১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালিতে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু বাণিজ্যিক জাহাজ

ইরাকের জলসীমায় যে তেল ট্যাংকারগুলোতে হামলা হয়েছে সেগুলোর পরিচালনা ও মালিকানার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সম্পর্ক আছে।

পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালিতে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু বাণিজ্যিক জাহাজ
হরমুজ প্রণালিতে আক্রান্ত হওয়ার পর কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজ ময়ূরী নারী। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 12 Mar 2026, 02:41 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:08 PM

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের প্রায় দুই সপ্তাহে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির আশপাশে অন্তত ১৬টি জাহাজে হামলা হয়েছে। এরমধ্যে গত কয়েক ঘণ্টায় অন্তত ছয়টি জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। 

বন্দর, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও রিস্ক ফার্মগুলো জানিয়েছে, বুধবার ও বৃহস্পতিবার সকালে পারস্য উপসাগরে চারটি বাণিজ্যিক জাহাজ উড়ে আসা বস্তুর বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বুধবার রাতে ইরাকের জলসীমায় দুটি জ্বালানিবাহী ট্যাংকারে আঘাত হেনেছে বিস্ফোরক ভর্তি কয়েকটি নৌকা, এতে জলযান দুটিতে ব্যাপক আগুন ছড়িয়ে পড়ে। 

রয়টার্স জানিয়েছে, সর্বশেষ যে জাহাজগুলোতে হামলা হয়েছে সেগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সম্পর্ক আছে। এতে ইরানের সঙ্গে মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনীর যুদ্ধ আরও তীব্র হবে বলে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।  

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সংকীর্ণ হরমুজ প্রণালি প্রায় স্থবির হয়ে আছে। বিশ্বের তেল সরবরাহের এক পঞ্চমাংশ পারস্য উপসাগর থেকে হরমুজ প্রণালি হয়ে বিভিন্ন দেশে যায়। এই সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় বিশ্ব বাজারে দেখা দেওয়া উদ্বেগের মধ্যে তেলের মূল্য এতো বাড়তে শুরু করেছে যা ২০২২ সালের পর থেকে আর দেখা যায়নি। 

ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড বলেছে, ইরানে হামলা অব্যাহত থাকলে তারা মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তাদের অংশীদার দেশগুলোতে ‘এক লিটার তেলও’ সরবরাহ করতে দেবে না। 

ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছেন, ইরান মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানিতে বাধা দিলে দেশটিতে কঠিন আঘাত হানা হবে। তিনি আরও বলেছেন, “(ইরানে) নৌবাহিনী প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ায় তেল কোম্পানিগুলির এই প্রণালিটি ব্যবহার করা উচিত।” 

বুধবার গভীর রাতে ইরাকের কাছে পারস্য উপসাগরে যে ট্যাংকারগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে সেগুলো একটি মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী জাহাজ সাফেসিয়া বিঞ্চু ও অপরটি মাল্টার পতাকাবাহী জেফিরোস। 

দুই ইরাকি বন্দর কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্যাংকার দুটি ইরাক থেকে জ্বালানি পণ্য বোঝাই করেছিল। ইরাকের জলসীমার মধ্যেই ট্যাংকার দুটিতে হামলা চালানো হয়। 

এই হামলার পর ইরাকের তেল বন্দরগুলোর কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করে রাখা হয়। ইরাকের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, শুধু বাণিজ্যিক বন্দরগুলো কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

ইরাকের বন্দর কর্তৃপক্ষ জিসিপিআইয়ের মহাপরিচালক রয়টার্সকে বলেছেন, “ইরাকের বন্দর কোম্পানির একটি নৌকা দুই ট্যাংকারের ২৫ ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করেছে।”   

জাহাজ দুটির অন্য নাবিকদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে ইরাকের উদ্ধারকারী দলগুলো।  

বন্দরের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছেন, “পানি থেকে এক বিদেশি ক্রু সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছি আমরা।” 

সাফেসিয়া বিঞ্চু ট্যাংকারটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক শিপিং কোম্পানি সাফেসিয়া গ্রুপের মালিকানাধীন। হামলার বিষয়ে রয়টার্সের জানতে চাওয়া মন্তব্যের অনুরোধে তারা তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।    

মাল্টার পতাকাবাহী জেফিরোস ট্যাংকারের পরিচালনা ও মালিকানার সঙ্গে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সিগনাস ট্যাংকার লিমিটেড ও গ্রিসের সম্পর্ক আছে। সিগনাস ট্যাংকারও তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।  

এর আগে একইদিন হরমুজ প্রণালির আপশাশে আরও তিনটি পণ্যবাহী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। এর পরদিন বৃহস্পতিবার ভোররাতে আরেকটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে।