Published : 14 Jul 2025, 02:31 PM
দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশমন্ত্রী সেনজো মচুনুর বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পর প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা তার এ মন্ত্রীকে তাৎক্ষণিক ‘ছুটিতে’ পাঠিয়েছেন।
রোববার দেশবাসীর উদ্দেশ্যে সরাসরি সম্প্রচারিত ভাষণে রামাফোসা এ অভিযোগ তদন্তে বিচারবিভাগীয় কমিশন গঠনেরও ঘোষণা দিয়েছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট পুলিশমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ‘সংবিধানকে খাটো করেছে’ এবং এটি ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ বলেও মন্তব্য করেছেন।
আইনের অধ্যাপক ফিরোজ চাচালিয়া অন্তর্বর্তীকালীন পুলিশমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।
মচুনু কোনো ধরনের অন্যায়ে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, অভিযোগের বিরুদ্ধে লড়তে তিনি প্রস্তুত।
ভাষণে রামাফোসা বলেন, মচুনুর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দুর্নীতির তদন্তে হস্তক্ষেপসহ যেসব অভিযোগ এসেছে তা ‘দ্রুত ও সর্বাঙ্গীণ তদন্তের দাবি রাখে’।
দেশের উপ-প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বিচারবিভাগীয় কমিশন এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখবে।
কমিশন সাবেক-বর্তমান পুলিশ কর্মকর্তা এবং জাতীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যদের ব্যাপারেও তদন্ত করবে, বলেছেন প্রেসিডেন্ট।
৬৭ বছর বয়সী মচুনু ক্ষমতাসীন আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস (এএনসি) দলের ভেতর খুবই প্রভাবশালী। ২০২৭ সালে দলের পরবর্তী নেতৃত্ব নির্বাচনে তার দাঁড়ানোর সম্ভাবনা আছে বলেও অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন।
প্রেসিডেন্টের ঘোষণার পর এক বিবৃতিতে মচুনু বলেন, “আমি প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই, সম্মান করি এবং এই প্রক্রিয়ায় আমার পূর্ণ সহযোগিতার অঙ্গীকার করছি।
“সম্মান ও সততা এমন গুণ, যেগুলো আমি ব্যক্তিগতভাবে অনুসরণ করি, এবং এগুলোকে সবার ঊর্ধ্বে রাখার জন্য আমাদের সবারই সচেষ্ট থাকা উচিত।”
গত রোববার কোয়াজুলু-নাটাল প্রদেশের পুলিশ প্রধান নহ্লানহ্লা মখোয়ানাজি প্রথম জনসমক্ষে মচুনুর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন।
তার দাবি, মচুনু নিজের ‘রাজনৈতিক অভিলাষ’ মেটাতে এমন এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন, যিনি দুর্নীতিগ্রস্ত বলে অনেকেরই সন্দেহ।
কোয়াজুলু-নাটাল প্রদেশে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড তদন্তে ২০১৮ সালে যে টাস্ক ফোর্স গঠিত হয়েছিল, তা বিলুপ্ত করার পেছনেও মচুনুর হাত আছে বলে ইঙ্গিত জেনারেল মখোয়ানাজির।
প্রাদেশিক এ পুলিশপ্রধান বলেন, তার দলের তদন্তে সংঘবদ্ধ এক মাদক কার্টেল চক্রের সঙ্গে রাজনীতিক, পুলিশ কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের যোগসাজশের কথা উঠে এসেছিল। এরপরই ওই তদন্ত দলটি ভেঙে দেওয়া হয়।
চলতি বছরের শুরুর দিকে ইউনিটটি বিলুপ্ত করার সময় মচুনু বলেছিলেন, এই আলাদা ইউনিটে আদতে কোনো লাভ হচ্ছে না।
জেনারেল মখোয়ানাজি বলছেন, ১২১টি মামলার ফাইল তাদের ওই ইউনিটের হাত থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, মচুনুর নির্দেশেই এগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং এ প্রক্রিয়ায় পুলিশ কমিশনার জেনারেল ফ্যানি মাসেমোলার অনুমোদন নেওয়া হয়নি।
“মার্চ থেকে এসব মামলার নথিপত্রগুলো সদরদপ্তরে পড়ে আছে, তদন্ত সংক্রান্ত কোনো কাজই হয়নি। অথচ ওর মধ্যে ৫টি নথিতে গ্রেপ্তারের নির্দেশনা ছিলই,” বলেছেন তিনি।
মচুনুর সঙ্গে বিতর্কিত ব্যবসায়ী ভুসিমুজি মাটলালার সম্পর্ক আছে, এবং মাটলালাই মচুনুর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে ‘আর্থিক সহযোগিতা’ দিচ্ছে বলে অভিযোগ মখোয়ানাজির।
এর প্রমাণস্বরূপ তিনি কিছু লিখিত বার্তা এবং অর্থ প্রদানের একটি নথির কপি প্রকাশ করেন; ওই অর্থ মাটলালাই দিয়েছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
ভুসিমুজি মাটলালা পুলিশের সঙ্গে লাভজনক এক ব্যবসায়িক সম্পর্কে ছিলেন; মে-তে এক হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার সঙ্গে ওই চুক্তি তড়িঘড়ি বাতিল করা হয়।