Published : 01 Mar 2026, 10:43 AM
কোনো অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যদি নিহত হন, তা হলে দেশটির বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর (আইআরজিসি) কট্টরপন্থি নেতাদের কেউ তার স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন বলে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার আগেই মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র মূল্যায়নে ধারণা দেওয়া হয়েছিল।
এ সংক্রান্ত তথ্য সম্বন্ধে অবগত দুটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ কথা জানিয়েছে।
হামলার দুই সপ্তাহ আগে থেকে প্রস্তুত হতে থাকা সিআইএর এসব মূল্যায়নে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের পর ইরানে কী কী হতে পারে এবং কী মাত্রার সামরিক অভিযান ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটিতে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের সূচনা করতে পারবে মোটাদাগে তা-ই খতিয়ে দেখা হয়েছে।
ইরানের শাসনব্যবস্থা বদলানোই যে মূল লক্ষ্য, তা শনিবারের অভিযানের শুরুতেই খোলাসা করেছে ওয়াশিংটন।
সিআইএর মূল্যায়ন সম্বন্ধে জানেন এমন তৃতীয় আরেকটি সূত্র বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান পরবর্তী একাধিক সম্ভাব্য দৃশ্যপটের মধ্যে আইআরজিসির নেতাদের কেউ ক্ষমতার শীর্ষে বসবেন—এটাও ছিল।
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) বা বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর দায়িত্ব হচ্ছে ইরানে শিয়া মুসলিম মোল্লাতন্ত্রের সুরক্ষা দেওয়া।
সিআইয়ের প্রতিবেদনে ‘সুনির্দিষ্টভাবে এটাই ঘটবে’ এমন কোনো দৃশ্যপটের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে নাম না প্রকাশ করার শর্তে গোয়েন্দা তথ্য সংক্রান্ত আলোচনায় রাজি হওয়া সূত্রগুলো।
সিআইএ এ প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। আইআরজিসির সম্ভাব্য কারা শীর্ষপদে থাকতে পারেন, রয়টার্সের প্রতিবেদনে সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। সিআইএর মূল্যায়নে কারও নাম ছিল কিনা, তাও স্পষ্ট নয়।
যুক্তরাষ্ট্র যে ইরানে শাসনব্যবস্থা বদলাতে আগ্রহী—প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কয়েক সপ্তাহ ধরে সে ইঙ্গিত দিয়ে গেলেও খামেনির পর দেশটিকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের ভাবনায় কে বা কারা আছেন সে বিষয়ে কিছু বলেননি।
শনিবার সকালের দিকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প তেহরানকে ‘সন্ত্রাসী শাসকগোষ্ঠী’ আখ্যা দিয়ে ইরানি জনগণকে সরকারের দখল নিতে আহ্বান জানিয়েছিলেন। বলেছিলেন, মার্কিন সামরিক অভিযান গণঅভ্যুত্থানের মঞ্চ তৈরি করে দেবে।
ডিসেম্বরে ইরানজুড়ে রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভের পর শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে হামলা চালানো হবে কিনা তা নিয়ে মার্কিন সরকার কয়েক সপ্তাহ দোলাচলে থাকার পর শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এ যৌথ হামলা হল।
মার্কিন কর্মকর্তারা এ সময়ের মধ্যে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোরও চেষ্টা করেছিল। যদিও তেহরান এখন বলছে, হামলার প্রস্তুতি আড়াল করতে গত বছরের মতোই ‘আলোচনার নাটক’ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত সপ্তাহে এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলার সম্ভাবনা ‘প্রকট’ বলে ‘গ্যাং অব এইট’ নামে পরিচিত কংগ্রেসের শীর্ষ আইনপ্রণেতাদের আভাস দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, মার্কিন অভিযানই সম্ভবত হবে, তবে পরমাণু আলোচনা সফল হলে ট্রাম্প তার মত বদলাতেও পারেন।
বৃহস্পতিবার জেনিভায় দুই পক্ষের সর্বশেষ আলোচনায় কোনো চুক্তি না হওয়ায় শুক্রবার রাতে রুবিও সেই ‘গ্যাং অব এইটকে’ ইরানে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হামলা হতে যাচ্ছে, তবে ‘ট্রাম্প এখনও মত বদলাতে পারেন’ বলে জানান, বলেছে বিষয়টি সম্বন্ধে অবগত দুটি সূত্র।