিডেন্টের স্ত্রীকে ২০ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত।
৫২ বছর বয়সী কিম কিওন হি-র বিরুদ্ধে শেয়ার মূল্যে কারসাজি এবং ২০২২ সালের নির্বাচনের আগে এক রাজনৈতিক মধ্যস্থতাকারীর কাছ থেকে বিনামূল্যে জনমত জরিপ নেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছিল। কিন্তু আদালত তাকে এসব অভিযোগ থেকে মুক্তি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।
২০২২ সালের নির্বাচনে জিতেই কিমের স্বামী ইউন সুক ইওল ক্ষমতায় বসেছিলেন।
দুই বছর পর ২০২৪ সালে মার্শাল ল জারির ব্যর্থ এক চেষ্টার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিচারকাজে বাধার অভিযোগে এরই মধ্যে ইউনকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
কিমের কারাদণ্ডের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়া তাদের ইতিহাসে প্রথমবার কাছাকাছি সময়ে কোনো সাবেক প্রেসিডেন্ট ও তার স্ত্রীকে দণ্ডিত হতে দেখল।
মামলাটির জন্য বিশেষভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত কাউন্সেল দল বলছে, ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে জুলাইয়ের মধ্যে কিম ইউনিফিকেশন চার্চের কাছ থেকে গ্রাফ ব্র্যান্ডের একটি হীরার হার ও শ্যানেলের একাধিক ব্যাগসহ ৮০ মিলিয়ন ওন (৫৬ হাজার ডলার) মূল্যের উপহার নিয়েছিলেন।
কাউন্সেল দল তিনটি অভিযোগে কিমের ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ২০০ কোটি ওন জরিমানা চেয়েছিল। কিন্তু সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট আদালতের বিচারক উ ইন-সাং দুটি অভিযোগ খারিজ করে দেন এবং ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে মাত্র ২০ মাসের কারাদণ্ড দেন।
বিচারক তাকে নগদ ১২ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন ফেরত দিতেও নির্দেশ দিয়েছেন, পাশাপাশি তার হীরার হারটি জব্দ করতে বলা হয়েছে।
রায়ের পর দেওয়া বিবৃতিতে কিম বলেছেন, তিনি আদালতের রায় মেনে নিচ্ছেন।
সাবেক এই ফার্স্ট লেডি আগেই বলেছিলেন, তিনি শ্যানেলের ব্যাগগুলো উপহার হিসেবে পেলেও সেগুলো ব্যবহার না করেই ফেরত পাঠিয়েছিলেন।
“আমার কারণে যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে, তার জন্য আরও একবার আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি,” বলেছেন তিনি। যদিও প্রথমদিকে তিনি তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।
কিমের বিরুদ্ধে ইউনিফিকেশন চার্চের অনুসারীদের মধ্য থেকে রক্ষণশীল পিপল পাওয়ার পার্টির জন্য সদস্য সংগ্রহের এক পরিকল্পনায় জড়িত থাকার এবং সরকারি চাকরিতে নিয়োগের বিনিময়ে উপহার নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। সেসব অভিযোগ নিয়ে আদালতে এখনও শুনানি শুরু হয়নি।
সাবেক এ ফার্স্ট লেডি অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এগুলোকে ‘খুবই অন্যায্য’ আখ্যা দিয়েছেন।
গত বছর অগাস্টের শেষদিকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি জনসমক্ষে ক্ষমা চান।
“আমি সত্যিই দুঃখিত যে আমার মতো এমন তুচ্ছ মানুষ লোকজনের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে,” বলেছিলেন তিনি।
কিমের সঙ্গে ইউনিফিকেশন চার্চের যোগসাজশ তদন্তে চার্চটির নেতা হান হাক-জা’কেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।