Published : 20 Jul 2025, 08:39 PM
জাপানের ক্ষমতাসীন জোট উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে পারে বলে একাধিক বুধফেরত জরিপে আভাস পাওয়া গেছে।
এমন ফল হলে এশিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী অর্থনীতির দেশটি এমন এক সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতায় পতিত হবে যখন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা শুল্ক কার্যকরের সময় দ্রুত ঘনিয়ে আসছে।
রোববারের নির্বাচনের ফলে প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সংখ্যালঘু সরকারের পতন হয়তো হবে না, কিন্তু সরকারপ্রধানের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করবে। ইশিবা গত অক্টোবরেই পার্লামেন্টের প্রভাবশালী নিম্নকক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলেন।
২৪৮ আসনের উচ্চকক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে তার লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও জোট শরিক কোমিতোর রোববারের নির্বাচনে ৫০টি আসন দরকার; এদিন এই কক্ষের মোট আসনের অর্ধেক, অর্থ্যাৎ ১২৪টি আসনে ভোট হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে-র বুথফেরত জরিপ বলছে, ভোট হওয়া আসনগুলোর মধ্যে ৩২ থেকে ৫১টিতে জিততে পারে ক্ষমতাসীনরা।
তবে অন্য সম্প্রচারমাধ্যমগুলোর জরিপ বলছে, ক্ষমতাসীন সংখ্যালঘু জোট সরকারের ব্যাগে ঢুকতে পারে ৪১ থেকে ৪৩টি আসন। এলডিপি ও কোমিতোর জোট যদি এবার ৪৬টির কম আসন পায়, তাহলে এটি হবে ১৯৯৯ সালে গঠিত হওয়ার পর জোটের সবচেয়ে বাজে ফল।
অক্টোবরে নিম্নকক্ষের নির্বাচনেও এই জোট ১৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ফল করেছিল। এরপর থেকে ইশিবার প্রশাসন অনাস্থা ভোটের ঝুঁকিতে রয়েছে, তার নিজের দলের ভেতরও নেতৃত্ব পরিবর্তনে ব্যাপক চাপ রয়েছে।
কর কমানো ও কঠোর অভিবাসন নীতির পক্ষে বলা বিরোধী দলগুলো নির্বাচনে তুলনামূলক ভালো ফল করবে বলে বুথফেরত জরিপে দেখা যাচ্ছে। জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি, বিশেষ করে চালের দামের উল্লম্ফন ভোটারদের কাছে ছিল গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।
বিশ্বের চতুর্থ সর্বোচ্চ অর্থনীতির জন্য আরেক মাথাব্যথা হচ্ছে- যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূরক শুল্ক। তাদের হাতে ১ অগাস্ট পর্যন্ত সময় আছে, এর মধ্যে হয় ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে নয়তো টোকিওকে তাদের সর্ববৃহৎ রপ্তানি বাজারে পণ্য ঢোকাতে বড়সড় শুল্ক গুণতে হবে।
জনতুষ্টিবাদী সানসেইতো দল এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে ভালো ফল করতে যাচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে। বুথফেরত জরিপে তারা ১০-১৫টি আসন পেতে পারে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে। আগে উচ্চকক্ষে তাদের আসন ছিল মাত্র একটি।
সানসেইতোর ‘জাপানিরাই প্রথম’ প্রচার এবং বিদেশিদের ‘নীরব আগ্রাসন’ নিয়ে সাবধানবাণী তরুণ ভোটারদের মনে দাগ কেটেছে।
“আমি গ্র্যাজুয়েট স্কুলে পড়ছি, কিন্তু আমার আশপাশে কোনো জাপানি নেই। সব বিদেশি।
“যখন আমি বিদেশিদের জন্য ক্ষতিপূরণ এবং অর্থ ব্যয়ের ধরণ দেখি, তখন মনে হয় যে জাপানি মানুষকে কিছুটা অবমাননা করা হচ্ছে,” বলেছেন রোববার টোকিওর শিনজুকু ওয়ার্ডে ভোট দেওয়া ২৫ বছর বয়সী ইউ নাগাই।