Published : 30 Jul 2026, 05:29 PM
ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে কাতারের গ্যাস রপ্তানি বন্ধ থাকায় গ্রাহকদের সরবরাহ সচল রাখতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৩৩টি স্পট এলএনজি (তরল প্রাকৃতিক গ্যাস) কার্গো কিনেছে কাতার এনার্জি কোম্পানি।
এই কার্গোগুলো মূলত বাংলাদেশ, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান এবং জাপানের মতো কাতারের দীর্ঘমেয়াদি ও গুরুত্বপূর্ণ এশীয় গ্রাহকদের কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে। শিল্প ও বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট চার সূত্র একথা জানিয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার পর কাতার এনার্জি তাদের গ্যাস সরবরাহে ‘ফোর্স মাজার’ বা অনিবার্য পরিস্থিতি ঘোষণা করেছিল।
এর অধীনে চুক্তির বাধ্যবাধকতা থেকে কোম্পানিটি সাময়িক অব্যাহতি পেলেও ক্রেতাদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং বাজারে নিজেদের নির্ভরযোগ্যতা বজায় রাখতে তারা এই বিকল্প ব্যবস্থা নিয়েছে।
গত বছর কাতার এনার্জি যুক্তরাষ্ট্র থেকে মাত্র ৪টি স্পট কার্গো কিনেছিল, যা এ বছর বেড়ে ৩৩টিতে দাঁড়িয়েছে। এই পরিমাণটি ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে কাতারের স্বাভাবিক মাসিক এলএনজি রপ্তানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশের সমান।
কাতারএনার্জির কেনা এই ৩৩টি কার্গোর আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলার। বার্ত সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই জরুরি গ্যাস সরাসরি মার্কিন উৎপাদক ভেনচার গ্লোবাল এলএনজি এবং তাদের গ্রাহকদের কাছ থেকে কেনা হয়েছে।
এই ৩৩টি কার্গোর মধ্যে ২৮টি কার্গো ইতোমধ্যে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং বাকি ৫টি কার্গো বর্তমানে সাগরে পথিমধ্যে রয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনার মধ্যেও এই বিপুল পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের বিশ্লেষকেরা গ্রাহকদের জন্য কাতারের সদিচ্ছার নিদর্শন (গুড উইল জেসচার) হিসেবেই দেখছেন।
এক সূত্র বলেছেন, "কাতার এনার্জি তাদের গুরুত্বপূর্ণ কিছু গ্রাহকের প্রতি সদিচ্ছার নিদর্শন হিসেবে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। কারণ, সাধারণত কাতারের এলএনজি চালানের প্রায় ৮০ শতাংশই এশিয়ার ক্রেতাদের কাছে রপ্তানি করা হয়।"
"কাতার এনার্জি গ্রাহকদের দেখাতে চেয়েছে যে, তারা গ্রহকদেরকে মূল্যায়ন করে এবং তাদের সরবরাহ বজায় রাখতে সহায়তা করার চেষ্টা করেছে,” বলেন আরেক সূত্র।