ইসরায়েলের হামলা প্রতিহতের দাবি সিরিয়ার
সিরিয়ার এয়ার ডিফেন্স ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে প্রতিহত করে অধিকাংশকেই ভূপাতিত করেছে বলে দাবি তাদের।
প্রতিবেশী ইসরায়েল থেকে ছোড়া বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে সিরিয়া। ইসরায়েলি পুলিশ জানিয়েছে, সিরিয়ার বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র তাদের এক প্রত্যন্ত শহরে আঘাত হেনেছে।
সিরিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশের মধ্যাঞ্চলজুড়ে তাদের এয়ার ডিফেন্স ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে প্রতিহত করে অধিকাংশকেই ভূপাতিত করেছে।
দেশটির সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লেবাননের রাজধানী বৈরুতের কিছু অংশের উপর দিয়ে উড়ে এসে সিরিয়ার হমস শহরের কাছাকাছি এলাকাগুলোতে আঘাত হানে, তবে এতে শুধু বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র বলেছেন, তাদের যুদ্ধবিমানগুলো সিরিয়ার একটি এয়ার ডিফেন্স ব্যাটারিসহ কয়েকটি লক্ষ্যে আঘাত হেনেছে। এ সময় ওই এয়ার ডিফেন্স ব্যাটারি থেকে ইসরায়েল লক্ষ্য করে একটি বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়।
ইসরায়েলের পুলিশ জানিয়েছে, ইসরায়েলজুড়ে মধ্যাকাশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার পর সিরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রটির ধ্বংসাবশেষ রাহাত শহরের ওপর পড়ে।
তবে দুই দেশের যুদ্ধবিরতি লাইন থেকে ১৮০ কিলোমিটার দক্ষিণের শহরটিতে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছে কিনা তা জানা যায়নি।
স্থানীয় গণমাধ্যমের ফুটেজে বড় একটি ক্ষেপণাস্ত্রের মতো কিছু একটার কালো হয়ে যাওয়া সামনের অংশ দেখা গেছে, সেটি আবাসিক ভবনগুলোর মধ্যে একটি খোলা জায়গায় সোজা হয়ে দাঁড়ানো ছিল আর এর লেজ, পাখনা একটি মাঠে পড়েছিল।
তাদের যুদ্ধবিমানগুলোতে কোনো আঘাত লাগেনি বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এসব প্রতিবেদন তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করতে পারেনি।
কয়েক মাস ধরে সিরিয়ার বিমানবন্দর ও বিমান ঘাঁটিগুলোতে হামলা জোরদার করেছে ইসরায়েল। সিরিয়া ও লেবাননে (হিজবুল্লাহসহ) আকাশপথে ইরানের ক্রমবর্ধমান সরবরাহে বিঘ্ন ঘটাতে ইসরায়েল এমনটি করছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
ইসরায়েলের সামরিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সিরিয়ায় ইরানের বাড়তে থাকা উপস্থিতির গতি কমিয়ে দিতে বছরের পর বছর ধরে স্বল্পমাত্রার সংঘাত চলানো হলেও সম্প্রতি এটি কিছুটা জোরদার করা হয়েছে।
২০১১ সালে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে সমর্থন দেওয়ার মধ্য দিয়ে সিরিয়ায় ইরানের প্রভাব বাড়তে শুরু করে। লেবাননের শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠী হিজবুল্লাহসহ ইরানের মিত্র যোদ্ধারা সিরিয়ার পূব, দক্ষিণ ও উত্তরপশ্চিমাঞ্চলের বহু অংশ এবং রাজধানী দামেস্কের শহরতলীর অনেক এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।
