১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া: দুশ্চিন্তা তৃণমূলের, আমাদের নয়- বলল বিজেপি

রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম দফার ভোট চলাকালে এনডিটিভি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেন ভারতীয় জনতা পার্টির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন।

পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া: দুশ্চিন্তা তৃণমূলের, আমাদের নয়- বলল বিজেপি
এনডিটিভি’র প্রধান সম্পাদকের সঙ্গে বিজেপি নেতা নীতিন নবীন। ছবি: এনডিটিভি

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 Apr 2026, 07:49 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:28 PM

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কোনও উদ্বেগ নেই বলে জানিয়েছেন দলটির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। 

বৃহস্পতিবার রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট চলাকালীন এনডিটিভি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এই রাজ্যে অবৈধ অভিবাসন একটি বড় রাজনৈতিক বিষয়। ভোটে প্রধান বিষয়ই হয়ে দাঁড়িয়েছে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্ক। এমনটি ভারতে গণতন্ত্রের দীর্ঘ ইতিহাসে কখনও ঘটেনি।

নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়ায় এবার ভোটার তালিকায় ২৭ লাখ মানুষের নাম বাদ পড়েছে। এ প্রসঙ্গে এনডিটিভি-র এডিটর-ইন-চিফ রাহুল কানওয়ালকে নীতিন নবীন বলেন, “দেখুন, যদি কারো মনে দুশ্চিন্তা থাকে, তবে তা তৃণমূল কংগ্রেসেরই থাকার কথা। 

“কাদের বিপদ বেশি তা আপনারা বুঝতেই পারছেন। আমাদের কোনও উদ্বেগ নেই।”

নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণের সমালোচনা:

‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কঠোর সমালোচনা করেছেন বিজেপি প্রধান। 

তিনি বলেন, “বাংলা একটি সীমান্ত এলাকা। স্থানীয় কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই নির্বাচন কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 

“কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি খেলা খেলছেন... আমি বিশ্বাস করি এই সিদ্ধান্ত বাংলার মানুষের উপকারে আসবে।”

অনুপ্রবেশের প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আমরা কি বাংলাদেশ থেকে আসা লোকদের ভোট দেওয়ার অধিকার দেব?”

তৃণমূলের অভিযোগ ও বিজেপি’র পাল্টা যুক্তি:

মুখ্যমন্ত্রী মমতা নির্বাচনের আগে থেকেই 'এসআইআর' নিয়ে মামলা ঠুকে নির্বাচন কমিশনারকে 'বিজেপির দালাল' অভিহিত করে প্রকাশ্য সংঘাতে নেমেছিলেন। 

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মমতার দল তৃণমূলের তোলা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বিজেপি’র সর্বভারতীয় সভাপতি নবীন বলেন, এই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি সবাইকে তাদের বক্তব্য পেশ করার সুযোগ দেয়, যেমনটা বিহারের ক্ষেত্রেও হয়েছিল। 

তালিকায় নাম না থাকা ২৭ লাখ মানুষের বিষয়ে তিনি বলেন, “তাদের কি সুযোগ দেওয়া হয়নি? এটি নজরে রাখা কি রাজ্য সরকারের দায়িত্ব ছিল না? 

“কিন্তু রাজ্য সরকার কর্তৃপক্ষকে বাধা দিয়েছে এবং সমস্যা তৈরি করেছে। তামিলনাড়ু, কেরালা এবং অন্যান্য রাজ্যেও নির্বাচন হচ্ছে, সেখানে তো কোনো সমস্যা নেই।”

এসআইআর-এর ফলে মতুয়া সম্প্রদায়ের মতো বিজেপির নিজস্ব ভোটব্যাংকের ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, লাভ-ক্ষতি বিবেচনা করা এখানে অপ্রাসঙ্গিক। 

কারণ, এটি নির্বাচন কমিশনের একটি প্রক্রিয়া যেখানে স্থানীয় কর্মকর্তারা কাগজপত্র যাচাই করেন। তিনি অভিযোগ করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অধীনেই বাংলার সরকারি কলকবজার প্রকৃত অপব্যবহার হয়েছে।

ওদিকে, মঙ্গলবার প্রথম দফার নির্বাচনে দুপুর ১টা পর্যন্ত ৬২.১৮ শতাংশ ভোট পড়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে ভোটের দিনও বিভিন্ন জায়গা থেকে সহিংসতার খবর এসেছে। 

মুর্শিদাবাদের নওদা বিধানসভা কেন্দ্রের শিবনগর গ্রামে তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে হুমায়ুন কবিরের সমর্থকদের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। 

সেখানে তৃণমূল কর্মীরা হুমায়ুন কবিরকে লক্ষ্য করে ‘গো ব্যাক’ স্লোগানও দেন। তবে নীতিন নবীনের  মতে, আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবার সহিংসতার হার অনেক কম।