Published : 29 Jun 2025, 12:07 PM
পাকিস্তানের চারটি প্রদেশে গত দুই দিনে ভারি বৃষ্টিতে সৃষ্ট হঠাৎ বন্যায় ও ঘরবাড়ি ধসে অন্তত ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে, জানিয়েছে জরুরি বিভাগের কর্মকর্তারা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।
উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুখওয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (পিডিএমএ) জানিয়েছে, সেখানে শুক্রবার বৃষ্টিজনিত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যুর পর শনিবার আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রদেশটির চারসাদ্দা এলাকায় প্রবল বৃষ্টির মধ্যে ওপর থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে গিয়ে এক ব্যক্তি ভেসে যায়। পরে জরুরি বিভাগের কর্মীরা নদীর আরেকটি অংশ থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করেন।
শাংলা অঞ্চলের ঢোক এলাকায় ভারি বৃষ্টির মধ্যে ভূমিধসে এক নারীর মৃত্যু হয়।
পিডিএমএ জানিয়েছে, ভারি বৃষ্টিতে প্রদেশটিতে ছয়টি বাড়ি পুরোপুরি ধসে পড়েছে এবং ৫০টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পাঞ্জাব
শনিবার প্রদেশটিতে ভারি বৃষ্টির মধ্যে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় তিনটি শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে আর আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০ জন।
পাঞ্জাবের জরুরি বিভাগের মুখপাত্র ফারুক আহমেদ জানিয়েছেন, অধিকাংশ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে প্রবল বৃষ্টির মধ্যে ঘরবাড়ির ছাদ ধসে। আহতদের সবাইকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের সবার অবস্থা স্থিতিশীল আছে।
বেলুচিস্তান
শনিবার প্রদেশটির যহোব এলাকায় এক পরিবারের তিন নারী ও একটি বালিকা হড়কা বানে ভেসে যান। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিবারটি কোয়েটা থেকে মুলতান যাচ্ছিল। পথে যহোব এলাকার একটি পিকনিক স্পটে তারা যাত্রাবিরতি করেন।
এ সময় ওই এলাকায় একটি বিশাল পাহাড়ি ঢল নেমে আসে আর পরিবারটির ছয় সদস্য পানির স্রোতের সঙ্গে ভেসে যান।
আধা সামরিক বাহিনীর সদস্যরা ও উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা তাদের মধ্যে এক নারী ও তাদের গাড়ি চালককে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন, কিন্তু বাকিরা পানির প্রবল তোড়ে হারিয়ে যান। পরে তাদের লাশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
সিন্ধু
প্রদেশটির করাচি শহরে শনিবার প্রবল বৃষ্টির মধ্যে পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয়। এদের মধ্যে দুইজনের মৃত্যু হয় ঘরের ছাদ ধসে ও অপর দুজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
রোববার থেকে সোমাবার পর্যন্ত পাকিস্তানের বিভিন্ন অংশে ভারি বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে আর এ সময় হিমবাহগুলোর হ্রদের পানি উপচে বন্যা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিএমএ) । পাশাপাশি হড়কা বান, ভূমিধস ও প্রবল বৃষ্টিতে শহরগুলোর বিভিন্ন অংশ তলিয়ে যেতে পারে বলেও কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে।