২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬ আশ্বিন ১৪৩৩

রাশিয়ার হয়ে ‘গুপ্তচরগিরি’, জার্মানিতে ব্রিটিশ দূতাবাসের কর্মী আটক

অর্থের বিনিময়ে রুশ গোয়েন্দা সংস্থার হাতে গুরুত্বপূর্ণ নথি তুলে দিয়েছেন সন্দেহে বার্লিনের ব্রিটিশ দূতাবাসে কাজ করা যুক্তরাজ্যের এক নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে জার্মানির পুলিশ।

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 Aug 2021, 05:39 PM

Updated : 07 Apr 2022, 11:29 PM

বুধবার জার্মান কৌসুলিরা তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে ডেভিড এস নামে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে; তার বাসা ও কর্মস্থলে তল্লাশি চালানো হয়েছে। বুধবার তাকে তদন্তকারী এক বিচারকের সামনে হাজির করা হবে বলে জানিয়েছেন কৌঁসুলিরা।

জার্মানিতে গ্রেপ্তার নাগরিকের বয়স ৫৭ বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ পুলিশ।

“অন্তত একবার তিনি পেশার সুবাধে পাওয়া নথি রুশ গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধির হাতে তুলে দিয়েছিলেন। এর বিনিময়ে অভিযুক্ত এই ব্যক্তি অর্থ পেয়েছেন, যদিও এর পরিমাণ জানতে পারিনি আমরা,” এক বিবৃতিতে এমনটাই বলেছেন জার্মানির প্রধান কেন্দ্রীয় কৌঁসুলি।

এই প্রসঙ্গে রাশিয়ার ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস (এফএসবি) ও ফরেন ইন্টিলিজেন্স সার্ভিসের (এসবিআর) কাছে জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

জার্মানিতে অবস্থিত রুশ দূতাবাসও এ বিষয়ে বার্তা সংস্থা ইন্টারফেক্সকে কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

জার্মানিতে অবস্থিত ব্রিটিশ ও রুশ দূতাবাসের দূরত্ব আড়াইশ মিটারের মতো।

মঙ্গলবার ওই ব্যক্তিকে বার্লিনের বাইরে পটসডাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের আগ পর্যন্ত তিনি ব্রিটিশ দূতাবাসে কর্মরত থাকায় তার বিরুদ্ধে জার্মান ও ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষকে যৌথ তদন্ত চালাতে হয়, বলেছেন কৌঁসুলিরা।

পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিতে চীন ও রাশিয়া বাণিজ্যিকভাবে সংবেদনশীল ও মেধাস্বত্ব সংক্রান্ত তথ্য চুরির পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে সন্দেহ করছে যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। ২০১৮ সালে রুশ এজেন্টরা যুক্তরাজ্যের মাটিতে পক্ষত্যাগী সাবেক রুশ গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপলকে হত্যার চেষ্টা চালায় বলেও অভিযোগ তাদের। 

অন্যদিকে মস্কো ও বেইজিং বলছে, পশ্চিমা দেশগুলো তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক ষড়যন্ত্র হচ্ছে- এমন সন্দেহবাতিকগ্রস্ত হয়ে উঠছে।

রাশিয়া ও চীন উভয় দেশই অন্য দেশের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ, বিভাজন সৃষ্টি, প্রযুক্তি চুরির আকাঙ্ক্ষা ও সাইবার হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।