১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ভারতের দিকে ছোড়া পাকিস্তানি ক্ষেপণাস্ত্র, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা ধ্বংসের পাল্টা দাবি নয়া দিল্লির

পাকিস্তান জম্মু ও কাশ্মীর, পাঞ্জাব, গুজরাটসহ উত্তর ও পশ্চিমের ১৫টি শহরে অবস্থিত সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল, ভারতের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা সেগুলো নিস্ক্রিয় করে দিয়েছে বলে দাবি নয়া দিল্লির।

ভারতের দিকে ছোড়া পাকিস্তানি ক্ষেপণাস্ত্র, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা ধ্বংসের পাল্টা দাবি নয়া দিল্লির
পাকিস্তানি সেনাদের গোলায় ক্ষতিগ্রস্ত ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বারামুল্লার সালামাবাদের একটি বাড়ি। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 May 2025, 06:01 PM

Updated : 26 Aug 2026, 12:40 PM

ভারত সরকার জানিয়েছে, তাদের সেনাবাহিনী বুধবার গভীর রাত ও বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে জম্মু ও কাশ্মীর, পাঞ্জাব, গুজরাটসহ উত্তর ও পশ্চিমের ১৫টি শহরে অবস্থিত সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে পাকিস্তানের হামলাচেষ্টা প্রতিহত করেছে। 

শ্রীনগর, পাঠানকোট, অমৃতসর, লুধিয়ানা, চন্ডিগড় ও অন্যান্য স্থানের সামরিক স্থাপনাকে নিশানা বানিয়ে ইসলামাবাদের করা এ হামলাচেষ্টার প্রত্যুত্তরে ভারতীয় বাহিনীগুলো লাহোরসহ একাধিক স্থানে পাকিস্তানের বিমান প্রতিরক্ষা রাডার ও ব্যবস্থাপনা ধ্বংস করে দিয়েছে। 

পাকিস্তান যেভাবে হামলা চালিয়েছে, ভারতীয় বাহিনীর প্রতিক্রিয়াও ছিল ‘একই ধরনের, একই মাত্রার’, বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়া দিল্লি এমনটাই বলেছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। 

ভারত বলছে, হামলাচেষ্টায় পাকিস্তানি বাহিনীর ব্যবহৃত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভারতের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা নিস্ক্রিয় করে দিয়েছে।

ভূপাতিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ সংগ্রহ করা হচ্ছে; এগুলো ভারতকে লক্ষ্য করে চালানো সীমান্ত সন্ত্রাসবাদে পাকিস্তান বা পাকিস্তানি ‘ডিপ-স্টেট’ সহায়তা করছে বলে নয়া দিল্লি যে অভিযোগ করে আসছে, তার সপক্ষে থাকা প্রমাণের তালিকায় যুক্ত হবে, বলছে তারা। 

এর আগে পাকিস্তান জানিয়েছিল, তারা ভারতের ১২টি ড্রোনকে ভূপাতিত করেছে। তবে অন্য একটি ড্রোন সামরিক লক্ষ্যস্থলে আংশিক আঘাত হানতে সক্ষম হয়, তাতে ৪ সেনা সদস্য আহত হওয়ার কথাও স্বীকার করেছে ইসলামাবাদ।

সিন্ধুর মিয়ানো আরেক ড্রোনের হামলায় এক বেসামরিক নিহত ও আরেকজন আহত হয়েছে বলেও জানিয়েছেন পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল শরিফ চৌধুরি।  

পেহেলগামে গত ২২ এপ্রিলের সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার বদলা নিতে ভারত বুধবার প্রথম প্রহরে পাকিস্তান ও পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের মোট ৯টি স্থানে একযোগে তাদের ভাষায় ‘সন্ত্রাসী আস্তানায়’ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। 

২৫ মিনিটের এ হামলায় শতাধিক সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার ভারতে এক সর্বদলীয় বৈঠকে দাবি করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।

‘পাকিস্তানের পদক্ষেপ’ বিবেচনায় নিয়ে অপারেশন সিঁদুর এখনও চালানো হচ্ছে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন। 

এর আগে বুধবার হামলা নিয়ে দেওয়া এক ব্রিফিংয়ে ভারতীয় সেনা ও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা বলেছিলেন, তাদের হামলা ছিল কেবলই সন্ত্রাসীদের স্থাপনা লক্ষ্য করে, পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর কোনো স্থাপনা লক্ষ্য করে নয়। 

যদিও এ ভাষ্য মানতে নারাজ ইসলামাবাদ। তারা বলছে, ভারতের বুধবারের হামলা তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত এবং তারা এর ‘সমুচিত জবাব’ দেবে। 

ভারত সরকার জানিয়েছে, কাশ্মীরের পেহেলগাম হামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাকিস্তান সীমান্তে গোলাগুলি শুরু করেছিল, যত দিন গেছে ততই এর তীব্রতাও বেড়েছে। 

কুপওয়াড়া, বারামুল্লা, উরি, পুঞ্চ, মেন্ধার ও রাজৌরি সেক্টরে মর্টার ও ভারি কামানের গোলা ছোড়া হয়েছে। 

এতে এখন পর্যন্ত তিন নারী ও পাঁচ শিশুসহ ১৬ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এক ভারতীয় সেনারও প্রাণ গেছে।

ভারতের ১২ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি পাকিস্তানের