১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ইমরান ও বুশরাকে নির্জন কারাবাসে না রাখার নির্দেশ পাকিস্তান হাই কোর্টের

ইমরান ও বুশরাকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া, বই সরবরাহ করা এবং প্রয়োজনমত চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্যও আদিয়ালা জেল কর্তৃপক্ষকে আদেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।

ইমরান ও বুশরাকে নির্জন কারাবাসে না রাখার নির্দেশ পাকিস্তান হাই কোর্টের
ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Sep 2026, 08:10 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:56 PM

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে নির্জন কারাবাসে রাখা যাবে না বলে আদেশ দিয়েছে ইসলামাবাদ হাই কোর্ট।

মঙ্গলবার হাই কোর্টের বিচারক খাদিম হুসাইন সুমরো রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগার কর্তৃপক্ষকে এই নির্দেশ দেন।

আদেশের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তদারকি প্রতিবেদন জমা দিতে কারাধ্যক্ষকে (সুপারিনটেনডেন্ট) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

‘ইন্ডিয়া টুডে’র এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইমরান খানের বোন আলিমা খানম এবং বুশরা বিবির মেয়ে মুবাশরা খাওয়ার মানেকার দায়ের করা পৃথক দুটি আবেদনের শুনানি শেষে আদালত এই নির্দেশ দেয়।

গত ৬ অগাস্ট বিচারক মামলা দুটির রায় স্থগিত রেখেছিলেন।

পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা

আদালত আদেশে স্পষ্ট করে জানিয়েছে, কারাগারের নিয়ম অনুযায়ী ইমরান খানকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের সুযোগ দিতে হবে।

এছাড়া, তাকে প্রতিদিন খবরের কাগজ ও বই সরবরাহ করা, ছেলেদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার ব্যবস্থা করা এবং কারাবিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে।

দুর্নীতিসহ একাধিক মামলায় দণ্ডিত হয়ে ২০২৩ সালের অগাস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান।

তিনি এবং তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে।

স্বজনদের অভিযোগ, কারাগারে ইমরানকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না এবং সঠিক চিকিৎসা থেকেও বঞ্চিত করা হচ্ছে; যদিও পাকিস্তান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

অন্যদিকে, ইমরানের স্ত্রী বুশরা বিবি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে একটি দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে প্রথম কারাবরণ করেন।

প্রায় ৯ মাস পর অক্টোবরে জামিনে মুক্তি পেলেও ২০২৫ সালের ১৭ জানুয়ারি অন্য একটি দুর্নীতি মামলায় তাকে ফের গ্রেপ্তার করে আদিয়ালা কারাগারে পাঠায় কর্তৃপক্ষ।

পরবর্তীতে আরও একাধিক দুর্নীতি মামলায় তিনি দণ্ডিত হন।

চিকিৎসাসেবা নিয়ে অবমাননার আবেদনের শুনানি ১৬ সেপ্টেম্বর

হাই কোর্টের পাশাপাশি পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টেও ইমরান খানের চিকিৎসা ও কারাবাস নিয়ে আইনি লড়াই চলছে।

ডন নিউজ জানিয়েছে, সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে বেসরকারি ‘শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে’ ভর্তি রেখে ১৬ সেপ্টেম্বর পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট।

তবে গত ২০-২১ অগাস্ট মধ্যরাতে নিরাপত্তা উদ্বেগের অজুহাত দেখিয়ে ইমরানকে সরকারি ‘পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস’ (পিমস) হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দ্রুত আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ অমান্য করে দ্রুত জেলে ফেরানোর বিষয়ে ইমরান খানের আরেক বোন উজমা খান অবমাননার রিট করে শুনানির আবেদন জানান।

উজমার আবেদনে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যে, এ পদক্ষেপ সুপ্রিম কোর্টের আদেশ লঙ্ঘন করেছে, যে আদেশে ইমরানকে ১৬ সেপ্টেম্বরের শুনানি না হওয়া পর্যন্ত ইসলামাবাদের হাসপাতালে ভর্তি থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

 উজমার আদালত অবমাননার এই রিট আবেদনটির চূড়ান্ত শুনানির জন্য আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর তারিখ ধার্য করা হয়েছে।

বিচারপতি শাহিদ ওয়াহিদ, বিচারপতি নাঈম আকতার আফগান এবং বিচারপতি ইশতিয়াক ইব্রাহিমের সমন্বয়ে গঠিত তিন বিচারপতির বেঞ্চে ইমরান খানের স্বাস্থ্য, চিকিৎসাসেবা ও স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়টির শুনানি হবে।