০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

জার্মানিতে জেন-জি নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ থেকে সহিংসতা, লুটপাট

চলতি বছর ইউরোপজুড়ে দেখা দেওয়া জেন-জি নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের ঢেউ এবার জার্মানিতেও ছড়িয়েছে।

জার্মানিতে জেন-জি নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ থেকে সহিংসতা, লুটপাট

জার্মানির বার্লিনে জেন-জি নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 01 Nov 2026, 09:44 AM

Updated : 01 Nov 2026, 10:21 AM

জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং উন্নত শিক্ষার দাবিতে শনিবার জার্মানির বড় শহরগুলোতে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। এ দিন হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। প্রতিবাদ থেকে সহিংসতা ও লুটপাটের মতো ঘটনাও ঘটেছে।

রাতে ফ্ৰাংকফুট শহরে হুডি পরা দাঙ্গাকারীরা দোকানপাটে লুটপাট চালায়।

চলতি বছর ইউরোপজুড়ে দেখা দেওয়া জেন-জি নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের ঢেউ এবার জার্মানিতেও ছড়িয়েছে। সার্বিয়ায় শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন আন্দোলন ভোটের মাধ্যমে দেশটির দীর্ঘদিনের শাসককে ক্ষমতাচ্যুত করতে সাহায্য করেছে। অন্যদিকে ফ্রান্সে জীবনমানে অসন্তুষ্ট তরুণ ও নাগরিকদের বিক্ষোভ দাঙ্গা ও লুটপাটে রূপ নিয়েছে।

জার্মানিতে প্রতিবাদ কর্মসূচীর আয়োজন করে ‘জেন-জি রেগেল্ট’ নামের একটি গোষ্ঠী। জার্মান ভাষায় ‘জেন-জি রেগেল্ট’ এর অর্থ ‘জেন জি দায়িত্ব নিচ্ছে’। বার্লিন, ফ্রাংকফুট ও মিউনিখসহ দেশটির ৩৪টি শহরে বিক্ষোভ হয়।

‘জেন-জি রেগেল্ট’ জানিয়েছে, তারা বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবা বিরোধিতা করে এবং শিক্ষাক্ষেত্রে আরও বেশি বিনিয়োগ চায়, যেহেতু অনেক জার্মান তরুণ ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের কারণে হিমশিম খাচ্ছে।

রয়টার্সের এক প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকের তথ্য অনুযায়ী, জার্মানির আর্থিক কেন্দ্র ফ্রাংকফুটে প্রতিবাদকারীরা সহিংস হয়ে ওঠার পর অন্তত দুটি দোকান লুট হয়, আরও বেশ কয়েকটি দোকানে ভাংচুর চালানো হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।

এক্সে ফ্রাংকফুট পুলিশ বলেছে, “সহিংস বিশৃঙ্খলা চলছে। নগরীর কেন্দ্রস্থলে বেশ কয়েকটি দোকানের জানালা ভেঙে ফেলা হয়েছে। জরুরি পরিষেবার দিকে মলোটোভ ককটেলও ছোড়া হয়েছে। আমরা সব পথচারীকে শহরের কেন্দ্রস্থল এড়িয়ে চলতে অথবা এলাকাটি ত্যাগ করার আহ্বান জানাচ্ছি।”

বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদ মিছিলগুলোতে সংগঠকদের প্রাথমিকভাবে আশা করা ১ লাখ ৮২ হাজারেরও কম মানুষ অংশ নিয়েছে বলে সরকারি ভাষ্যে জানানো হয়েছে।

ফ্রাংকফুট, মিউনিখ ও বার্লিনের পুলিশ জানিয়েছে, সেখানে প্রায় ১৮ হাজার বিক্ষোভকারী প্রতিবাদ অংশ নিয়েছে। সংগঠকদের ওয়েবসাইটে এ তিন শহরে প্রায় ৩৬ হাজার মানুষ প্রতিবাদে অংশ নিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

জার্মানির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হ্যালোইন উৎসবের সঙ্গে মিলে যাওয়া শনিবারের বিক্ষোভগুলো মূলত শান্তিপূর্ণ ছিল। তবে তারা সতর্ক করে দিয়েছে, চরমপন্থি গোষ্ঠীগুলো এই আন্দোলনকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।

হামবুর্গে কিছু ব্যারিকেডে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়।

শনিবার বার্লিনে ‘জেন জি রেগেল্ট’ এর মুখপাত্র লিনা ফ্রিডরিখ বলেন, “আমরা আজ এখানে যুদ্ধ ও জবরদস্তির পরিবর্তে শান্তি ও স্বাধীনতার জন্য লড়াই করতে এসেছি। আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য উন্নত সহায়তা। আমরা বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার বিপক্ষে এবং দায়িত্বের বোঝা আরও ন্যায়সঙ্গতভাবে বন্টনের পক্ষে।”