Published : 14 Jan 2026, 08:57 PM
থাইল্যান্ডের নাখন রাচাসিমা প্রদেশে নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত বিরাট এক ক্রেন একটি চলন্ত ট্রেনের ওপর ভেঙে পড়ার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩২ জনে দাঁড়িয়েছে।
আরও ৬৬ জন আহত হওয়ার খবর জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর। ব্যাংকক শহরের উত্তরে নাখন রাচাসিমা প্রদেশের বান থানন খোট এলাকায় বুধবার সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে এক বছরের একটি শিশু ও ৮৫ বছর বয়সী একজন বৃদ্ধও আছেন এবং ৭ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, লাওস সীমান্ত থেকে থাইল্যান্ডের রাজধানী পর্যন্ত একটি দ্রুতগতির রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল ক্রেনটি। আর ট্রেনটি যাচ্ছিল রাজধানী ব্যাংকক থেকে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে উবন রাচাসিমার দিকে।
রয়টার্স লিখেছে, বিরাট ওই ক্রেন ভেঙে ট্রেনের একটি বগির ওপর পড়লে ট্রেনের বাকি অংশ লাইনচ্যুত হয়ে যায় এবং আগুন ধরে যায়। তাতেই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
থাইল্যান্ডের পরিবহনমন্ত্রী পিপাত রাতচাকিতপ্রাকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় ট্রেনটিতে ১৯৫ জন যাত্রী ছিলেন। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেছেন, "আমাদের অবশ্যই তদন্ত করতে হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।" তিনি নিহতের পরিবারগুলোকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য স্টেট রেলওয়ে অফ থাইল্যান্ডকে নির্দেশ দিয়েছেন।
রেলপথের ওই অংশটি নির্মাণের দায়িত্বে ছিল ‘ইতালি-থাই ডেভেলপমেন্ট পাবলিক কোম্পানি লিমিটেড’ (আইটিডি)। প্রতিষ্ঠানটি এ দুর্ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের মার্চ মাসে ব্যাংককে এই একই প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে নির্মাণাধীন একটি ৩০ তলা ভবন ধসে ৮৯ জন নিহত হয়েছিলেন। সেই ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট প্রেমচাই কার্নাসুতা অবহেলা এবং নির্মাণ বিধি ভঙ্গের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিলেন।
দুর্ঘটনা কবলিত উচ্চগতির রেলপথ প্রকল্পটি ব্যাংকক থেকে চীনের কুনমিং শহর পর্যন্ত বিস্তৃত একটি আন্তর্জাতিক প্রকল্পের অংশ। বিদ্যমান রেললাইনের ওপর দিয়েই এই এলিভেটেড রেলপথটি নির্মাণ করা হচ্ছিল। ক্রেনটি ভেঙে পড়ার পর এর কিছু অংশ এখনো কংক্রিটের পিলারের ওপর ঝুলে থাকতে দেখা গেছে।
চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং জানিয়েছেন, বেইজিং থাইল্যান্ডে চলমান প্রকল্প এবং কর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান তথ্যানুযায়ী রেলপথের এই অংশটি একটি থাই প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করছিল এবং দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
থাই প্রধানমন্ত্রী অনুতিন বলেছেন, উদ্ধার অভিযান শেষ করে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই রেললাইনটি চলাচলের উপযোগী করতে হবে, অন্যথায় আঞ্চলিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।