Published : 11 Nov 2025, 10:08 PM
‘সন্ত্রাসীদেরকে’ মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিধান চালুর পথে হাঁটছে ইসরায়েল। এ সংক্রান্ত বিল ইসরায়েলের পার্লামেন্টে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপিত হওয়ার প্রথম ধাপেই (ফার্স্ট রিডিং) অনুমোদন পেয়েছে।
সোমবার ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে বিলটি উত্থাপন করেন কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গাভির। ১২০ সদস্যের নেসেটে বিলের পক্ষে ৩৯ ভোট এবং বিপক্ষে ১৬ ভোট পড়ায় প্রথম পাঠে বিলটি পাস হয়েছে।
এর ফলে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের সমর্থন এ উদ্যোগের পক্ষে রয়েছে বলেই ইঙ্গিত মিলেছে। তবে বিলটি আইনে পরিণত হতে হলে দ্বিতীয় ও তৃতীয় পাঠেও এটি পাস হতে হবে।
আল-জাজিরা জানায়, বিলটির খসড়ায় বলা হয়েছে, “যারা জাতিগত ঘৃণা-বিদ্বেষ থেকে এবং ইসরায়েল রাষ্ট্র বা ইহুদি জনগণের পনুরুজ্জীবনের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে ইসরায়েলিদেরকে হত্যা করবে, তাদের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড প্রযোজ্য হবে।”
তবে সমালোচকরা বলছেন, বিলের ভাষা এমনভাবে লেখা হয়েছে যে, এটি কার্যত ইহুদিদেরকে হত্যার দায়ে কেবলমাত্র ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধেই প্রযোজ্য হবে, ইসরায়েলি চরমপন্থিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না, যারা ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালায়।
অতীতে পার্লামেন্টে এই ধরনের বিল আনার চেষ্টা কয়েকবার ব্যর্থ হয়েছে। এবার বিলটি প্রথম ধাপেই উতরে যাওয়ায় নিরাপত্তামন্ত্রী বেন-গভির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, তার ইহুদি পাওয়ার পার্টি ‘ইতিহাস গড়ছে’
ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ আইনের লক্ষ্য হল “সন্ত্রাসবাদের মূলোৎপাটন করা এবং কঠোর শাস্তির ভয় তৈরি করা।”
মানবাধিকার সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের বিল পাসের উদ্যোগের বিরোধিতা করছে। তারা বলছে, এটি বিশেষত ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে এবং এতে বৈষম্য আরও বাড়বে।
ইসরায়েলে কিছু অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকলেও ১৯৬২ সালে নাৎসি হলোকাস্টের ঘটনায় অপরাধী আইখমান-এর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর দেশটি কার্যত মৃত্যুদণ্ড বিলুপ্ত করেছে।
ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী গোষ্ঠী হামাসের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে গতমাসে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার আওতায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চলছে। তার মধ্যেই ইসরায়েলের পার্লামেন্টে মৃত্যুদণ্ডের বিলটি নিয়ে ভোট হল।
ইসরায়েল গাজায় হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে অধিকৃত পশ্চিম তীরেও ইসরায়েলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় ফিলিস্তিনিদের মৃত্যু ঘটছে প্রায়ই।
ওদিকে ইসরায়েল অভিযোগ করে বলছে, হামাস যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করছে এবং গাজায় ইসরায়েলি সেনাদের জন্য হুমকি হয়ে আছে।
ইসরায়েলের পার্লামেন্টে ‘সন্ত্রাসীদের মৃত্যুদণ্ড’ বিল পাসের প্রতিক্রিয়ায় হামাস বলেছে, এই বিল “দুবৃত্ত জায়নবাদী দখলদ্বারদের ঘৃণ্য ফ্যাসিবাদী চেহারার প্রতিচ্ছবি” এবং “আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।”
ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র ও প্রবাস বিষয়ক মন্ত্রণালয়ও প্রস্তাবিত বিলটিকে বলেছে “ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান চরমপন্থা ও অপরাধপ্রবণতার নতুন রূপ।”
ইসরায়েলের কারাগারে বর্তমানে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি বন্দি আছে, যাদের মধ্যে আছে নারী ও শিশুও।
ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এসব বন্দি নির্যাতন, অনাহার ও চিকিৎসা-অবহেলার শিকার। এর ফলে বহু বন্দির মৃত্যু ঘটেছে।