১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

জেনিভা বৈঠকের পর শান্তি পরিকল্পনায় অগ্রগতির আভাস যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেইনের

রুবিও বলেছেন, পরিকল্পনাটিতে ‘আরও কিছু কাজ বাকি আছে’; আর জেলেনস্কি জানান, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দল যে তাদের কথা শুনছে তার ‘সঙ্কেত মিলেছে’।

জেনিভা বৈঠকের পর শান্তি পরিকল্পনায় অগ্রগতির আভাস যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেইনের
জেনিভায় ইউক্রেইন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার মধ্যেও রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রয়েছে। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 24 Nov 2025, 02:12 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:10 PM

সুইজারল্যান্ডের জেনিভায় বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেইনে জানিয়েছে, তাদের আলোচকরা শান্তি পরিকল্পনার ‘হালনাগাদ ও পরিমার্জিত কাঠামো’ তৈরি করেছেন এবং সামনের দিনগুলোতে ওই পরিকল্পনা নিয়ে আরও ‘নিবিড়’ কাজ অব্যাহত থাকবে।

তাদের যৌথ বিবৃতিতে জেনিভায় যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা ‘খুবই ফলপ্রসূ’ হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইউক্রেইনের সঙ্গে আলোচনায় শান্তি পরিকল্পনাটি আরও নিঁখুত করে তোলার ক্ষেত্রে ‘অসাধারণ অগ্রগতি’ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন।

মার্কিন এ শান্তি পরিকল্পনাকে রাশিয়া সতর্কতার সঙ্গে স্বাগত জানিয়েছে, কিন্তু কিইভের নেতারা ও ইউরোপ একে রাশিয়ার প্রতি ‘বেশি পক্ষপাতদুষ্ট’ মনে করছে, বলছে বিবিসি। 

রুবিও বলেছেন, পরিকল্পনাটিতে ‘আরও কিছু কাজ বাকি আছে’; অন্যদিকে ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দল যে তাদের কথা শুনছে তার ‘সঙ্কেত মিলেছে’। 

রোববার পরের দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রুবিও বলেছেন, তাদের আলোচক দল জেনিভায় ‘খুবই ভালো দিন’ কাটিয়েছে।  

আলোচনার মূল উদ্দেশ্য ছিল ২৮ দফার পরিকল্পনার ‘অসম্পূর্ণ অংশ’ কমিয়ে আনা, তাতে ‘উল্লেখযোগ্য মাত্রার’ অগ্রগতি হয়েছে, বলছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। 

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এ শীর্ষ কূটনীতিক স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, পরিকল্পনা তখনই চূড়ান্ত হবে যখন তাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট একমত হবেন, এরপরই তা রাশিয়াকে দেওয়া হবে। 

ইউক্রেইনের সঙ্গে এখনও কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা বাকি আছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ট্রাম্প রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টায় ইউক্রেইনের নেতারা ‘কোনো ধরনের কৃতজ্ঞতা দেখাচ্ছেন না’ বলে অভিযোগ তুলেছিলেন। 

তার এ বক্তব্যের কিছু সময় পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেইনের নেতারা তাদের বৈঠকে ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ হওয়ার কথা বলা শুরু করেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট কিইভের অনুগত মিত্র ইউরোপের দিকেও আঙুল তোলেন। বলেন, তারা এখনও রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা অব্যাহত রেখেছে। ইউক্রেইন যুদ্ধের খরচ যোগাতে মস্কো তেল ও গ্যাস রপ্তানির ওপর অনেকাংশেই নির্ভরশীল।

বেশ কয়েকটি পশ্চিমা গণমাধ্যম বলছে, তারা যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির নেতৃত্বে কিইভের ইউরোপীয় মিত্রদের একটি বিকল্প পরিকল্পনাও দেখেছে। বিবিসি এ সংক্রান্ত কোনো নথি দেখেনি। রুবিও বলেছেন, তিনিও এমন কোনো পরিকল্পনার অস্তিত্বের কথা জানেন না।

যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত খসড়া পরিকল্পনার পুরোটা এখন পর্যন্ত কোথাও ছাপা না হলেও এর গুরুত্বপূর্ণ অনেক কিছুই সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বাইরে চলে এসেছে।  

পরিকল্পনার যেসব প্রস্তাব নিয়ে বিতর্ক চলছে, তার মধ্যে আছে- ইউক্রেইনকে তাদের পূর্বাঞ্চলের দোনেৎস্কের যেসব জায়গা এখনও তাদের নিয়ন্ত্রণে আছে তা ছেড়ে দিতে হবে। দোনেৎস্ক, তার পাশের লুহানস্ক অঞ্চল এবং ২০১৪ সালে মস্কোর দখলে যাওয়া ক্রাইমিয়ার ওপর রাশিয়ার কর্তৃত্ব আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকার করে নিতে হবে। 

পরিকল্পনায় ইউক্রেইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন ও জাপোরিঝিয়ায় এখন যতখানি যার দখলে আছে তা সেভাবে রেখেই যুদ্ধ থামানোর কথা বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি ইউক্রেইনকে তাদের সামরিক বাহিনীর সদস্যসংখ্যা এখনকার ৮ লাখ ৮০ হাজার থেকে কমিয়ে ৬ লাখের মধ্যে রাখতেও রাজি হতে হবে।  

খসড়ায় কিইভকে নেটোতে যোগ না দেওয়ার অঙ্গীকারের বিনিময়ে ‘নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তা’ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে, তবে এ সম্বন্ধে বিস্তারিত কিছু সেখানে বলা হয়নি।

নথিতে আরও বলা হয়েছে, রাশিয়া ভবিষ্যতে তার প্রতিবেশীদের ওপর আক্রমণ চালাবে না বলে ‘প্রত্যাশা করা হচ্ছে’ এবং নেটোও আর বিস্তৃত হবে না।

বিশ্বের প্রভাবশালী অর্থনীতির ক্লাব জি৭-এ রাশিয়াকে পুনর্বার যুক্ত হওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়ে এবং তাদের ওপর থাকা সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে মস্কোকে ‘বিশ্ব অর্থনীতিতে পুনরায় যুক্ত করার’ ইঙ্গিতও খসড়ায় রয়েছে। 

ট্রাম্প প্রথমে ইউক্রেইনকে এ সপ্তাহের বৃহস্পতিবারের মধ্যেই শান্তি পরিকল্পনায় রাজি হতে সময় বেঁধে দেন। তবে পরে ইউক্রেইনের মিত্রদের উদ্বেগের মুখে তিনি বলেন, খসড়ায় যা যা আছে তার সবই ‘চূড়ান্ত প্রস্তাব’ নয়।

রুবিও পরে রোববার সাংবাদিকদের বলেন, শিগগিরই পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত হবে বলে তিনি আশা করছেন। এক্ষেত্রে বৃহস্পতিবার, না অন্য কোনো দিন, নাকি পরের সপ্তাহের সোমবার তা গুরুত্বপূর্ণ নয়।