Published : 24 Aug 2026, 01:02 AM
গত বছর ভারতের 'অপারেশন সিঁদুর' অভিযানে পাকিস্তানে ধ্বংস হয়েছিল জঙ্গি সংগঠন জঈশ-ই-মোহম্মদের ঘাঁটি। পাকিস্তানে পাঞ্জাবের বাহাওয়ালপুরে অবস্থিত সেই 'মারকাজ সুভান আল্লাহ' সদরদপ্তর ধ্বংসস্তুপ থেকে আবার নতুন করে গড়ে তোলা হয়েছে।
সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা ড্রোন ও স্যাটেলাইট ছবি এবং গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য হাতে পেয়ে এ খবর জানিয়েছে এনডিটিভি।
যেভাবে সাজানো হয়েছে চত্বর
গত বছর মে মাসে ভারতীয় সেনাবাহিনীর হামলায় ধুলিস্যাৎ হওয়া ক্যাম্প এখন পলিশ করা মার্বেল পাথর, রং এবং প্লাস্টার দিয়ে নতুন করে তৈরি করা হয়েছে। ধসে পড়া গম্বুজগুলো নতুন করে তৈরি করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় হলঘরের বিশাল গর্ত ভরাট করে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে।
মূল কমপ্লেক্স লাগোয়া মাদ্রাসা এবং জঈশ কমান্ডারদের থাকার কোয়ার্টারগুলোও পরিষ্কার করে নতুন নির্মাণ করা হয়েছে। স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে দপ্তরটি আবার সচল হয়েছে।
যত দ্রুততার সঙ্গে এবং যে মাত্রায় সদরদপ্তরটি পুনর্নিমিাণ করা হয়েছে তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এই কমপ্লেক্স বা স্থাপনা কোনও সাধারণ ধর্মীয় বা আবাসিক স্থান নয়।
এই দপ্তর দীর্ঘদিন ধরে জঈশ-ই-মোহম্মদ (জেইএম) এর সঙ্গে জড়িত বলে চিহ্নিত, যাকে জাতিসংঘ এবং যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
পাকিস্তানের বিপুল অর্থসাহায্য
গোয়েন্দা সূত্রের উল্লেখ করে এনডিটিভি জানিয়েছে, এই সদরদপ্তরটি পুনর্নির্মাণের জন্য পাকিস্তান সরকার জঈশ-ই-মোহম্মদকে ২৫ কোটি পাকিস্তানি রূপি নগদ কিস্তিতে দিয়েছে। এর মধ্যে কেবল কেন্দ্রীয় হলঘর পুনর্নির্মাণেই প্রায় ১১ কোটি রূপি ব্যয় হয়েছে।
খবরটি সত্য হলে বলা যায়, এই অর্থায়ন বিশ্বে ঘোষিত একটি সন্ত্রাসী সংগঠনের দপ্তরকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় সমর্থন দেওয়ার একটি বড় লক্ষণ হিসাবেই গণ্য হবে।
'অপারেশন সিঁদুর'
২০২৫ সালের ৭ মে ভারত-শাসিত কাশ্মীরের পেহেলগামে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিহতের জবাব দিতে ভারতীয় বাহিনী 'অপারেশন সিঁদুর' শুরু করেছিল। পাকিস্তান ও পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের মোট ৯টি প্রধান জঙ্গি আস্তানায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ভারত।
তারই অন্যতম লক্ষ্য ছিল আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের বাহাওয়ালপুরে অবস্থিত জঈশের ওই ১৮ একরের ঘাঁটি।
হামলার পর বহুদিন ধরে সেখানে ধ্বংসস্তূপ পড়ে থাকলেও অবশেষে গোষ্ঠীটির ক্যাম্প সেই আগের মতো করেই তৈরি করে ফেলা হয়েছে।