০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

এক পাইলটকে মেরে ইসরায়েলগামী উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের চেষ্টা করেছেন আরেক পাইলট: নেতানিয়াহু

ককপিটে পাইলটদের মারামারির জেরে সৌদি আরবে উড়োজাহাজের জরুরি অবতরণের ঘটনাটি ইসরায়েলি যাত্রীদেরকে লক্ষ্য করে চালানো জিহাদি সন্ত্রাসী হামলা- বলছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকার।

এক পাইলটকে মেরে ইসরায়েলগামী উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের চেষ্টা করেছেন আরেক পাইলট: নেতানিয়াহু

ফ্লাইদুবাই ফ্লাইট। ছবি: রয়টার্স/ইয়োনহাপ

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 30 Sep 2026, 11:20 PM

Updated : 30 Sep 2026, 11:56 PM

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বুধবার বলেছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে তেল আবিবের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের এক পাইলট আরেক পাইলটকে ছুরি মেরে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করা এবং এর যাত্রীদের মেরে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন।

ককপিটে পাইলটদের মারামারির জেরে উড়োজাহাজটি সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়। নেতানিয়াহু এবং ইসরায়েল সরকার ঘটনাটিকে ইসরায়েলি যাত্রীদেরকে লক্ষ্য করে চালানো জিহাদি সন্ত্রাসী হামলা হিসাবে উল্লেখ করেছে।

এক ভিডিও বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, “আজ সকালে উড়োজাহাজে একটি বড় দুর্ঘটনা ঘটতে চলেছিল। উড়োজাহাজ ইসরায়েলের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় এক পাইলট আরেক পাইলটকে ছুরিকাঘাত করেছেন এবং যাত্রীসহ উড়োজাহাজটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে ফেলে দিয়ে বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “যাত্রীদের প্রায় সবাই ছিলেন ইসরায়েলি। আমি একজন ইসরায়েলি যাত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি এবং উড়োজাহাজের একজন কর্মী মিলে জোর করে পাইলটের কেবিনে (ককপিটে) ঢোকেন।

“তারা পাইলটকে বিমানের ক্ষতি করা থেকে ঠেকান। পরে আরেকজন কর্মী উড়োজাহাজটিকে নিরাপদে নিয়ন্ত্রণে আনেন। ভয়াবহ এক মর্মান্তিক ঘটনা ঠেকাতে যারা চরম সাহস দেখিয়েছে এবং অগণিত জীবন বাঁচিয়েছে, সেই বীরদেরকে শ্রদ্ধা জানাই।

আক্রমণকারী পাইলটকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও ভিডিও বিবৃতিতে জানিয়েছেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, “সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ গ্রেপ্তার হওয়া পাইলটকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

“আমরা ইসরায়েলি যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং তাদেরকে দ্রুত দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।”

সম্ভাব্য আরও হুমকি মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকতে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী।

বুধবার ইসরায়েলের কাছাকাছি পৌঁছানোর সময় প্রায় ১০৮ জন ইসরায়েলি যাত্রীবাহী ফ্লাইদুবাই ফ্লাইট এফজেড ১০৭৩ এর ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে জরুরি সংকেত পাঠানো হয়।

এতে কিছু সময়ের জন্য উড়োজাহাজটি ছিনতাই হয়েছে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। পাইলটদের মধ্যে মারামারি চলাকালে উড়োজাহাজটি ৩০ সেকেন্ডেরও কম সময়ে প্রায় ১৪ হাজার ফুট নিচে নেমে গিয়েছিল বলে জানায় ফ্লাইটরাডার২৪।

সম্ভাব্য ছিনতাইয়ের আশঙ্কায় ইসরায়েলের কর্মকর্তারা যুদ্ধবিমান পাঠান। পরে উড়োজাহাজটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে স্থানীয় সময় সকাল পোনে ১০ টার দিকে জরুরি অবতরণ করে।

উড়োজাহাজের আহত ক্যাপ্টেন ও কো-পাইলটকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ফ্লাইটের এক যাত্রী জানিয়েছেন, একজন পাইলট খুব গুরুতরভাবে আহত এবং অন্যজন সামান্য আহত হয়েছেন।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এই ঘটনাটিকে একটি জিহাদি সন্ত্রাসী হামলা চেষ্টা আখ্যা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, “এটি একটি জিহাদি সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা ছিল, তবে ককপিটে ঢুকে সেই সন্ত্রাসীকে কাবু করা এবং ক্রুদের আবার নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে সাহায্য করার মতো বেশ কয়েকজন ইসরায়েলি যাত্রীর সাহসিকতার কারণে হামলা ঠেকানো সম্ভব হয়েছে।”

“প্রাথমিক গোয়েন্দা তথ্যে এটি নিশ্চিত হয়েছে যে, সন্ত্রাসীর একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল সব যাত্রীকে নিয়ে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করা”, বলেন কাটজ।