Published : 15 Aug 2026, 09:48 PM
ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ৪৭ জনের মৃত্যু ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার দিনটিতেই দেশটির উত্তর সূমাত্রা প্রদেশে ৬ দশমিক ৪ মাত্রার আরেকটি শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছে।
দেশটির আবহাওয়া সংস্থা বিএমকেজির বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পে কোনো সুনামির হুমকি তৈরি হয়নি আর তাৎক্ষণিভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা পরাঘাতের কোনো খবর হয়নি।
এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তি ভূপৃষ্ঠের ১৬৮ কিলোমিটার গভীরে আর এর উপকেন্দ্র সিমালুঙ্গুন শহর থেকে ১৬৮ কিলোমিটার দক্ষিপূর্বে স্থলে।
বিএমকেজি জানিয়েছে, তেবিং তিনগি, কাবানিয়াহে ও লিমাপুলুহুর বাসিন্দারা ভূমিকম্পটি অনুভব করেছেন।
বিবিসি জানিয়েছে, শনিবার ভোরে পূর্ব ইন্দোনেশিয়ায় হওয়া ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ৪৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া আটকা পড়েছেন বহু মানুষ।
তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে সরকারিভাবে প্রকাশিত মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (বিএনপিবি) জানিয়েছে, বেশ কিছু মানুষ বিভিন্ন মাত্রায় জখম হয়েছেন।
পূর্ব নুসা তেনগারার ফ্লোরেস দ্বীপে স্থানীয় সময় ভোর ৫টার একটু আগে ব্যাপক শক্তিশালী ভূমিকম্পটি হয়। এটির উৎপত্তি ভূপৃষ্ঠের ১৫ কিলোমিটার গভীরে, জানিয়েছে বিএমকেজি ও দেশটির জিওফিজিক্স সংস্থা।
ভূমিকম্পে ওই অঞ্চলের কয়েকশ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আর এ পর্যন্ত বহু পরাঘাত অনুভূত হয়েছে।
একটি ভূমিকম্পের উৎপত্তি যত কম গভীরে হয়, এর প্রভাব ততো বেশি ধ্বংসাত্মক হয়। পূর্বাঞ্চলের এ ভূমিকম্পে যতগুলো পরাঘাত অনুভূত হয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালীটি ৬ দশমিক ১ মাত্রার ছিল।
পূর্ব নুসা তেনগারার মাউমেরে বন্দরে ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, বন্দরের টার্মিনাল ভবন থেকে কংক্রিটের একটি বড় খণ্ড আন্ত-দ্বীপ ফেরির জন্য অপেক্ষা করে থাকা যাত্রীদের ওপর পড়ছে। ওই কংক্রিটের আঘাতে একটি ফেরিতে ওঠার পথ ভেঙে কিছু যাত্রী সাগরে পড়ে যান।
তিনটি বড় টেকটোনিক প্লেটের মিলনস্থলে অবস্থিত হওয়ায় ইন্দোনেশিয়া ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদ্গীরণ প্রবণ দেশ।