পেলোসির সফরের আগে ৩৫ তাইওয়ানি খাদ্য রপ্তানিকারককে নিষিদ্ধ করল চীন

খাদ্য রপ্তানিকারকদের ওপর বিধিনিষেধ দেওয়া হলেও অর্থের বিচারে চীনে তাইওয়ানের বড় রপ্তানিপণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ইলেকট্রনিক্স ও যন্ত্রাংশ, যন্ত্রপাতি, প্লাস্টিক ও রাসায়নিক।

নিউজ ডেস্ক
Published : 2 August 2022, 12:34 PM
Updated : 2 August 2022, 12:34 PM

মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফরের সম্ভাবনার মধ্যে আগে থেকেই সতর্কবার্তা হিসেবে স্বশাসিত দ্বীপটির ৩৫ বিস্কুট ও পেস্ট্রি রপ্তানিকারকের কাছ থেকে আমদানি বন্ধ রেখেছে চীন।

সোমবার থেকে তারা ওই রপ্তানিকারকদের পণ্য নিচ্ছে না বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এমন এক সময়ে এই কোম্পানিগুলোর রপ্তানিতে চীন বিধিনিষেধ দিল যখন তাইওয়ানে পেলোসির আসন্ন সফর নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে।

চীন তাইওয়ানকে তার বিচ্ছিন্ন প্রদেশ হিসেবে দেখে। স্বশাসিত দ্বীপটিতে পেলোসি গেলে তা ‘এক চীন’ নীতির বরখেলাপ হবে বলে বারবারই সতর্ক করে এসেছে তারা।

চীনের শুল্ক কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে দেওয়া নিবন্ধনের তথ্য থেকে রয়টার্সের হিসাব বলছে, বিস্কুট, পেস্ট্রি ও ব্রেড ক্যাটাগরিতে নিবন্ধিত ১০৭টি তাইওয়ানি কোম্পানির ৩৫টিই এখন চীনের ‘আমাদানি স্থগিতের’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

“গত রাতে কাজ শেষ করার আগেই আমি নিষেধাজ্ঞা সম্বন্ধে জেনেছিলাম। অনেক খাদ্য কোম্পানি বলছিল, চীনের শুল্ক বিভাগ তাদের পণ্য প্রত্যাখ্যান করছে,” বলেছেন ক্ষতিগ্রস্ত এক তাইওয়ানি খাদ্য উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক।

ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও স্বশাসিত দ্বীপটির সুরক্ষায় সহায়তা দিতে তারা আইনিভাবে বাধ্য।

তাইওয়ানের খাদ্য রপ্তানিকারকদের ওপর বিধিনিষেধ বিষয়ে রয়টার্স চীনের শুল্ক কর্তৃপক্ষের মন্তব্য চাইলেও তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া পায়নি।

তাইওয়ানের আরও কোম্পানির ওপর এ ধরনের বিধিনিষেধ দেওয়া হবে কিনা, তা স্পষ্ট হওয়া যায়নি। খাদ্য রপ্তানিকারকদের ওপর বিধিনিষেধ দেওয়া হলেও অর্থের বিচারে চীনে তাইওয়ানের বড় রপ্তানিপণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ইলেকট্রনিক্স ও যন্ত্রাংশ, যন্ত্রপাতি, প্লাস্টিক ও রাসায়নিক।

তাইওয়ানের কাউন্সিল অব এগ্রিকালচার এক বিবৃতিতে বলেছে, চীনের সাময়িক নিষেধাজ্ঞার খাড়ায় পড়া সর্বশেষ কোম্পানিগুলোর সহায়তায় তারা যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।

তাইওয়ানের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে স্বশাসিত দ্বীপটি থেকে চীনের আমদানির পরিমাণ ছিল রেকর্ড ১৮ হাজার ৯০০ কোটি ডলার।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক