Published : 17 Mar 2026, 03:48 PM
সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন মিত্র আরব দেশগুলোর ওপর মঙ্গলবার নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইরান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এই ধরনের আক্রমণকে ‘অপ্রত্যাশিত’ বলে দাবি করলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর আগেই তাকে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের এই যুদ্ধ এখন তৃতীয় সপ্তাহে পদার্পণ করেছে। সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ দেখা না যাওয়ায় এবং কৌশলগত ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ হয়ে থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়ছে, যা বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা তীব্র করছে।
মঙ্গলবারও দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত ছিল। রাতভর ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তেহরান। এতে প্রমাণিত হয় যে, গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যাপক বোমাবর্ষণের পরেও ইরানের দূরপাল্লার আঘাত হানার সক্ষমতা এখনও অক্ষুণ্ণ রয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা তেহরানজুড়ে ‘ইরানি শাসনব্যবস্থার অবকাঠামো’ এবং বৈরুতে হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে নতুন দফায় বিমান হামলা চালাচ্ছে।
অন্যদিকে, ইরাকি নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোরে বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে রকেট এবং অন্তত পাঁচটি ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এটিই সেখানে সবচেয়ে তীব্র হামলা।
`আমরা স্তব্ধ’
ইরান আবার সংযুক্ত আরব আমিরাতকে লক্ষ্যস্থল করেছে। আমিরাতের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র ফুজাইরাহ বন্দরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
আমিরাত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আবুধাবিতে ভূপাতিত একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে এক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হয়েছে। এছাড়া শাহ গ্যাসক্ষেত্রে ড্রোন হামলায় লাগা আগুন নেভাতে কাজ করছে দমকল বাহিনী।
কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোতে ইরানের এই হামলাকে ‘বিস্ময়কর’ বলে অভিহিত করেছেন ট্রাম্প। সোমবার তিনি বলেন, “তাদের (ইরান) অন্য দেশগুলোর পেছনে লাগার কথা ছিল না। কেউ এটি আশা করেনি। আমরা স্তব্ধ হয়ে গেছি।”
তবে মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে আক্রমণ করলে তারা যে উপসাগরীয় মার্কিন মিত্রদের ওপর পাল্টা হামলা চালাবে, সেই সতর্কবার্তা ট্রাম্পকে আগেই দেওয়া হয়েছিল।
গোয়েন্দা ব্রিফিংয়ে তাকে জানানো হয়েছিল যে, তেহরান একে একটি আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ দিতে পারে এবং বিশেষ করে যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযানকে সমর্থন দিচ্ছে, তাদের রাজধানীতে হামলা চালাতে পারে।
হরমুজ সংকটে মিত্রদের অনীহা
বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহকারী হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকার পাহারার জন্য যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর মার্কিন দাবি ফিরিয়ে দিয়েছে বেশ কিছু পশ্চিমা মিত্র। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্প তাদের ‘অকৃতজ্ঞ’ বলে অভিহিত করেছেন।
জার্মানি, স্পেন, ইতালি, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে যে, ওই প্রণালীতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর কোনো আশু পরিকল্পনা তাদের নেই।
বার্লিনে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেরৎস বলেন, “বুনিয়াদি আইন অনুযায়ী জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা নেটোর পক্ষ থেকে কোনো অনুমোদন আমাদের নেই।”
তিনি আরও যোগ করেন যে, যুদ্ধ শুরুর আগে ওয়াশিংটন বা ইসরায়েল জার্মানির সাথে কোনো আলোচনা করেনি।
অর্থনীতিতে অস্থিরতা
মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকরা এখন ‘স্ট্যাগফ্লেশন’ বা মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কায় রয়েছেন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় অস্ট্রেলিয়ার রিজার্ভ ব্যাংক ইতোমধ্যে সুদের হার বাড়িয়েছে। ক্যাপিটাল ইকোনমিক্সের অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন যে, ভূ-রাজনৈতিক এই পরিস্থিতি বর্তমান সংকটকে আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে।
আরও পড়ুন:
মিত্ররা হরমুজ নিয়ে সাহায্যের আহ্বানে সাড়া না দেওয়ায় হতাশ ট্রাম্প