Published : 18 Aug 2026, 06:14 PM
রাশিয়ায় সামরিক ও শিল্প স্থাপনায় ইউক্রেইনের হামলায় ব্রিটিশ ড্রোন ব্যবহারের কথা নিশ্চিত হওয়ার পর যুক্তরাজ্যকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে মস্কো।
বিবিসি লিখেছে, যুক্তরাজ্য ‘ইউক্রেইন সংকট বাড়িয়ে তুলতে জেনেশুনে পথ বেছে নিয়েছে’ অভিযোগ করে ক্রেমলিন সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, এর জন্য লন্ডনকে পরিণতি ভোগ করতে হবে।
লন্ডনে অবস্থিত রাশিয়ার দূতাবাস এক বিবৃতিতে বলেছে, “এর মাধ্যমে (ইউক্রেইনকে সহযোগিতা) যুক্তরাজ্য রক্তক্ষয়ী অপরাধ ও সন্ত্রাসী হামলার সহযোগী ও সহ-সংগঠক হিসেবে কাজ করছে।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “লন্ডনের এই ধরনের পদক্ষেপের পরিণতি অবশ্যম্ভাবী এবং তাদেরকে এর জবাব দিতে হবে। ইউক্রেইন সংঘাতে যুক্তরাজ্যের অংশগ্রহণ যত গভীর হবে, তাদেরকে এর জন্য তত বড় মূল্য দিতে হবে।”
তবে রাশিয়ার এই হুঁশিয়ারির পরও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নাম বলেছেন, তার দেশ ইউক্রেইনকে একশত ভাগ (১০০%) সমর্থন দিয়ে যাবে। তিনি বলেন, "আমরা সুসময়ের বন্ধু নই, ইউক্রেইনের বিপদের দিনে আমরা পাশে থাকব এবং এই অবস্থানের কোনও পরিবর্তন হবে না।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের (এমওডি) এক মুখপাত্রও বিবিসি-কে বলেছেন, যুক্তরাজ্য ইউক্রেইনের পাশে ‘কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে’ দাঁড়িয়ে রয়েছে।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “ইউক্রেইন ও আমাদের মিত্রদের ওপর রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এই সরকারের দৃঢ় অবস্থানের বিষয়ে রাশিয়ার কোনও সন্দেহ থাকা উচিত নয়।”
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের অবৈধ আক্রমণের বিরুদ্ধে ইউক্রেইনের আত্মরক্ষার জন্য যা প্রয়োজন, তা সরবরাহ করতে যুক্তরাজ্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেইনে পুরোদমে সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে যুক্তরাজ্য ইউক্রেইনের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক সমর্থক দেশগুলোর অন্যতম হয়ে উঠেছে।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের অবৈধ সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে ইউক্রেইনকে নিজেদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করতে যুক্তরাজ্য বদ্ধপরিকর।
যুক্তরাজ্যের দুটি ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তৈরি ড্রোন ইউক্রেইন যুদ্ধে রাশিয়ার ভূখণ্ডে সামরিক ও শিল্প স্থাপনায় ধারাবাহিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে রাশিয়ার একাধিক তেল শোধনাগার এবং অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান 'ওয়াইল্ডবেরিজ'-এর গুদামগুলো।
রাশিয়ার ‘অ্যামাজন’ হিসেবে পরিচিত ওয়াইল্ডবেরিজের সরবরাহ কেন্দ্রে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেইন। ইউক্রেইনীয় সামরিক বাহিনীর দাবি, প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বড় ১০টি লজিস্টিক সেন্টারের মধ্যে ৭টিই তারা অচল করে দিয়েছে।
যুক্তরাজ্যের ড্রোনের মাধ্যমে চালানো এসব হামলায় রাশিয়ার প্রায় ৩৫ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে বলে এক সামরিক সূত্র বিবিসি-কে নিশ্চিত করেছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেইনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করার পর রাশিয়া বর্তমানে দেশটির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাকারোভা জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্যের তৈরি উপাদান ব্যবহার করা ড্রোন দিয়ে রোস্তভ অঞ্চলের কামেনস্কি জেলার একটি জ্বালানি ডিপোসহ একাধিক রুশ ভূখণ্ডে হামলা চালানো হয়েছে।
যুক্তরাজ্যকে রাশিয়ার এই হুমকির মধ্যেই উভয় দেশের মধ্যে ব্যাপক হামলা-পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে।
রুশ কর্মকর্তারা জানান, মস্কোর আশেপাশের অঞ্চল লক্ষ্য করে পাঠানো প্রায় ৬২০টি ড্রোনের মধ্যে ১৮০টিরও বেশি ড্রোন ধ্বংস করেছে রাশিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। তবে এসব হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
মস্কোর কাছের অঞ্চলে ওয়াইল্ডবেরিজের গুদামে হামলায় আগুন ধরে যায়। তবে দ্রুতই আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর আন্দ্রে ভোরোবিওভ।
ঘটনার পর এক বিবৃতিতে ওয়াইল্ডবেরিজ জানায়, হামলায় তাদের একটি লজিস্টিক কমপ্লেক্সের ‘সামান্য ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে।
অন্যদিকে ইউক্রেইনের জাপোরিজিয়া অঞ্চলে রাশিয়ার বিমান হামলায় অন্তত দুজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর ইভান ফেদোরোভ। তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ওই অঞ্চলের ৫৯টি লোকালয়ে ১,১৫৮টি হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।
এর আগে শনিবার রাতে মস্কো লক্ষ্য করে প্রায় ৬০০টিসহ মোট ৮২২টি ড্রোন ছোঁড়ে ইউক্রেইন, যাতে রাশিয়াজুড়ে ৭ জনের মৃত্যু হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার রাজধানীতে এটি সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলাগুলোর একটি বলে মন্তব্য করেন স্থানীয় গভর্নর। একই রাতে ইউক্রেইনে রাশিয়ার হামলায় অন্তত ৭ জন নিহত ও ৩৯ জনের বেশি আহত হন।
চলতি বছরের এপ্রিলে ইউক্রেইনকে সহায়তা করতে হাজার হাজার দীর্ঘপাল্লার ড্রোন সরবরাহের ঘোষণা দিয়েছিল যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।