Published : 25 Feb 2026, 08:14 PM
মিয়ানমারের জান্তা-সমর্থিত রাজনৈতিক দল ইউএসডিপি নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ার পর, দলটির একজন অবসরপ্রাপ্ত জেনারেলকে পার্লামেন্টের স্পিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, মিয়ানমার গণতান্ত্রিক শাসনে ফেরার পরও দেশটির সরকারে সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ সুসংহত রাখতে সহায়ক হতে পারে এই পদক্ষেপ।
২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমার শাসন করা জান্তা সরকার আগামী মাসে নতুন পার্লামেন্ট অধিবেশন শুরুর পর আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে।
তবে ২০১০ সালে সেনাবাহিনীর হাতে গড়া দল ‘ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি’র (ইউএসডিপি) বিশাল জয়ের ফলে রাজনীতিতে শীর্ষ জেনারেলদের প্রভাব আগের মতোই অটুট থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইউএসডিপি-র তিনটি সূত্র জানিয়েছে, দলটির চেয়ারম্যান খিন ইয়ি নিম্নকক্ষের স্পিকার হতে পারেন। তিনি মিয়ানমারের একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এবং পুলিশের সাবেক প্রধান।
স্পিকার হিসেবে তিনি নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, আইন পাস, বাজেট অনুমোদন এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়ার তদারকি করবেন। তবে ইউএসডিপি খিন ইয়ির ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।
বেসামরিক রাজনীতিতে সামরিক আধিপত্য:
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানিয়েছে, জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের ঘনিষ্ঠ সাবেক জেনারেলরা প্রথম ও দ্বিতীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট হতে পারেন।
খিন ইয়ি সম্পর্কে তিনি বলেন, “দলের ভেতরে উচ্চ-পদস্থ সাবেক সামরিক কর্মকর্তারা থাকায় তাদের ভূমিকার বিষয়টি বিবেচনায় ইয়ির জন্য সবচেয়ে উচ্চ সম্ভাব্য পদটি হতে পারে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের স্পিকার।”
মিয়ানমারের বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী পার্লামেন্টের ২৫ শতাংশ আসন সেনাবাহিনীর জন্য সংরক্ষিত থাকে এবং প্রতিরক্ষা, সীমান্ত ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণও তাদের হাতে থাকে।
সাম্প্রতিক নির্বাচনে ইউএসডিপি পার্লামেন্টের উভয় কক্ষের ৮১ শতাংশ আসন জয় করেছে। তবে এই নির্বাচনে ভোটারের উপস্থিতি ছিল খুবই কম এবং কোনও শক্তিশালী বিরোধী দল ছিল না।
তাছাড়া সামরিক ও বেসামরিক উভয় প্রশাসনের ওপর তদারকি করতে ‘ইউনিয়ন কনসাল্টেটিভ কাউন্সিল’ নামের পাঁচ সদস্যের একটি নতুন প্যানেল গঠন করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে মিন অং হ্লাইং সশস্ত্র বাহিনীর ওপর নিয়ন্ত্রণ না হারিয়েই প্রেসিডেন্ট হওয়ার সুযোগ পাবেন।
স্পিকার পদের ক্ষমতা ও প্রভাব
স্বাধীন রাজনৈতিক বিশ্লেষক টিন কিউ আই জানান, স্পিকারের পদটিতে এর আগে রাজনৈতিক বিশিষ্ট ব্যক্তিরাই থাকতেন। ভাইস প্রেসিডেন্টের পদের চেয়ে স্পিকারের পদ অনেক বেশি প্রভাবশালী।
তিনি বলেন, “যদি কেউ প্রেসিডেন্ট হতে না পারেন, তবে স্পিকারের পদটিই তাকে সবচেয়ে বেশি ক্ষমতা চর্চার সুযোগ দেয়।”
ইউএসডিপি-র সাম্প্রতিক এক বৈঠকে দলের দুইজন সদস্য বলেছেন, খিন ইয়িকে ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ার বিষয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি পার্লামেন্টে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকতে চান বলে জানিয়েছেন।
এক সূত্র প্রাক্তন এই অভিবাসন মন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, এক দলীয় বৈঠকে ইয়ি বলেছিলেন, “এটি নিশ্চিত যে, আমি মনে করি আমি পার্লামেন্টের কোনও একটি কক্ষের আইনসভা বিভাগে নেতৃত্ব দেব।”