১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

বিহারে বিজেপি’র দূর্গে ধস, বাঁকিপুর উপনির্বাচনী ফলে প্রশান্ত কিশোরের বড় জয়

বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনে ৩০ দফা ভোট গণনার পর জন সুরাজ পার্টির প্রশান্ত কিশোর প্রায় ১৯ হাজার ভোটে এগিয়ে গেছেন।

বিহারে বিজেপি’র দূর্গে ধস, বাঁকিপুর উপনির্বাচনী ফলে প্রশান্ত কিশোরের বড় জয়
ভোটগণনায় প্রশান্ত কিশোরের ঐতিহাসিক জয় উদযাপন করছে তার জন সুরাজ পার্টির কর্মীরা। ছবি: ইন্ডিয়া টুডে

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 Aug 2026, 11:14 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:47 PM

ভারতে বিহারের রাজনীতিতে দেখা গেছে বড় চমক। বাঁকিপুর উপনির্বাচন নিয়ে রাজ্য-রাজনীতি সরগরম।

দীর্ঘ ৩১ বছর ধরে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) দখলে থাকা বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের ভোটগণনায় বিজেপি প্রার্থী নীরজ কুমার সিনহাকে পেছনে ফেলে বড় জয় পেয়েছেন জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর।

‘ইন্ডিয়া টুডে’ পত্রিকা জানিয়েছে ৩০ দফা ভোট গণনার পর প্রশান্ত কিশোর ১৮ হাজার ৯৫৩ ভোটে এগিয়ে গেছেন। বিজেপি এরই মধ্যে নিজেদের হার স্বীকার করে নিয়েছে।

প্রশান্ত কিশোর এই জয়ের মাধ্য দিয়ে কেবল বিজেপি’র দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময়ের দুর্গই ভেঙে দেননি বরং তার দলের জন্য বিহার বিধানসভায় প্রথম খাতাও খুলতে চলেছেন।

সোমবার সকাল থেকে ভোটগণনা শুরু হতেই বাঁকিপুরের ফলের দিকে চোখ ছিল গোটা ভারতের।

প্রথম দফার ভোট গণনা শেষে প্রশান্ত কিশোর পান ২,২২০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি’র

নীরজ কুমার সিনহা পান ১,৩৯৩ ভোট। অন্যদিকে, রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) প্রার্থী রেখা কুমারী গুপ্তা পান ৫০১ ভোট।

পরে ২৭ দফা ভোট গণনায় দেখা যায়, প্রশান্ত কিশোর ১৭ হাজার ভোটে এগিয়ে গেছেন। এরপর ৩০ দফা ভোট গণনায় প্রায় ১৯ হাজার ভোটে তার জয় স্পষ্ট হয়। জন সুরাজ পার্টির কর্মীরা প্রশান্তের এই ঐতিহাসিক জয় উদযাপন করেছে আনন্দ উল্লাসের মধ্য দিয়ে।

ওদিকে, বিহারের বিজেপি নেতা বিজয় কুমার সিনহা বাঁকিপুরে উপনির্বাচনে হার মেনে নিয়ে বলেছেন, জনগণের রায়কে সম্মান করুন।

তিনি বলেন, “এটি গণতন্ত্রের দেশ। আমরা জনগণের রায়কে সম্মান করি। ভারতীয় জনতা পার্টি সবসময় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পাশে দাঁড়িয়েছে। তারা বিরোধীদলের মতো নয়। আমরা নির্বাচন কমিশন কিংবা ইভিএম ব্যবস্থাকে দোষারোপ করি না। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে সম্মান করি এবং জনগণের রায় মেনে নেই।”

সোমবার বিহারের বাঁকিপুর ছাড়াও গুজরাটের মঞ্জলপুর ও মধ্যপ্রদেশের দাতিয়ায় উপনির্বাচন হচ্ছে। এখন পর্যন্ত গুজরাটের মঞ্জলপুরে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। অন্যদিকে, মধ্যপ্রদেশের দাতিয়ায় এগিয়ে রয়েছে কংগ্রেস।

বাঁকিপুর আসনটি বিহারের রাজনীতিতে বিজেপি’র অন্যতম নিরাপদ কেন্দ্র হিসেবেই এতদিন পরিচিত ছিল। ১৯৯৫ সাল থেকে টানা ৩১ বছর ধরে এই কেন্দ্রে জয়ী হয়ে এসেছে বিজেপি।

ফলে এই উপনির্বাচনে প্রশান্ত কিশোরের বড় জয় শুধু একটি আসনের লড়াই নয়, বরং বিহারের রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভোটের ময়দানে এটিই প্রশান্ত কিশোরের প্রথম সরাসরি নির্বাচনী লড়াই ছিল।

তার বিপরীতে বিজেপি’র হয়ে এই আসনে লড়েন নীরজ কুমার সিনহা। সাবেক বিধায়ক নীতিন নবীন রাজ্যসভায় নির্বাচিত হওয়ার পর আসনটি খালি হয়। সে কারণেই এই উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) এই আসনে রেখা কুমারী গুপ্তাকে প্রার্থী করে। ফলে বাঁকিপুরে মূলত প্রশান্ত কিশোর, বিজেপি এবং আরজেডি-র মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জন সুরাজ অভিযানের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বিকল্প রাজনীতির বার্তা দিয়ে আসা প্রশান্ত কিশোরের কাছে এই নির্বাচন ছিল তার রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার প্রথম বড় পরীক্ষা।

এই নির্বাচনে তার বড় জয় কেবল জন সুরাজ পার্টির জন্যই নয়, বরং আগামী বিহার বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যের রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।

জয় স্পষ্ট হয়ে ওঠার পরই মুখ খুলে প্রশান্ত কিশোর বলেছেন, বিজেপি’র ৩০ বছরের দুর্গ মাত্র ৩০ দিনেই চুরমার করেছেন তিনি৷ কেবল তাই নয়, এই ফল কর্মসংস্থান, শিক্ষা এবং উন্নয়নের প্রশ্নের দিকে বিহারের মানুষের গুরুত্ব দেওয়ারই নিদর্শন।

বিজেপি’র পতনের কারণ নিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বিহারের মানুষ এখন চায়, সরকার যেন চার-পাঁচ কেজি বিনামূল্যে রেশন ও জাতপাতের রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে তাদের সন্তানদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের জন্য কাজ করে।

কিশোর সতর্ক করে এও বলেছেন যে, “যেসব সরকার সাধারণ মানুষের এসব উদ্বেগ উপেক্ষা করবে, তারা ভবিষ্যতে একই ধরনের নির্বাচনী বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে পারে। বর্তমান সরকার এ বিষয়গুলো নিয়ে কাজ না করলেও ভবিষ্যতে তারা একই ধরনের নির্বাচনী ফল দেখতে থাকবে৷’’

কিশোর জোর দিয়ে বলেন, তার লড়াই কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, বরং বিহারে উন্নততর শাসনের জন্য। রাজ্য শাসনের জন্য বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র জনাদেশ রয়েছে তা স্বীকার করে নিয়ে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে এমন একজন মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ করার আহ্বান জানান, যিনি বিহারের উন্নয়নের গতিপথ বদলে দিতে পারবেন।