১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

নথিপত্রহীন পাঁচ লাখ অভিবাসীকে বৈধ করার পরিকল্পনা জানাল স্পেন

নতুন নিয়মে যেসব বিদেশি নাগরিকের কোনও অপরাধমূলক রেকর্ড নেই এবং যারা ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে অন্তত পাঁচ মাস স্পেনে বাস করেছেন, তারা বৈধতার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

নথিপত্রহীন পাঁচ লাখ অভিবাসীকে বৈধ করার পরিকল্পনা জানাল স্পেন
স্পেনের একটি দোকানে একটি টি-শার্ট বিক্রির আগে হাতে তুলে দেখাচ্ছেন এক অভিবাসী। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Jan 2026, 09:43 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:48 PM

ইউরোপজুড়ে অভিবাসন এবং সীমান্তে কড়াকড়ির প্রবণতা বাড়ার মধ্যেই স্রোতের বিপরীতে হেঁটে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্পেন সরকার। অন্তত ৫ লাখ নথিপত্রহীন অভিবাসীকে বৈধতা দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার।

মঙ্গলবার এক রয়্যাল ডিক্রিবলে এই পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে স্পেন সরকার পার্লামেন্টকে পাশ কাটিয়ে পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবে। পার্লামেন্টে স্যোশালিস্ট-নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় পরিকল্পনাটি বিরোধীদের তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়ার আশঙ্কা ছিল।

স্পেনের অভিবাসন মন্ত্রী এলমা সাইজ মঙ্গলবার দিনটিকে ‘ঐতিহাসিক’ অভিহিত করে বলেন, “আমরা মানবাধিকার, সংহতি ও সহাবস্থানের ভিত্তিতে একটি অভিবাসন মডেল তৈরি করছি, যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক সংহতির সঙ্গে মানানসই।”

দুই দশকের মধ্যে স্পেনে ব্যাপক মাত্রায় অভিবাসীদের বৈধতা দেওয়ার পদক্ষেপ এটিই প্রথম।

কারা পাবেন এই সুবিধা? 

নতুন নিয়মে, যেসব বিদেশি নাগরিকের কোনও অপরাধমূলক রেকর্ড নেই এবং যারা ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে অন্তত পাঁচ মাস স্পেনে বাস করার প্রমাণ দেখাতে পারবেন, তারা বৈধতার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনকারীদেরকে প্রাথমিকভাবে এক বছরের অস্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়া হবে, যার মেয়াদ পরে বাড়ানো যাবে। এই প্রক্রিয়ার জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হবে আগামী এপ্রিলে এবং জুন মাস পর্যন্ত এই সুযোগ থাকবে। 

এই সময়ে আবেদনকারীরা দেশটির যেকোনও জায়গায় যে কোনও খাতে কাজ করতে পারবেন। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ অভিবাসীদেরকে ‘সম্পদ, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির প্রতীক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। 

ইউরোপের অন্যান্য বড় অর্থনীতির দেশগুলোর অভিবাসন নিয়ে কড়াকড়ির মধ্যে স্পেনের এই বিপরীত পথে হাাঁটার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করেছে, দেশটির অর্থনীতিতে অভিবাসীদের অবদান।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী বারবারই যুক্তি দিয়ে আসছেন যে, অভিবাসনের কারণেই স্পেনের অর্থনৈতিক অর্জন গতি পাচ্ছে। সম্প্রতি কয়েক বছরে ইইউ এর অন্যান্য দেশগুলোর চেয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এগিয়ে গেছে স্পেন।

মঙ্গলবার প্রকাশিত দেশটির সরকারি তথ্যে দেখা গেছে, ২০০৮ সালের পর এই প্রথম স্পেনে বেকারত্বের হার ১০ শতাংশের নিচে (৯.৯৩%) নেমে এসেছে। ২০২৫ সালে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ৩ শতাংশ হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্পেনে অভিবাসী মানুষের সংখ্যাও বেড়েছে। এদের বেশির ভাগই এসেছে ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলো থেকে।

থিংক-ট্যাঙ্ক ‘ফুনকাস’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে স্পেনে নথিপত্রহীন অভিবাসীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৭ হাজার, যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৪০ হাজারে। 

স্পেনে বর্তমানে নথিপত্রহীন অভিবাসী হিসাবে যারা বাস করছে, তাদের অধিকাংশই কলম্বিয়া, পেরু ও হন্ডুরাস থেকে আসা বলে ধারণা করা হয়। তবে এই অভিবাসীদেরকে বৈধতা দেওয়ার সরকারের পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছে বিরোধী দলগুলো। 

রক্ষণশীল পিপলস পার্টির (পিপি) নেতা আলবার্তো নুনিয়েজ ফেইজো বলেন, এই গণ-বৈধতা মূলত ‘অবৈধ অভিবাসনকে পুরস্কৃত করা’ এবং এটি জনসেবামূলক খাতগুলোর ওপর চাপ বাড়াবে। 

অন্যদিকে অতি-ডানপন্থি দল ‘ভক্স’ এই উদ্যোগকে জাতীয় পরিচয়ের ওপর আঘাত অভিহিত করে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে বামপন্থি দলগুলোর দাবি, অভিবাসীদের অধিকার নিশ্চিত করাই বর্ণবাদ প্রতিরোধের প্রধান উপায়। 

২০ বছর পর নেওয়া এই পদক্ষেপের ফলে কয়েক লাখ মানুষ এখন ছায়া অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে এসে কর ও সামাজিক নিরাপত্তা ফি প্রদানের মাধ্যমে মূল অর্থনীতিতে অবদান রাখার সুযোগ পাবে।