২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭ আশ্বিন ১৪৩৩

যে মুহূর্তে বিক্ষোভকারীরা ঢুকে পড়ল গোটাবায়ার প্রাসাদে

কারফিউ, ভারী অস্ত্রসজ্জিত সেনা ও পুলিশ মোতায়েন, টিয়ারশেল আর ফাঁকা গুলিও দমাতে পারেনি শ্রীলঙ্কার হাজারো বিক্ষোভকারীকে, শনিবার দুপুরে আচমকা বানের মতো প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসের প্রাসাদে ঢুকে পড়ে তারা।

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 09 Jul 2022, 11:02 PM

Updated : 25 Oct 2022, 10:54 AM

Image
ছবি: রয়টার্স
Image
ছবি: রয়টার্স
Image
ছবি: রয়টার্স
Image
ছবি: রয়টার্স
Image
ছবি: রয়টার্স

পরিস্থিতি যে এমন হবে তা হয়ত আগেই অনুধাবন করেছিল দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, যে কারণে শুক্রবার রাতে ওই এলাকায় কারফিউ জারি করা হয়।

অবশ্য বিরোধীদল আর মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর চাপে তা প্রত্যাহার করা হয়। শ্রীলঙ্কার আইনজীবীরা দেশটির পুলিশ প্রধানের বিরুদ্ধে মামলার হুমকিও দিয়েছিলেন।

Image
ছবি: রয়টার্স

ছবি: রয়টার্স

বিবিসি জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের বাড়িতে থাকার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু তা উপেক্ষা করে তারা গাড়ি, ভ্যান, বাসে করে কলম্বো ফোর্টের চাথাম স্ট্রিটের সড়কে জড়ো হতে থাকেন। বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ ট্রেনে তাদের নিয়ে কলম্বো যেতে রেল কর্মীদের বাধ্য করেন।

শনিবার চাথাম স্ট্রিটে যখন বিক্ষোভ শুরু হয়, পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে টিয়ারশেল আর ফাঁকাগুলি ছোঁড়ে। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা সড়কে থাকা পুলিশ ব্যারিকেড টপকালে তাদের আর থামানো যায়নি কোনোভাবে।

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসা ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের ভেতরে ঘোরাঘুরি করছেন। কেউ কেউ বিলাসবহুল কক্ষে বসে আছেন। এ ছাড়া প্রাসাদের ভেতরে সুইমিং পুলে লাফালাফি আর জল ছোঁড়াছুঁড়ি করছেন।

Image
ছবি: রয়টার্স

ছবি: রয়টার্স

বিক্ষোভকারীরা বাসভবনে ঢুকে পড়লেও সেখানে তখন প্রেসিডেন্ট ছিলেন না। কলম্বোতে বিক্ষোভ শুরুর আগেই বাসভবন প্রাঙ্গণ থেকে গোটাবায়াকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে ডেইলি মিরর।

প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া এখন কোথায় আছে তা জানা যায়নি। তবে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, তাকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ওই ঘটনায় হতাহতের তাৎক্ষণিক কোনো খবর পাওয়া যায়নি। যদিও গত কয়েক মাস ধরে চলা এমন বিক্ষোভে বেশ কয়েকজন নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে।

Image
ছবি: রয়টার্স

ছবি: রয়টার্স

শ্রীলঙ্কায় এখন খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধের যে তীব্র ঘাটতি তার জন্য গোটাবায়ার সরকারের অব্যবস্থাপনাকেই বেশিরভাগ মানুষ দায়ী করছেন। ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি আর বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতির কারণে দিন দিন পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে।

বিবিসি জানায়, স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বাজে অর্থনৈতিক দুর্দশায় পড়া শ্রীলঙ্কায় প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার কলম্বোয় গণবিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছিল।

ওই বিক্ষোভে অংশ নিতে দ্বীপদেশটির বিভিন্ন অংশ থেকে মানুষ রাজধানীতে গাড়ি, ভ্যান, বাসে করে ছুটে এসেছিলেন। কয়েকমাস ধরে চলা অস্থিরতার মধ্যে সবথেকে উত্তাল আর টালমাটাল দিন ছিল এটি।

Image
ছবি: রয়টার্স

ছবি: রয়টার্স

এই সংকট সমাধানে গত মে মাসে নতুন প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে দায়িত্বে আসেন। চলমান অস্থিরতার মধ্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছেন তিনি। যদিও প্রেসিডেন্ট গোটাবায়ার সঙ্গে তাকেও পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে বিক্ষোভকারীরা।