১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

থাইল্যান্ডে স্কুলে গুলির ঘটনার পর এবার সরকারি কার্যালয়ে বন্দুকধারীর হামলা

বন্দুকধারী সাবেক আইনপ্রণেতা চালং রিউরাং ধার দেওয়া অর্থ ফেরত নিয়ে বিরোধের জেরে ননথাবুরি প্রাদেশিক প্রশাসনিক সংগঠনের চেয়ারম্যানকে লক্ষ্য করে গুলি চালান।

থাইল্যান্ডে স্কুলে গুলির ঘটনার পর এবার সরকারি কার্যালয়ে বন্দুকধারীর হামলা
ঘটনাস্থল খতিয়ে দেখছেন এক ফরেনসিক পুলিশ কর্মকর্তা। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 10 Aug 2026, 06:22 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:49 PM

থাইল্যান্ডে স্কুলে এক কিশোরের নির্বিচার গুলির ঘটনার রেশ না কাটতেই রাজধানী ব্যাংককের উপকণ্ঠে একটি স্থানীয় সরকারি কার্যালয়ে ঢুকে একজন কর্মকর্তাকে হত্যা করেছে এক বন্দুকধারী। 

সোমবার ননথাবুরি প্রদেশের কার্যালয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। পুলিশ জানায়, আততায়ী সাবেক আইনপ্রণেতা চালং রিউরাং ধার দেওয়া অর্থ ফেরত নিয়ে বিরোধের জেরে ননথাবুরি প্রাদেশিক প্রশাসনিক সংগঠনের চেয়ারম্যানকে লক্ষ্য করে গুলি চালান।

পুলিশ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াত্তানা ইজিন সাংবাদিকদের বলেন, “হত্যাকাণ্ডের পেছনে ব্যক্তিগত শত্রুতা কাজ করেছে।” 

হামলার ঘটনায় ওই কর্মকর্তার গাড়িচালকও আহত হয়েছেন, তবে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়। ফরা নাং ক্লাও হাসপাতালের পরিচালক ড. সাকল সুকপ্রোম জানান, গুলিবিদ্ধ প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

পুলিশ হেফাজতে চালং দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা বিরোধ মেটাতে তিনি ওই কর্মকর্তার মুখোমুখি হয়েছিলেন, কিন্তু তিনি কথা বলতে রাজি হননি।

চালং বলেন, “তিনি (চেয়ারম্যান) যখন গাড়ি চালিয়ে চলে যাচ্ছিলেন, তখন একটি পিস্তল বের করেন। তাই আমি গুলি চালাই।” তবে নিহত কর্মকর্তা সশস্ত্র ছিলেন কি না, সে বিষয়ে পুলিশ কিছু জানায়নি।

এর আগে গত শুক্রবার ননথাবুরি প্রদেশে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর প্রথমে নিজের বাড়িতে এবং পরে ‘দেবাসিরিন ননথাবুরি স্কুলে’ হামলা চালায়। বন্দুকধারী কিশোরসহ ৯ জন নিহত এবং ২০ জনেরও বেশি আহত হওয়ার ঘটনাটি ছিল বিগত প্রায় চার বছরের মধ্যে থাইল্যান্ডে সবচেয়ে প্রাণঘাতী বন্দুক হামলা।

উইকেন্ডের ছুটির পর সোমবার সকালে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে ফিরলে ব্যাংককে দেবাসিরিন স্কুলের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানে মেটাল ডিটেক্টর বসিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। থিদারাথ সোংরাত নামে ৫৪ বছর বয়সী এক অভিভাবক বলেন, “শিক্ষার্থীরা বিপজ্জনক কিছু বহন করছে কি না তা নিশ্চিত হতে মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহারের বিকল্প নেই।”

স্কুল পরিচালক ভিথান প্রমসিন্তুসাক বলেন, “যে বিদ্যালয়টি শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ স্থান হওয়ার কথা, সেখানে এমন কিছু ঘটতে পারে তা আমরা ভাবতেও পারিনি।”

ঘটনার পর থাইল্যান্ডের শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী তিন মাসের মধ্যে বিদ্যালয়গুলোতে নতুন নিরাপত্তা প্রোটোকল তৈরি করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার ড্রিল, বুলিং বন্ধের পদক্ষেপ এবং অস্ত্র ও নিষিদ্ধ সামগ্রী শনাক্তকরণের ব্যবস্থা।

স্কুলে হামলার পরই দেশে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোর করার ঘোষণা দিয়েছেন থাই প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল। প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে চলাফেরা করা রোধে পুলিশকে তল্লাশি চৌকি বসানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী অনুতিন সাংবাদিকদের বলেন, “প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে ঘোরার অধিকার কারও নেই। আত্মরক্ষার অজুহাত দিয়েও অস্ত্র বহন সমর্থন করা যায় না।”

গবেষণা সংস্থা ‘স্মল আর্মস সার্ভে’-এর ২০১৭ সালের হিসাব অনুযায়ী, থাইল্যান্ডের সাধারণ নাগরিকদের হাতে আনুমানিক ১ কোটি ৩ লাখ আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। প্রতি ১০০ জন বাসিন্দার বিপরীতে অস্ত্রের সংখ্যা প্রায় ১৫টি, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশটির বর্তমান লাইসেন্স ব্যবস্থার বড় ঘাটতি হল, অস্ত্রের আবেদনকারীর মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার নিয়ম নেই, ২০ বছর বয়সীরাও অস্ত্র পেতে পারে এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর লাইসেন্স পুনর্বিবেচনার বাধ্যবাধকতা নেই।