১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

উপসাগরে নতুন ‘নিয়ন্ত্রিত এলাকা’র পরিকল্পনা ইরানের

মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে একটি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার দাবি করেছে ইরান।

উপসাগরে নতুন ‘নিয়ন্ত্রিত এলাকা’র পরিকল্পনা ইরানের
ইরানের বন্দর আব্বাস সৈকতের কাছে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ দেখা যাচ্ছে। ফাইল ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 08 Sep 2026, 11:37 AM

Updated : 17 Sep 2026, 02:56 AM

ইরান আগামী কয়েকদিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নতুন করিডরের মানচিত্রসহ ওমান ও পারস্য উপসাগরে নতুন ‘নিয়ন্ত্রিত এলাকা’ ঘোষণার প্রত্যয় জানিয়েছে। 

রয়টার্স জানিয়েছে, এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য কখন প্রকাশ পাবে তা এখনও পরিষ্কার হয়নি। 

ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটি মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধের’ হুমকি দিয়েছে। তারা মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে একটি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার দাবি করেছে।

সাগরে ‘নিয়ন্ত্রিত এলাকা’

রোববার ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনকে বলেছেন, নতুন নিয়ন্ত্রিত এলাকাটি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ যেখান থেকে শুরু হয়েছে ঠিক সেখানে থেকেই শুরু হয়ে পারস্য উপসাগরের এলাকাগুলো পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এই এলাকায় প্রবেশ করা যেকোনো জাহাজ ইরানের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় স্থান পাবে। 

মঙ্গলবার রেজায়ি এক্স এ ফের যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও সামরিক হুমকি জারি করেন। 

রেজায়ি বলেন, “সম্প্রতি ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র একটি পরিষ্কার সতর্কবার্তা পেয়েছে। পারস্য উপসাগর থেকে নৌ-অবরোধের সীমা পর্যন্ত একটি সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল দিয়ে অর্থনৈতিক যুদ্ধের মোকাবেলা করা হবে। মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও ঘাঁটিগুলোর প্রতি অভিযানের বিষয়টি মৌলিকভাবে পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।” 

রয়টার্স লিখেছে, রেজায়ি সম্ভবত কাসেম বসির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের কথা উল্লেখ করেছেন, যেটি হরমুজ প্রণালির কাছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে ইরান ছুড়েছিল বলে দেশটির দেশটির গণমাধ্যম খবর দিয়েছিল। 

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের যুদ্ধজাহাজগুলো ক্ষেপণাস্ত্র হামলাগুলো এড়িয়ে গেছে।

কাসেম বসির ক্ষেপণাস্ত্র

উন্নত করা হয়েছে, কাসেম বসিরকে এমন একটি ক্ষেপণাস্ত্র বলে প্রচার করেছে ইরান। ক্ষেপণাস্ত্রটির ছুটে চলার ধরনে উন্নয়ন ঘটানোয় এটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা পদ্ধতিকে ফাঁকি দিতে পারবে আর এর নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ইলেকট্রনিক্স যুদ্ধের বিরুদ্ধে কার্যকর বলে দাবি করেছে তারা।

২০২৫ সালে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে এটি প্রথম ব্যবহার করা হয়েছিল বলে ইরানি বার্তা সংস্থা ফার্স  জানিয়েছিল। 

কঠোর অর্থনৈতিক চাপ

নজিরবিহীন অর্থনৈতিক চাপে এবার ইরানকে কোণঠাসা করার পথ ধরেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্ব জ্বালানি বাজার কাঁপানো যুদ্ধ শুরুর ছয় মাস পর তেহরানের বিরুদ্ধে এই কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান জোরদার করেছে ওয়াশিংটন।

দীর্ঘদিন ধরে নানা নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলা করে টিকে থাকলেও, বর্তমানে ইসলামি প্রজাতন্ত্রটি ইতিহাসের অন্যতম কঠোর অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় ইরান উপসাগরে নতুন ‘নিয়ন্ত্রিত এলাকা’ ঘোষণার প্রত্যয় জানিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।