২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭ আশ্বিন ১৪৩৩

এক ডোজের টিকা ‘স্পুৎনিক লাইট’ ব্যবহারের অনুমোদন দিল ভারত

কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে লড়াই আরও জোরদার করতে এবার রাশিয়ার তৈরি এক ডোজের টিকা ‘স্পুৎনিক লাইট’ জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে ভারত।

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 07 Feb 2022, 11:44 PM

Updated : 28 Apr 2022, 11:36 PM

ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনসুখ মান্দাভিয়া রোববার এক টুইটে এ তথ্য জানান বলে ‍জানায় বিবিসি। এ নিয়ে কোভিড-১৯ এর নয়টি টিকা ব্যবহারের অনুমোদন দিল ভারত সরকার। যার মধ্যে তিনটি টিকা ভারতেই উৎপাদিত।

ভারত এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসের ১৭০ কোটি ডোজ টিকা দিয়েছে। দেশটির প্রাপ্ত বয়স্ক ৭৬ শতাংশ মানুষ এখন টিকার দুই ডোজই পেয়েছেন এবং ৯৯ শতাংশের বেশি পেয়েছেন টিকার অন্তত এক ডোজ।

এছাড়া, গত ১০ জানুয়ারি থেকে ভারতে স্বাস্থ্যকর্মী, সম্মুখসারির যোদ্ধা এবং ষাট ঊর্ধ্ব ব্যক্তিদের বুস্টার ডোজ দেওয়া শুরু হয়েছে।

১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সের ভারতীয় কিশোর-তরুণরাও গতমাস থেকে টিকা পাচ্ছে। এই বয়সের ৬৬ শতাংশের বেশি এরই মধ্যে টিকার অন্তত এক ডোজ পেয়ে গেছে।

করোনাভাইরাসের দ্রুত সংক্রামক ধরণ ওমিক্রনের কারণে জানুয়ারি থেকে ভারতে আবারও সংক্রমণ বাড়তে শুর করে এবং সে সময় মাত্র কয়েক দিনেই ১০ লাখের বেশি নতুন রোগী শনাক্ত হয়। গত ২০ জানুয়ারি সর্বোচ্চ তিন লাখ ৪৭ হাজার মত নতুন রোগী শনাক্ত হয়।

যেভাবে কাজ করবে স্পুৎনিক লাইট:

রাশিয়ার তৈরি করোনাভাইরাসের দুই ডোজের টিকা স্পুৎনিক ভি’র উপাদান দিয়েই ‘স্পুৎনিক লাইট’ তৈরি করা হয়েছে। রাশিয়ারগামালিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এ বুস্টার টিকা হিসাবে তৈরি হয়েছে এই স্পুৎনিক লাইট।

গত বছর মে মাসে রাশিয়া যখন এই টিকা তৈরির ঘোষণা দেয় তখনই তারা বলেছিল, যেসব দেশে কোভিড-১৯ দ্রুত ছড়াচ্ছে সেসব দেশই তাদের এই টিকার লক্ষ্য।

রাশিয়ান ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (আরডিআইএফ) স্পুৎনিক লাইট’র পৃষ্ঠপোষকতা করছে। গত বছর মে মাসে আরডিআইএফ বলছিল, দুই ডোজের স্পুৎনিক-ভি যেখানে ৯২ শতাংশ কার্যকর, সেখানে এক ডোজের স্পুৎনিক লাইটের কার্যকারিতা ৭৯ দশমিক ৪ শতাংশ।

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন রুখতে এই বুস্টার টিকা সবচেয়ে বেশি কার্যকর বলে দাবি তাদের। ভারত গত বছর জরুরি ব্যবহারের জন্য স্পুৎনিক ভি টিকা ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছিল। মস্কোর গামালিয়া ইন্সটিটিউট সবাইকে চমকে দিয়ে প্রথম এই টিকা উদ্ভাবন করেছিল।

টিকার চূড়ান্ত ট্রায়ালের ফলাফল প্রকাশের আগেই সেটি বাজারে আনায় প্রাথমিকভাবে স্পুৎনিক ভি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বিজ্ঞানীরা এখন বলছেন, এই টিকার কার্যকারিতা প্রমাণিত।

স্পুৎনিক ভি’র প্রথম ডোজে যেসব উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলো ব্যবহার করেই স্পুৎনিক লাইট তৈরি করা হয়েছে।

এটির উৎপাদকরা বুস্টার ডোজ হিসেবে স্পুৎনিক লাইট ব্যবহারের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। তাদের দাবি, করোনাভাইরাসের গুরুতর ধরন ডেল্টার বিরুদ্ধে এটি খুবই কার্যকর। এর এক ডোজই স্পুৎনিক ভি’র দুই ডোজের কাছাকাছি অ্যান্টিবডি তৈরি করতে সক্ষম।