Published : 27 Nov 2025, 08:34 PM
পোপ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাস পর প্রথম বিদেশ সফরে তুরস্কে পৌঁছেছেন পোপ চতুর্দশ লিও।
আগামী ছয় দিনের মধ্যে তুরস্কের পর লেবাননও সফর করবেন তিনি।
ইসরায়েল এ সপ্তাহেই লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হামলা চালিয়েছে। পোপ লিও তার মধ্যেই দেশটিতে সফরের পরিকল্পনা করেছেন বলে জানিয়েছে ভ্যাটিকান।
লেবানন সফরের আগে তুরস্ক সফরকালে আঙ্কারা, ইস্তাম্বুল এবং ইজনিক শহর সফর করবেন পোপ। সফর শুরু হবে তুরস্কর প্রতিষ্ঠাতা মুস্তফা কামাল আতাতুর্কের সমাধি ‘আনিতকাবির’-এ শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে।
এরপর ব্লু মসজিদসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন শহর ও ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থান পরিদর্শন করবেন তিনি।
তারপর প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এরদোয়ানের সঙ্গে তুরস্ক-ভ্যাটিকান সম্পর্ক এবং ফিলিস্তিন পরিস্থিতি-সহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে পোপ আলোচনা করবেন।
সফরকালে তিনি ভাষণও দেবেন। তাছাড়া, শুক্রবার ইস্তাম্বুলের সেন্ট এস্পিরিট ক্যাথেড্রালে খ্রিস্টান ধর্মযাজকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং ইজনিক শহরে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
তুরস্ক মূলত মুসলিম-প্রধান দেশ হলেও পোপ লিও দেশটিতে সফরে গেছেন ভিন্ন কারণে। তুরস্কে পোপ যোগ দেবেন নিসিয়ার কাউন্সিলের ১,৭০০তম বার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে।
খ্রিষ্টধর্মের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নিসিয়া কাউন্সিল গঠন। এই কাউন্সিলেই রচিত হয়েছিল খ্রিষ্টধর্মের মূল বিশ্বাসনামা ‘নিসিন ক্রিড’, যা এখনও ক্যাথলিক, অর্থডক্সসহ বিভিন্ন গির্জায় পাঠ করা হয়।
পোপ লিও তার প্রথম এই বিদেশ সফরে ঐক্য ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের শান্তি-সম্প্রীতিতে বসবাসের বার্তা প্রচার করবেন। খ্রিষ্টান ঐক্য ও আন্তঃধর্মীয় সংলাপও জোরদার করবেন তিনি।
তুরস্কে সফরে রওনা দেওয়ার শুরুতেই পোপ লিও বলেছিলেন, “বিশ্বজুড়ে শান্তি কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা ঘোষণা করা এবং শান্তির এই বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার আশা করছি আমরা। সব মানুষকে একত্রিত হয়ে বৃহত্তর ঐক্য ও সম্প্রীতির পথ খোঁজার আহ্বানও আমরা জানাব।”
ইতালীয় শিক্ষাবিদ ও গির্জার ইতিহাসবিদ মাসিমো ফাগিওলি বলেছেন, “পোপের এই সফর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আমরা এখনও পোপ লিও’র ভূরাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়ে বিশেষ কিছু জানি না।
তার দৃষ্টিভঙ্গি পরিস্কার করে জানানোর এটাই প্রথম বড় ধরনের একটি সুযোগ।” পোপ ফ্রান্সিসের মৃত্যুর পর গত মে মাসে নতুন পোপ নির্বাচিত হয়েছিলেন পোপ চতুর্দশ লিও।
তিনি নির্বাচিত হওয়ার আগে বিশ্বমঞ্চে খুব একটা পরিচিত ছিলেন না। পোপ লিও একজন মিশনারি হিসাবে দশকের পর দশক পেরুতে ছিলেন। ২০২৩ সালে তিনি ভ্যাটিকানের কর্মকর্তা হন।