Published : 12 Nov 2025, 12:30 PM
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখওয়া প্রদেশের ওয়ানা শহরে একটি ক্যাডেট কলেজে হামলাকারী পাঁচ সন্ত্রাসীর সবাই নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত হয়েছেন বলে খবর হয়েছে।
প্রদেশটির দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তান জেলার এ ক্যাডেট কলেজটিতে হামলার ঘটনা ঘটে সোমবার।
পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগের (আইএসপিআর) দেওয়া তথ্যের বরাতে ডন জানিয়েছে, ওই দিন সন্ত্রাসীরা কলেজটির মূল গেইটে বিস্ফোরক ভর্তি একটি গাড়ি দিয়ে সজোরে আঘাত হানে, এরপর তারা ভেতরে প্রবেশ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক ভবনে অবস্থান নেয়। কিন্তু নিরাপত্তা বাহিণীর পাল্টা অভিযানে সেখানে আটকা পড়ে।
নিরাপত্তা বাহিনী মঙ্গলবার দিনভর ওই ভবনটিতে লুকিয়ে থাকা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যায়।
বুধবার ভোররাতে নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েকটি সূত্র ডনকে জানায়, সফল অভিযান এক আত্মঘাতী হামলাকারী ও আরও চার সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন। এই হামলাকারীরা নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবানের (টিটিপি) সদস্য বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হামলাকারীরা সেখানে স্থল মাইন পেতে রাখতে পারে, এমন সন্দেহে নিরাপত্তা বাহিনী কলেজ ভবনটিতে ক্লিয়ারেন্স অভিযান চালাচ্ছে।
অভিযান চলাকালে ক্যাডেট কলেজের কোনো শিক্ষার্থী বা শিক্ষক আঘাত পাননি বলে জানিয়েছেন ওই সূত্রগুলো।
পাকিস্তানের স্থানীয় সময় মধ্যরাতের কিছুক্ষণ পরে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জিও নিউজকে জানান, কলেজটির ৫৫০ জন শিক্ষার্থীকে নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, ক্যাডেট কলেজে এই হামলার ঘটনাটি ২০১৪ সালে পেশোয়ারে আর্মি পাবলিক স্কুলে জঙ্গিদের চালানো ভয়াবহ হামলার চেয়েও বড় ঘটনা হতে পারতো।
তিনি বলেন, “দৃঢ় সংকল্প ও দক্ষতার সমন্বয়ে পরিচালিত সফল অভিযানে শিক্ষার্থীদের প্রাণ বাঁচানো গেছে। এটি একটি কঠিন কাজ ও স্পর্শকাতর অভিযান ছিল।”
তিনি জানান, ওয়ানার হামলার ঘটনার পাশাপাশি মঙ্গলবার ইসলামাবাদে হওয়া আত্মঘাতী হামলা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে।
“হামলাগুলোর বিষয়ে সুর্নিদিষ্ট প্রমাণ বন্ধু দেশে ও আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোর সঙ্গে শেয়ার করা হবে,” বলেছেন তিনি।
মঙ্গলবার ওয়ানার ডিএইচকিউ হাসপাতাল জানিয়েছিল, ক্যাডেট কলেজের গেইটে গাড়িবোমা বিস্ফোরণে নিকটবর্তী একটি স্থাপনা ধসে নারী ও শিশুসহ নয়জন বেসামরিক আহত হয়। তাদের সবাইকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট ‘বিদেশি মদতপুষ্ট’ সন্ত্রাসবাদের নিন্দা করেছেন।