১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর গাজা সিটি ছাড়ার নির্দেশে আতঙ্ক

ইসরায়েল বলেছে, হামাস তাদের হাতে বন্দি শেষ জিম্মিদের মুক্তি না দিলে তারা গাজায় ‘প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের’ মতো আক্রমণ চালাবে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর গাজা সিটি ছাড়ার নির্দেশে আতঙ্ক
ইসরায়েলি হামলার বিধ্বস্ত গাজা সিটি। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 09 Sep 2025, 03:03 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:15 PM

ফিলিস্তিনি ছিটমহল গাজার প্রধান শহর গাজা সিটি ছেড়ে বাসিন্দাদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। নতুন একটি আক্রমণ শুরু করার আগে মঙ্গলবার এ নির্দেশ দিয়েছে তারা। 

ইসরায়েল সতর্ক করে বলেছে, হামাস তাদের হাতে বন্দি শেষ জিম্মিদের মুক্তি না দিলে তারা ‘প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের’ মতো শক্তিতে ছিটমহলটিতে আক্রমণ চালাবে।

রয়টার্স জানিয়েছে, গাজা সিটিকে হামাসের শেষ ঘাঁটি হিসেবে চিহ্নিত করেছে ইসরায়েল। ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠনটিতে শেষ আঘাত হানতে একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে ইসরায়েল সরকার। এই পরিস্থিতিতে প্রায় ১০ লাখ বাসিন্দার গাজা সিটির ফিলিস্তিনিরা কয়েক সপ্তাহ ধরে একটি আক্রমণ চলতে পারে বলে আশঙ্কা করছে। 

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, “আমি গাজার বাসিন্দাদের বলছি, এই সুযোগটি গ্রহণ করুন আর সতর্কভাবে আমার কথা শুনুন: আপনাদের সতর্ক করা হচ্ছে- সেখান থেকে চলে যান!”  

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষগুলোর এসব হুমকিতে গাজা সিটির বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। কিছু বাসিন্দা জানিয়েছেন, দক্ষিণে চলে যাওয়া ছাড়া তাদের আর কোনো গতি নেই ।আর অধিকাংশ বাসিন্দা বলছেন, যেহেতু অন্য কোনো জায়গাও নিরাপদ না তাই তারা গাজা সিটিতেই থাকবেন, কোথাও যাবেন না। 

ছয় সন্তানের মা উম মোহাম্মদ (৫৫) বলেন, “গত সপ্তাহে বোমাবর্ষণ সত্ত্বেও আমি চলে যেতে বাধা দিয়েছি, কিন্তু এখন এখন আমি আমার মেয়ের সঙ্গে চলে যাব।” 

ইসরায়েলি লিফলেট পড়ছেন গাজা সিটির এক বাসিন্দা। ছবি: রয়টার্স

ইসরায়েলি লিফলেট পড়ছেন গাজা সিটির এক বাসিন্দা

২০২৩ এর অক্টোবরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজাবাসীদের ইতোমধ্যে কয়েকবার বাস্তুচ্যুত হতে হয়েছে। নাজুক হতে থাকা মানবিক সঙ্কটের মধ্যে ইসরায়েলি বাহিনীর আদেশ মেনে তাদের বারবার কখনো ছিটমলটির উত্তরে আর কখনো দক্ষিণে সরে যেতে হয়েছে। ওই মানবিক সঙ্কট এখন প্রায় দুর্ভিক্ষের রূপ নিয়েছে। 

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী গাজা সিটির বাসিন্দাদের দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনিস শহরের আল-মাওয়াসি এলাকায় চলে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে, যেটিকে কথিত ‘মানবিক জোন’ বলে অভিহিত করছে তারা। 

নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বাহিনীগুলো একটি স্থল ‘অভিযান’ চালাতে গাজা সিটিতে জড়ো হয়ে সংগঠিত হচ্ছে। 

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, হামাস তাদের হাতে বন্দি শেষ জিম্মিদের মুক্তি দিয়ে আত্মসমর্পণ না করলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ‘প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের’ মতো করে অভিযান চালাবে। 

প্রায় দুই বছর ধরে চলা এ যুদ্ধ থামাতে যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। কিন্তু ইসরায়েলি বাহিনী গাজা সিটি দখল করে নিলে এই উদ্যোগ জটিলতার মুখে পড়বে। মধ্যস্থতাকারীদের আশা, একটি যুদ্ধবিরতির বিষয়ে উভয়পক্ষকে সম্মত করানো গেলে ইসরায়েলি পরিকল্পনা এড়ানো যাবে। 

তবে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল ইতোমধ্যে গাজার ৭৫ শতাংশ অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। আর ছিটমহলটিতে প্রায় দুই বছর ধরে চলা ইসরায়েলি হামলায় ৬৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।