১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

ফ্রান্সের নির্বাচনের প্রথম পর্বে কট্টর ডানপন্থিদের ঐতিহাসিক জয়

যদি দ্বিতীয় পর্বের ভোটে জিতে আরএনের ক্ষমতায় যাওয়ার পথ সুগম হয় তাহলে জগদান বাগদেলা হবেন ফ্রান্সের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী।

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Jul 2024, 06:53 PM

Updated : 26 Aug 2026, 09:54 AM

ফ্রান্সের পার্লামেন্ট নির্বাচনের প্রথম পর্বে অভিবাসনবিরোধী ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সমালোচক মারিন লু পেনের কট্টর ডানপন্থি দল ন্যাশনাল র‌্যালি (আরএন) জয়ী হয়ে ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছে।   

তবে নির্বাচনের দুই পর্ব মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত আরএন জয় পাবে কি না, তা আগামী সপ্তাহের রান-অফ ভোটের আগের দিনগুলোতে হতে যাওয়া রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। 

সোমবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক ফলাফলে দেখা গেছে, রোববারের ভোটে আরএন ও এর মিত্ররা ৩৪ শতাংশ ভোট পেয়েছে, ২৮ শতাংশ ভোট পেয়ে তাদের পরেই আছে বামপন্থিদের জোট নিউ পপুলার ফ্রন্ট (এনএফপি) আর প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁর মধ্যপন্থি টুগেদার অ্যালায়েন্স পেয়েছে মাত্র ২০ শতাংশ ভোট। 

কট্টর ডানপন্থি দল ন্যাশনাল র‌্যালির (আরএন) নেত্রী মারিন লু পেন। ছবি: রয়টার্স 

কট্টর ডানপন্থি দল ন্যাশনাল র‌্যালির (আরএন) নেত্রী মারিন লু পেন

এ ফলাফল প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁর জন্য একটি বড় ধরনের বিপর্যয়। চলতি মাসের প্রথমদিকে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট নির্বাচনে তার মনোনীত প্রার্থীরা আরএনের প্রার্থীদের কাছে পরাজিত হওয়ার পর আগাম এ নির্বাচনের ডাক দিয়েছিলেন মাক্রোঁ। কিন্তু স্বাভাবিক নিয়মে ২০২৭ সালের আগে ফ্রান্সে পার্লামেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল না আর এ নিয়ে মিত্ররা মাক্রোঁর ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে আছে। 

এ ফলাফল লু পেনের আরএনের সমর্থকদের মাঝে আনন্দের স্রোত বইয়ে দিয়েছে, তারা নেচে গেয়ে উল্লাস করছেন। 

তবে আগামী রোববারের রান-অফ ভোটের পর কট্টর ডানপন্থি আরএন ইউরোপন্থি প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁর সঙ্গে সহাবস্থান করে সরকার গঠনে সক্ষম হবে কি না, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।   

ফ্রান্সের অনেকের কাছে বহুদিন ধরে অচ্ছুৎ হয়ে থাকা আরএন আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন ক্ষমতার সবচেয়ে কাছাকাছি আছে। যে দলটি বর্ণবাদ ও ইহুদিবিদ্বেষের জন্য পরিচিত সেই আরএনের ভাবমূর্তি এখন স্বচ্ছ করার কথা বলছেন লু পেন, তার এই কৌশল ব্যয়বহুল জীবনযাত্রা ও অভিবাসী নিয়ে মাক্রোঁর ওপর বিরক্ত ভোটারদের ক্ষেত্রে কাজে দিয়েছে।   

কট্টর ডানপন্থি দল ন্যাশনাল র্যালির (আরএন) নেত্রী মারিন লু পেনের হর্ষোৎফুল্ল সমর্থকরা। ছবি: রয়টার্স

কট্টর ডানপন্থি দল ন্যাশনাল র্যালির (আরএন) নেত্রী মারিন লু পেনের হর্ষোৎফুল্ল সমর্থকরা

আগামী সপ্তাহে আরএন জয়ী হয়ে ক্ষমতায় যাবে কি না, তা নির্ভর করছে মধ্যবর্তী দিনগুলোতে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিরা কী রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছায় তার ওপর। অতীতে আরএনকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে মধ্য-ডান ও মধ্য-বামপন্থি দলগুলো জোট বেঁধেছিল। 

রোববার রাতে বামপন্থি নিউ পপুলার ফ্রন্ট ও মাক্রোঁর টুগেদার অ্যালায়েন্সের নেতারা পরিষ্কার করে জানিয়ে দেন, আগামী রোববারের রান-অফে আরএনকে হারাতে যে জেলাগুলোতে তাদের দুই জোট ভুক্ত অন্য দলের প্রার্থী ভালো অবস্থানে রয়েছেন তার সমর্থনে তারা নিজ নিজ প্রার্থী প্রত্যাহার করে নেবেন।    

প্রথম পর্বের ভোটে কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশ ভোট না পেলে শীর্ষে থাকা দুই প্রতিদ্বন্দ্বী স্বয়ংক্রিয়ভাবে দ্বিতীয় পর্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতার যোগ্যতা অর্জন করবেন। তাদের পাশাপাশি যে প্রার্থীদের পক্ষে সাড়ে ১২ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার রয়েছে তারাও দ্বিতীয় পর্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এই পর্বে সবচেয়ে বেশি ভোট পাওয়া প্রার্থীই জয়ী হবেন। 

যদি দ্বিতীয় পর্বের ভোটে জিতে আরএনের ক্ষমতায় যাওয়ার পথ সুগম হয় তাহলে দলটির সভাপতি জগদান বাগদেলা (২৮) হবেন ফ্রান্সের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী।

ফ্রান্সে আরএন নেতৃত্বাধীন সরকার এলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) কোন দিকে যাবে তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠবে। কারণ ইইউয়ের আরও একত্রীকরণে বাধা দেবে তারা। পাশাপাশি তখন ইইউয়ের ব্যয় পরিকল্পনায় তহবিল যোগানো নিয়েও সংকট তৈরি হতে পারে।   

আরও পড়ুন:

বুথ ফেরত জরিপফ্রান্সের নির্বাচনের প্রথম পর্বে কট্টর ডানপন্থিদের জয়

ফ্রান্সে আগাম নির্বাচনইতিহাস গড়ার আশায় কট্টর ডানপন্থিরা