১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোতে পুলিশের অভিযানে নিহত ৬৪

রিওতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান সামনে রেখে পুলিশ প্রায়ই অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করে থাকে।

ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোতে পুলিশের অভিযানে নিহত ৬৪
সামরিক কায়দার এ অভিযানে বহু প্রাণহানি হওয়ায় এর সমালোচনা করেছে ব্রাজিলের কিছু সিভিল সোসাইটি গোষ্ঠী। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 29 Oct 2025, 01:04 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:33 PM

ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরো শহরে জাতিসংঘের জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলনের (সিওপি৩০) সঙ্গে সম্পর্কিত কয়েকটি আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে বড় অপরাধী দলগুলোর বিরুদ্ধে চালানো পুলিশি অভিযানে অন্তত ৬৪ জন নিহত হয়েছেন।

রয়টার্স জানিয়েছে, রিওতে গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানগুলো সামনে রেখে পুলিশ প্রায়ই অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করে থাকে। ব্রাজিলের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই শহরটি ২০১৬-র বিশ্ব অলিম্পিক, ২০২৪ সালে জি২০ শীর্ষ সম্মেলন ও চলতি বছরের জুলাইয়ে ব্রিকস সম্মেলনের আয়োজন করেছিল।     

আগামী সপ্তাহে রিওতে জলবায়ু সংকট মোকাবেলা নিয়ে বিশ্বের প্রধান শহরগুলোর মেয়রদের শীর্ষ সম্মেলন ‘সি৪০’ ও ব্রিটিশ যুবরাজ উইলিয়ামের ‘আর্থশট পুরস্কার’ প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। প্রিন্স উইলিয়ামের ওই অনুষ্ঠানে পপ তারকা কাইলি মিনোগ এবং ফর্মুলা ওয়ানের চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন সেবাস্তিয়ান ভেটেলের মতো খ্যাতিমানদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।  

পুলিশের একটি স্পেশাল অপারেশন ইউনিটের সদস্যরা বেশ কয়েকজন পুরুষকে ধরে এক জায়গায় জড়ো করে রেখেছে। ছবি: রয়টার্স

পুলিশের একটি স্পেশাল অপারেশন ইউনিটের সদস্যরা বেশ কয়েকজন পুরুষকে ধরে এক জায়গায় জড়ো করে রেখেছে

চলতি বছরের ১০ থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত ব্রাজিলের আমাজন নদী তীরবর্তী বন্দর শহর বেলেমে জাতিসংঘের জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলন সিওপি৩০ অনুষ্ঠিত হবে। রিও ডি জেনেইরোর অনুষ্ঠানগুলো সিওপি৩০ এর প্রস্তুতির অংশ।

রিওর গভর্নর ক্লাউডিও কাস্ত্রো মঙ্গলবার পুলিশি অভিযানে ৬৪ জন নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন পুলিশ কর্মকর্তা আছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। 

সামাজিক মাধ্যমে এই অভিযান নিয়ে কাস্ত্রো লিখেছেন, “আমরা দৃঢ়ভাবে মাদক সন্ত্রাসের মোকাবেলা করছি।”  

তিনি জানিয়েছেন, নগরীটির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে আলেমাও এবং পেনহা ফাভেইলা কমপ্লেক্সজুড়ে চালানো এসব অভিযানে ২৫০০ নিরাপত্তা সদস্য অংশ নিয়েছেন। 

রিওর সমুদ্রতীরবর্তী পাহাড়গুলোর ঢালে ঘনবসতিপূর্ণ দরিদ্র এলাকাগুলো হল ফাভেইলা। মঙ্গলবার সকালে অভিযানরত পুলিশের সাঁজোয়া যানগুলোর গতি শ্লথ করার উদ্দেশ্য নিয়ে অপরাধী দলগুলোর সদস্যরা অনেকগুলো গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। এসব জ্বলন্ত গাড়ি থেকে ওঠা ধোঁয়া সকালে নগরীর দিগন্তরেখা ওপর দিয়ে উঠতে দেখা যায়। এ সময় মুহুর্মুহ গুলির শব্দে চারদিক কেঁপে উঠছিল।  

পুলিশ যেসব ভিডিও প্রকাশ করেছে সেগুলোতে দেখা গেছে, সন্দেহভাজনরা পুলিশের বিরুদ্ধে গ্রেনেড সজ্জিত ড্রোন ব্যবহার করছে। এসব ভিডিও ফুটেজে অভিযান চলাকালে সশস্ত্র ব্যক্তিদের নিকটবর্তী একটি বনে পালিয়ে যেতে দেখা গেছে।  

নগরীর একটি সরকারি হাসপাতালের সামনে জড়ো হয়ে কান্না করছিলেন হতাহতদের পরিবারের সদস্যরা। ছবি: রয়টার্স

নগরীর একটি সরকারি হাসপাতালের সামনে জড়ো হয়ে কান্না করছিলেন হতাহতদের পরিবারের সদস্যরা

দুই পক্ষের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র লড়াই থামার পর রয়টার্সের এক সাংবাদিক পুলিশের একটি স্পেশাল অপারেশন ইউনিটের সদস্যদের বহু শার্ট ছাড়া পুরুষকে ধরে এক জায়গায় জড়ো করে রাখতে দেখেছে। আহতদের যে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে তার সামনে তাদের পরিবারের সদস্যদের কান্নারত অবস্থায় দেখা গেছে।   

রিও রাজ্য সরকার মঙ্গলবারের এই অভিযানকে কমান্দো ভের্মেলহো অপরাধী দলের বিরুদ্ধে চালানো সবচেয়ে বড় অভিযান বলে বর্ণনা করেছে।

ব্রাজিলের কেন্দ্রীয় আইন ও বিচারমন্ত্রী রিকারদো লেভানদোভস্কি জানিয়েছেন, রিওর রাজ্য কর্তৃপক্ষ এই ‘প্রাণঘাতী’ অভিযানের আগে ফেডারেল সরকারের কাছে কোনো সহায়তা চায়নি। কী ঘটেছে গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে তিনি সব জেনেছেন বলে লেভানদোভস্কি জানিয়েছেন।

এই সংঘর্ষের জন্য রিও নগরীর বহু স্কুল ও চিকিৎসা কেন্দ্রের কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়েছে। বিভিন্ন রুটের বাসগুলোকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। এ  অভিযানের কারণে রাজ্যের রাজধানী শহরটির বিভিন্ন অংশ ব্যাপক ট্র্যাফিক জ্যাম তৈরি হয়।

অভিযানে কর্তৃপক্ষ ২৫০ জন ফেরারীকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্য নিয়ে নামলেও মাত্র ৮১ জনকে গ্রেপ্তার করতে পেরেছে বলে কাস্ত্রো জানিয়েছেন। কথিত মাদক সম্রাট ও তাদের অর্থ পাচার কার্যক্রমের বিরুদ্ধে এ অভিযানটি পরিচালিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। 

তবে সামরিক কায়দার এ অভিযানে বহু প্রাণহানি হওয়ায় এর সমালোচনা করেছে ব্রাজিলের কিছু সিভিল সোসাইটি গোষ্ঠী। তারা একে ‘শোচনীয় অভিযান’ বলে বর্ণনা করেছে।