Published : 09 Feb 2026, 09:45 PM
উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং যে কোনও সময় হামলা হওয়ার আশঙ্কার মুখে দীর্ঘ ৩৭ বছরের পুরনো রীতি ভেঙেছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিমান বাহিনীর কমান্ডারদের সঙ্গে বার্ষিক বৈঠকে তিনি অংশ নেননি। অথচ ১৯৮৯ সালে নেতৃত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রতি বছরই এই বৈঠকে খমেনি উপস্থিত থাকতেন।
এমনকি কোভিড-১৯ মহামারীর সময়েও তিনি এই দায়িত্ব পালন করেছিলেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ইরান ইন্টারন্যাশনাল।
বার্ষিক এই বৈঠক ইরানের ‘এয়ার ফোর্স ডে’ হিসেবে চিহ্নিত। ১৯৭৯ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বিমানবাহিনীর একদল কর্মকর্তা ইসলামি বিপ্লবের স্থপতি আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির আনুগত্য স্বীকার করেছিলেন।
সেই ঐতিহাসিক দিনটিকে স্মরণ করেই প্রতি বছর এই প্রতীকী বৈঠক আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ চার দশক ধরে ইরানের বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা ও কমান্ডাররা ৮ ফেব্রুয়ারিতে দেশের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করে আসছেন।
তবে এ বছর ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনির পরিবর্তে সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আবদোলরহিম মুসাভি বিমানবাহিনী প্রধানদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
খামেনির এই অনুপস্থিতি এমন সময়ে ঘটল যখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর হুশিয়ারি এবং ইরান উপকূলের কাছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি বাড়ার কারণে খামেনি জনসমক্ষে আসা এড়িয়ে চলছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সম্প্রতি তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র এবার হামলা চালালে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়বে। এর আগে ২০২৫ সালের জুনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে হওয়া ১২ দিনের যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপণাগুলোতে হামলা চালিয়েছিল।
এবার ট্রাম্প গত ডিসেম্বরে ইরানে ব্যাপক সরকার বিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই দেশটিতে হস্তক্ষেপ করার হুমকি দিয়ে আসছেন।
সম্প্রতি তিনি ইরানের পামাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সতর্ক করে বলেছিলেন, তেহরান দ্রুতই এ বিষয়ে চুক্তিতে না পৌঁছলে আগের চেয়ে আরও ভয়াবহ হামলা চালানো হবে।
তখন থেকেই ইরানের কাছাকাছি অঞ্চলে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে ওয়াশিংটন। জানুয়ারির শেষ দিকে আরব সাগরে বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
জর্ডানের একটি বিমানঘাঁটিতে এক ডজন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান এবং ঘাতক এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন মোতায়েন করার খবরও পাওয়া গেছে।
স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, লোহিত সাগর ও উপসাগরীয় অঞ্চলের আকাশসীমায় মার্কিন নজরদারি ড্রোন ও রণতরীগুলো সক্রিয় রয়েছে।