২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

জনমত জরিপকে ‘ভুয়া’ বলে নিজের জনপ্রিয়তা ৬০% দাবি করলেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, দেশে তার জনসমর্থন আসলে প্রায় ৬০ শতাংশের কাছাকাছি এবং আমেরিকানদের এই বক্তব্যেই আস্থা রাখা উচিত।

জনমত জরিপকে ‘ভুয়া’ বলে নিজের জনপ্রিয়তা ৬০% দাবি করলেন ট্রাম্প

ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 26 Oct 2026, 07:59 PM

Updated : 26 Oct 2026, 07:58 PM

আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জনমত জরিপগুলোতে জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার তথ্যকে ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্পের দাবি, দেশটিতে তার জনসমর্থন আসলে প্রায় ৬০ শতাংশের কাছাকাছি এবং আমেরিকানদের এই বক্তব্যেই আস্থা রাখা উচিত।

‘দ্য ওয়াশিংটন এক্সামিনার’-এর সাংবাদিক বায়রন ইয়র্কের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকারটি শনিবার প্রকাশিত হয়েছে।

সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট ‘রিয়েলক্লিয়ারপলিটিক্স’-এর জরিপ গড় অনুযায়ী, ট্রাম্পের কাজের প্রতি ৩৮ দশমিক ৮ শতাংশ মার্কিনি সমর্থন জানালেও ৬০ দশমিক ৪ শতাংশ তা প্রত্যাখ্যান করেছেন, এমন তথ্য তুলে ধরা হলে তিনি সেটিকে সরাসরি ‘ভুয়া’ বলে মন্তব্য করেন।

প্রকৃত সমর্থন কত হতে পারে জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প দাবি করেন তার সমর্থন এর চেয়ে অনেক বেশি।

ট্রাম্প বলেন, “কাজের অনুমোদন হিসেবে তারা বলছে ৩৭ বা ৩৮ শতাংশ? আমি ৩৮-এ নেই। আমার বিশ্বাস আমাকে কেউ হারাতে পারবে না। যদি আমার প্রয়োজন হত, যা আমার নেই, আমি মনে করি তা ৬০ শতাংশ।”

নিজের দাবির সপক্ষে রিপাবলিকান ভোটার এবং ‘মাগা’ (মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন) সমর্থকদের মধ্যে নিজের শক্ত অবস্থানের কথা তুলে ধরেন ট্রাম্প। তবে জাতীয় পর্যায়ের ধারাবাহিক জরিপগুলোতে প্রেসিডেন্টের অবস্থান নিয়ে তুলনামূলক প্রতিকূল চিত্রই দেখা গেছে।

১৬ থেকে ১৯ অক্টোবর পরিচালিত রয়টার্স/ইপসোসের এক যৌথ জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৩৪ শতাংশ আমেরিকান ট্রাম্পের কাজ সমর্থন করেন এবং ৬৫ শতাংশ তা অপছন্দ করেন।

এছাড়া, ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে মাত্র ৩০ শতাংশ আমেরিকান তার কাজের অনুমোদন দিয়েছেন, যেখানে ৬৮ শতাংশই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

ওদিকে, নিউ ইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা কলেজের চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত এক যৌথ জরিপেও ট্রাম্পের কাজের অনুমোদন ৩৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

সংবাদমাধ্যমটির ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৪৬ সালে হ্যারি ট্রুম্যানের ৩৩ শতাংশের পর মধ্যবর্তী নির্বাচনের মুখে কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য এটিই সর্বনিম্ন জনসমর্থন।

জরিপ নিয়ে ট্রাম্পের এই আপত্তি এমন এক সময়ে এল, যখন একটি সামাজিক পরীক্ষার অংশ হিসেবে জরিপের মনগড়া তথ্য তৈরির কথা স্বীকার করেছে ‘ওয়েজউড রিসার্চ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান; যা নিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমসের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির বিতর্ক চলছে।

তবে নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ট্রাম্পের কাজের অনুমোদনসংক্রান্ত গড় গণনায় তারা ওই বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানের জরিপ ব্যবহার করেনি।

নিজের জনপ্রিয়তার পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে সিএনএনের প্রধান তথ্য বিশ্লেষক হ্যারি এন্টেনের বিশ্লেষণের কথা উল্লেখ করেন ট্রাম্প, যেখানে মাগা রিপাবলিকানদের মধ্যে তার সমর্থন প্রায় শতভাগ দেখানো হয়েছিল।

এন্টেন জানিয়েছিলেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনে মাগা সমর্থকদের ৯৯ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন ট্রাম্প এবং গত সেপ্টেম্বরেও তাদের মধ্যে ট্রাম্পের সমর্থন ছিল ৯৮ শতাংশ।

এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমার মনে হয় আমি জনসমর্থনে এখন ৬০-এর ঘরে থাকব। রিপাবলিকান পার্টিতে আমার অবস্থান অনেক ওপরে। তাকে ৯৯ শতাংশ পরিসংখ্যানটি দেখান। এটা কি দেখেছেন?”

তবে এন্টেন তার বিশ্লেষণে এও দেখিয়েছেন যে, মূল্যস্ফীতি ইস্যুতে ২০২৪ সালে ট্রাম্পের নিট অনুমোদন যেখানে ধনাত্মক ৮ পয়েন্ট ছিল, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তা নেমে ঋণাত্মক ৪৫ পয়েন্টে পৌঁছেছে।

চলতি সপ্তাহে রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপে ট্রাম্পের সামগ্রিক জনসমর্থন ৩১ শতাংশে নেমে যাওয়ার পর এন্টেন পরিস্থিতিটিকে ‘ফাইভ-অ্যালার্ম ট্রাম্পস্টার ফায়ার’ বা নজিরবিহীন বিপর্যয়কর পরিস্থিতি হিসেবে আখ্যা দেন। দুই মেয়াদ মিলিয়ে এটিই ট্রাম্পের সর্বনিম্ন রেটিং।

এমন প্রতিকূল পরিসংখ্যান সত্ত্বেও রিপাবলিকানদের ভেতরে নিজের শক্ত অবস্থান তুলে ধরায় সিএনএন ও এন্টেনের প্রশংসা অব্যাহত রেখে ট্রাম্প বলেন, “আমাকে নিয়ে তারা কিছু চমৎকার জরিপ করেছে, এটা বলতেই হবে। সিএনএন যদি এমন জরিপ চালিয়ে যায়, তবে তাদের প্রতি আমার ভালো লাগা আরও বাড়বে।”