Published : 15 Aug 2026, 03:29 PM
গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ ওঠার পর চলতি মাসের শুরুতে পদত্যাগ করা কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জ্যাসন আরডেকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে।
রয়টার্স লিখেছে, ৪১ বছর বয়সি জ্যাসন আরডে ছিলেন কেমব্রিজের সর্বকনিষ্ঠ কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যাপক।
শুক্রবার দক্ষিণ লন্ডনের ব্যাটারসির একটি বাড়িতে অ্যাম্বুলেন্সকর্মীরা তাকে অচেতন অবস্থায় পান।
লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ এক বিবৃতিতে বলেছে, “অধ্যাপক আরডেকে ঘটনাস্থলে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। তার স্বজনরা খবর দিয়েছিল এবং পুলিশ সহায়তা করেছে।”
“এ সময় তার মৃত্যুকে অপ্রত্যাশিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। কিন্তু সন্দেহজনক মনে করা হচ্ছে না। ঘটনার তদন্ত চলছে,” বলেছে পুলিশ।
২০২২ সালে কেমব্রিজের শিক্ষা অনুষদে জ্যাসন আরডের নিয়োগ এবং পদত্যাগের আগ পর্যন্ত সেখানে তার দায়িত্ব পালনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চলতি সপ্তাহের শুরুতে তদন্ত করার ঘোষণা দিয়েছিল।
গণমাধ্যমে নিয়মিত উপস্থিত থাকা এই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে তার ২০১৫ সালের পিএইচডি অভিসন্দর্ভের কিছু অংশ অন্যের লেখা থেকে নিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে, যদিও তিনি তা অস্বীকার করেছিলেন।
পরে শিক্ষা সংক্রান্ত তার অন্য কাজেও অসঙ্গতির অভিযোগ ওঠে। এছাড়া তার কর্মজীবন, ব্যক্তিগত জীবন ও চিকিৎসাসংক্রান্ত কিছু বিষয় নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
কেমব্রিজের উপাচার্য ডেবোরাহ প্রেন্টিস এক বিবৃতিতে বলেছেন, “এই মর্মান্তিক খবর শুনে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। এমন কঠিন সময়ে জ্যাসন আরডের পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা।”
ব্রিটেনের শিক্ষামন্ত্রী লুসি পাওয়েলও অধ্যাপক আরডেরি মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।
আরডের পরিবার বলছে, তারা এই ঘটনায় হতবাক।
তার প্রকাশক সাইমন অ্যান্ড শুস্টার ইউকে এর দেওয়া এক বিবৃতিতে পরিবার বলেছে, “ভুল তথ্য ছড়ানোর প্রচারণা জ্যাসনের জন্য অনেক বেশি হয়ে গিয়েছিল। তিনি ছিলেন একজন কোমল স্বভাবের মানুষ, যিনি সবসময় সবার মধ্যে ভালোটা দেখতে চাইতেন।”
পরিবারটি বলেছে, “এই মুহূর্তে আমরা আর কোনো মন্তব্য করতে চাই না। শুধু সংবাদমাধ্যমকে আমাদের একা থাকতে এবং দীর্ঘদিন ধরে জ্যাসন ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে যে হয়রানির প্রচারণা চালানো হয়েছে, তা বন্ধ করতে অনুরোধ করছি।”