Published : 01 Sep 2026, 04:07 PM
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় বিখ্যাত গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন জাতীয় উদ্যানে হড়পা বানে অন্তত দুইজনের মৃত্যু হয়েছে আর ২০ জন বা তারও বেশি নিখোঁজ রয়েছেন।
দেশটির জাতীয় উদ্যান বিভাগ জানিয়েছে, ৬২ জনেরও বেশি হাইকারকে হেলিকপ্টারযোগে উদ্ধার করা হয়েছে।
ভারি বষ্টির পর স্থানীয় সময় শনিবার দুপুরে ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যানিয়ন এবং ফ্যান্টম র্যাঞ্চ সংলগ্ন এলাকায় এই প্লাবনের ঘটনা ঘটে।
রয়টার্স জানিয়েছে, পাহাড়ি কাদা, পাথর ও উপড়ে পড়া ধ্বংসাবশেষের তীব্র তোড়ে ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্রিক প্লাবিত হয়ে ক্যানিয়নের ট্রেইল, পায়ে হাঁটার সেতু ও পার্কের একাধিক অবকাঠামো ভেসে গেছে।
সোমবার ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস (এনপিএস) নিশ্চিত করেছে, ক্যানিয়নের তলদেশে অভিযান চালিয়ে দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রোববার ৪৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মরদেহ পাওয়া যায়।
আকস্মিক প্লাবনে এলাকাটি লন্ডভন্ড হয়ে যাওয়ায় এখনও ঠিক কতজন নিখোঁজ রয়েছেন, তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি।
পার্ক সার্ভিস জানায়, ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্রিক ও কোলরাডো নদীর সংযোগস্থলের কাছের ঐতিহাসিক রিসোর্ট ফ্যান্টম র্যাঞ্চ এবং আশপাশের ট্রেইল এলাকা থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত ৬২ জন হাইকারকে হেলিকপ্টারে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
হড়পা বানের তোড়ে ক্যানিয়নের ভেতরের মূল পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ‘ট্রান্সক্যানিয়ন ওয়াটারলাইন’ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এতে পার্কে বিশুদ্ধ পানির সঞ্চয় কমে যাওয়ায় পানি ব্যবহারে কঠোর সাময়িক বিধিনিষেধ জারি করেছে পার্ক কর্তৃপক্ষ।
সামনে আরও বজ্রঝড় ও ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকায় পার্কের জনপ্রিয় ‘সাউথ রিম’ এলাকা দিনে খোলা থাকলেও রাতে এর অবকাশ কেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। পর্যটকদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ডেভিড গ্রেগরি নামের এক পর্যটক সিবিএস নিউজকে বলেন, পার্ক রেঞ্জারের সতর্কবার্তায় তারা তড়িঘড়ি করে একটি পায়ে হাঁটার সেতু পেরিয়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নেন। তারা পার হওয়ার মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় সেতুটি পানির তোড়ে ভেসে যায়।
সেই মুহূর্তের ভয়াল রূপ তুলে ধরে তিনি বলেন, “ভেসে আসা কাঠের ছোট ছোট ঘর আর নানা কিছু নিয়ে সেখানে পানিতে এক প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণির সৃষ্টি হয়েছিল। রেঞ্জার সময়মতো পরিস্থিতি সামলে না নিলে আমাদের আর বেঁচে ফেরা হতো না, ওখানেই সব শেষ হয়ে যেত।”
বন্যায় আটকে পড়া পর্যটকদের মধ্যে ছিলেন অ্যারিজোনা থেকে নির্বাচিত মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য ডেভিড শোয়াইকার্টও।
বন্ধুদের নিয়ে রাফটিং করার মুহূর্তের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, “হঠাৎ একটা বিকট গর্জন শুনলাম। মনে হচ্ছিল যেন একসঙ্গে কয়েকটি রেলের ইঞ্জিন ধেয়ে আসছে আর বিশালাকার পাথরগুলোকে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে।”
পরে পাহাড়ে উঠে তার দলটি আত্মরক্ষা করতে সক্ষম হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় জাতীয় উদ্যানগুলোর অন্যতম হলো এই গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন। গত বছর প্রায় ৪৪ লাখ পর্যটক বিশ্বখ্যাত এই প্রাকৃতিক স্থানটি দেখতে গিয়েছিলেন।