যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি চাইছেন আফগান কূটনীতিকরা
তালেবান ক্ষমতা দখলের পর বন্ধ হয়ে গেছে বেতন, আছেন দেশে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকিতে। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় প্রার্থনা করছেন দেশটিতে অবস্থান করা আফগান কূটনীতিকরা।
ওয়াশিংটনে আফগানিস্তানের দূতাবাস এবং নিউ ইয়র্ক ও লস অ্যাঞ্জেলেসে আফগান কনস্যুলেটে কাজ করেন বেশ কয়েকজন আফগান কূটনীতিক।
গত বছর অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সরকারকে উৎখাত করে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে তালেবান। তারপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার সে দেশে থাকা আফগানিস্তানের সব একাউন্ট বন্ধ করে রেখেছে। ফলে কূটনীতিকদের বেতন বন্ধ হয়ে গেছে।
যদিও কূটনীতিকরা এখনও যুক্তরাষ্ট্রে দূতাবাস এবং কনস্যুলেট খোলা রাখেছেন। তারা কূটনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তাদের কূটনৈতিক পরিচয় (স্ট্যাটাস) বহাল রাখতে চাইছেন। না হলে তাদেরকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরে যেতে হবে।
আফগানিস্তান বর্তমানে যে সংকটময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তাতে আফগান কূটনীতিকরা কোনওভাবেই দেশে ফিরতে চাইছেন না। এজন্য তারা এখন যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় অথবা বৈধভাবে থাকার অনুমতি চাইছেন।
কিন্তু তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসার আগেই যদি দূতাবাসগুলো বন্ধ হয়ে যায় তবে আফগান কূটনীতিকরা রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়বেন। এমনকী কাজ করার জন্য বৈধ অনুমতিপত্রও তাদের হাতে নেই।
সেক্ষেত্রে তারা কী করবেন এমন প্রশ্নের জাবাবে আফগান দূতাবাসের উপ প্রধান আব্দুল হাদি নেজরাবি বলেন, ‘‘এটা আমরা কোনোভাবেই চাইনি । কিন্তু এটা এমন এক পরিস্থিতি যা আমাদের ওপর আপতিত হয়েছে।”
‘‘আমরা খুব সম্ভবত বেশি দিন এখানে থাকতে পারব না। যেভাবে আছি, একদিন তা শেষ হবে। এখনও এখানে প্রচুর কাজ করার সুযোগ আছে। কিন্তু একটি পথ খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত আমরা কিছু করতে পারব না।”
বিশ্বজুড়ে আফগান দূতাবাসের কর্মীরা দেশে না ফিরে স্বাধীনভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তাদের অনেকে তালেবান সরকার কে ‘অবৈধ বলে’ সমালোচনাও করছেন। তালেবান ব্যানারের পরিবর্তে তারা এখনও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আফগানিস্তানের পতাকা দূতাবাসে ওড়াচ্ছেন।
কিন্তু বেতন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা কতদিন কার্যক্রম চালিয়ে নিতে পারবেন তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
নেজরাবি বলেন, তাদের বেশিরভাগই এখন সঞ্চয় বা স্বজনদের কাছ থকে ঋণ করে চলছেন। তাদের কারও কারও স্বাস্থ্য বীমা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে তারা অসুস্থ হলে হাজার হাজার ডলার চিকিৎসা বিল দেওয়ার ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন।
ফ্রান্সে আফগান কূটনীতিকরা দূতাবাস কম্পাউন্ড ছেড়ে বেসরকারি অ্যাপার্টমেন্টে উঠেছেন। দূতাবাস কম্পাউন্ডের ভাড়া দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না বলে বাধ্য হয়ে তারা এটা করেছেন বলে জানান সেখানে অবস্থান করা দুই সাবেক আফগান কূটনীতিক।
শুধু কূটনীতিকরাই নন, আফগানিস্তান জুড়ে সরকারি কর্মকর্তারাও বেতন পাচ্ছেন না।
