০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

বেইজিংয়ে বন্যায় এক নার্সিং হোমেই নিহত ৩১

এ ঘটনার পর ‘জরুরি উদ্ধার পরিকল্পনায় দুর্বলতা’ থাকার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।

বেইজিংয়ে বন্যায় এক নার্সিং হোমেই নিহত ৩১
বন্যার পানিতে প্লাবিত নার্সিং হোমে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন জরুরি বিভাগের কর্মীরা। ছবি: বিবিসি

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Aug 2025, 11:55 AM

Updated : 26 Aug 2026, 01:29 PM

চীনে গত কয়েকদিন ধরে দেখা দেওয়া ভয়াবহ বন্যা বেইজিংয়ের উপকণ্ঠের এক বয়স্ক পরিচর্যা কেন্দ্রের ৩১ সদস্যের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। 

ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, মিয়ুন জেলার ওই বাড়িতে আটকে থাকাদের বের করে আনার চেষ্টায় জরুরি পরিষেবার কর্মীদের বুক সমান পানিতে সাঁতরাতে হচ্ছে। যারা মারা গেছেন তাদের বেশিরভাগই চলাফেরায় অক্ষম ছিলেন বলেও জানা গেছে। 

এ ঘটনার পর ‘জরুরি উদ্ধার পরিকল্পনায় দুর্বলতা’ থাকার কথা স্বীকার করে নিয়ে স্থানীয় কর্মকর্তারা বলেছেন, এই ঘটনা একটি ‘বেদনাদায়ক শিক্ষা’ যা সবাইকে ‘সতর্কবার্তা দিয়েছে’।  

চীনজুড়ে গ্রীষ্মকালীন দুর্যোগের মধ্যে কেবল বেইজিংয়ে বন্যায় ৪৪ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। 

জুলাইয়ের শুরুতে চীনের পূর্বাঞ্চলে রেকর্ড তাপপ্রবাহ দেখা গেছে, ওদিকে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিম ভুগেছে বন্যায়। 

বন্যা আঘাত হানার সময় নার্সিং হোমটির ভেতরে ৭৭ জন বৃদ্ধ ছিলেন; তাদের মধ্যে ৪০ জনই প্রায় ৬ ফুট পর্যন্ত উঠে যাওয়া বন্যার পানিতে আটকা পড়েন, জানিয়েছে চীনা গণমাধ্যমগুলো।

তাইশিতুন এলাকায় অবস্থিত ওই পরিচর্যা কেন্দ্রটি প্রধানত গুরুতর প্রতিবন্ধী, স্বল্প আয়ের মানুষ ও জীবনযাপনের জন্য যৎসামান্য ভাতা পাওয়া বৃদ্ধদের সেবা দেয় বলে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। 

“দীর্ঘদিন ধরে, নার্সিং হোমটি শহরের যে এলাকায় অবস্থিত, সেই মধ্যাঞ্চল নিরাপদ বলে বিবেচিত হয়ে এসেছে, যে কারণে লোক সরিয়ে নিতে হবে এমন জায়গার তালিকায় একে রাখা হয়নি। 

“আমাদের জরুরি পরিকল্পনায় যে দুর্বলতা আছে তা এতেই বোঝা যাচ্ছে। চরম আবহাওয়া নিয়ে আমাদের বোঝাপড়া অপর্যাপ্ত, এই বেদনাদায়ক শিক্ষা একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে,” বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই বলেছেন চীনের এক কর্মকর্তা। 

কাছাকাছি হেবেই প্রদেশে ভারি বৃষ্টিপাতজনিত কারণে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। চেংদে শহরে আরও ৮ মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, ১৮ জন এখনও নিখোঁজ। 

চীনে গ্রীষ্মকালীন মাসগুলোতে বেইজিংয়ে প্রায়ই বন্যা দেখা যায়। ২০১২ সালের জুলাইয়ে শহরটিতে একদিনেই ১৯০ মিলিমিটার বৃষ্টি পড়েছিল; সেবার প্রাণঘাতী বন্যা ৭৯ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল। 

এবারের গ্রীষ্মে চীনের বিস্তৃত এলাকাজুড়ে বন্যা দেখা যাচ্ছে। 

জুলাইয়ের শুরুতে টাইফুন উইফা চীনের পূর্বাঞ্চলে আঘাত হানলে শ্যাংডংয়ে দুই জনের মৃত্যু ও ১০ জন নিখোঁজ হয়, তার দুই সপ্তাহ আগে দেশটির দক্ষিণ পশ্চিমের ইয়ায়ানে ভূমিধসে প্রাণ যায় তিনজনের।

বিশেষজ্ঞরা চীনের এ চরম আবহাওয়ার পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের দায় দেখছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাড়তে থাকা প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেশটির বাসিন্দা ও অর্থনীতি, বিশেষ করে লাখো কোটি ডলারের কৃষিখাতের জন্য ক্রমশ হুমকি হয়ে উঠছে।

চলতি বছরের প্রথম ভাগে হওয়া প্রাকৃতিক দুর্যোগে চীনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৫ হাজার ৪১১ কোটি ইউয়ানে (৭৫০ কোটি ডলার) দাঁড়িয়েছে বলে জুলাইয়ের প্রথমে জানিয়েছিল দেশটির জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়। 

ক্ষয়ক্ষতির ৯০ শতাংশই হয়েছে বন্যার কারণে, বলেছিল তারা।