১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

৭ পাকিস্তানি সেনা ‘কব্জায়’, এক সপ্তাহের আলটিমেটাম বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের

তাদের দাবি ও আলটিমেটাম প্রসঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে পাকিস্তান সরকার বা সামরিক বাহিনীর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

৭ পাকিস্তানি সেনা ‘কব্জায়’, এক সপ্তাহের আলটিমেটাম বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের
৭ পাকিস্তানি সেনা ‘কব্জায়’ আছে বলে বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দাবি যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ছবি: এনডিটিভি

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 16 Feb 2026, 03:30 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:57 PM

বেলুচিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বালুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর ৭ সদস্য তাদের হেফাজতে আছে বলে দাবি করেছে এবং বন্দি বিনিময়ে সাতদিনের আলটিমেটাম দিয়ে বলেছে, এ সময়ের মধ্যে আলোচনা শুরু না হলে আটকদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে।

বিএলএ-র গণমাধ্যম শাখা হাক্কাল থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ আলটিমেটামের কথা জানানো হয়েছে। সঙ্গে এক ভিডিও বার্তাও প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে বিচ্ছিন্নবাদী এ গোষ্ঠীটি আলটিমেটাম শেষ হওয়ার আর ছয়দিন বাকি আছে বলে জানিয়েছে। 

তাদের হাতে ৭ পাকিস্তানি সেনা আদৌ আছে কিনা, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করে নিশ্চিত হতে পারেনি এনডিটিভি। বিএলএ-র দাবি ও আলটিমেটাম প্রসঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে পাকিস্তান সরকার বা সামরিক বাহিনীর কোনো কর্মকর্তার প্রতিক্রিয়াও পাওয়া যায়নি। 

বিএলএ বলছে, তাদের ‘হেরফ অভিযানের’ দ্বিতীয় পর্বে এদের আটক করা হয়।

অভিযানে বিভিন্ন জায়গা থেকে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী সংশ্লিষ্ট মোট ১৭ জনকে আটক করা হয়েছিল; কিন্তু জাতিগতভাবে বালুচ হওয়ায় ও স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকায় ১০ জনকে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়, বলছে তারা। 

‘মাঠের পরিস্থিতি’, স্থানীয় হওয়ায় এবং বালুচ জনগোষ্ঠীর স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে এ ১০ জনকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ভাষ্য বিএলএ-র। 

তারা বলছে, আটক বাকি ৭ জন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নিয়মিত ইউনিটের সদস্য। এই ৭ জন এখনও তাদের হেফাজতে রয়েছে এবং ‘বালুচ ন্যাশনাল আদালতে’ তাদের বিচার সম্পন্ন হয়েছে। 

বিচারকালে আটককৃতদের বিরুদ্ধে বেসামরিক লোকজনের বিরুদ্ধে অপরাধ, জোরপূর্বক গুমে সহায়তা বা উস্কানি এবং বালুচ জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে চালানো ‘গণহত্যায়’ অংশ নেওয়াসহ নানান অভিযোগ আনা হয়। প্রমাণ উপস্থাপনের পাশাপাশি বিচারে অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয় এবং তারা যে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও রেকর্ড করা হয়, বিবৃতিতে বলেছে বিএলএ।  

“বালুচ লিবারেশন আর্মি মনে করে, এমনকি যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও নীতি নৈতিকতা, নিয়মকানুন ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধ থাকে। এখন সিদ্ধান্ত দখলদার পাকিস্তানি রাষ্ট্রের হাতে, তারা কি তাদের সেনাদের জীবন বাঁচাতে গুরুতর পদক্ষেপ নেবে নাকি প্রায়শই তারা যা করে, ভাড়া করা কর্মীদের মৃত্যুতে নীরবতা ও উদাসীনতার পথ বেছে নেয়, সেটা করবে, তা পুরোটাই তাদের ব্যাপার,” বলা হয়েছে বিএলএর বিবৃতিতে।

বিচ্ছিন্নতাবাদী এ গোষ্ঠীটি জানায়, আটক ৭ পাকিস্তানি সেনা দোষী সাব্যস্ত হয়েছে এবং তাদের মৃত্যুদণ্ডের রায়ও ঘোষিত হয়েছে। তবু তারা পাকিস্তানকে ৭ দিনের সময় দিয়েছে। 

এ সময়ের মধ্যে পাকিস্তান যদি ‘যুদ্ধ বন্দি বিনিময়ে’ আগ্রহ দেখায় তাহলে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের হাতে আটক বালুচ বন্দিদের মুক্তির বিনিময়ে এই ৭ জনকে ফেরত দেওয়া হতে পারে। 

এর আগেও একাধিকবার এ ধরনের বন্দি বিনিময়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল জানিয়ে বিএলএ বলছে, পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ কখনোই এ ধরনের আলোচনায় রাজি হয়নি, তারা শেষ পর্যন্ত তাদের ‘সেনাদের প্রাণকে উপেক্ষা করেছে’।

বিএলএ পাকিস্তানে নিষিদ্ধ। দেশটির সরকার বিচ্ছিন্নতাবাদী এ গোষ্ঠীকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে দেখে। পাকিস্তান ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ আরও কয়েকটি দেশ তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে।