১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

ড্রোন হামলায় লিবিয়ার বৃহত্তম তেল শোধনাগারে ভয়াবহ আগুন

ভিডিও ফুটেজে জাওয়িয়া শোধনাগারের ওপর আগুনের শিখা ও কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলি দেখা গেছে। কোনও পক্ষ এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।

ড্রোন হামলায় লিবিয়ার বৃহত্তম তেল শোধনাগারে ভয়াবহ আগুন
ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 Aug 2026, 11:49 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:49 PM

লিবিয়ার জাওয়িয়া তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের হামলা হতে থাকলে শোধনাগারের কাজ স্থগিত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির জাতীয় তেল সংস্থা (এনওসি)। 

তবে অগ্নিকাণ্ডে গুরুতর কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে স্থানীয় জরুরি সেবা বিভাগ। কাতারের সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার যাচাই করা ভিডিও ফুটেজে জাওয়িয়া শোধনাগারের ওপর আগুনের বিশাল শিখা ও কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে। 

রাজধানী ত্রিপোলি থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এই কেন্দ্রটি লিবিয়ার সর্ববৃহৎ সক্রিয় শোধনাগার, যার দৈনিক তেল শোধন সক্ষমতা ১ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল।

জরুরি সেবা বিভাগ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানায়, ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। ধোঁয়ার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়া কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে দেওয়া বিবৃতিতে লিবিয়ার জাতীয় তেল সংস্থা (এনওসি) জানায়, সোমবার সন্ধ্যায় ব্রেগা অয়েল কোম্পানির ‘৪০২-টি’ নম্বর ট্যাংকে সরাসরি ড্রোন হামলা চালানো হয়। 

প্রায় ৪৫ লাখ লিটার (১২ লাখ গ্যালোন) পেট্রোল থাকা ট্যাংকটিতে আগুন লাগার পর তা পুরোপুরি ধসে পড়ে।

এর আগে গত শনি ও রোববারও শোধনাগারটির একটি ন্যাফথা জলাধার এবং পানি শোধন প্ল্যান্টে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছিল। 

এসব হামলার পর সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে ‘সর্বোচ্চ জরুরি অবস্থা’ জারি করেছে এনওসি এবং জড়িতদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।

এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ এসব হামলার দায় স্বীকার করেনি। এনওসি জানিয়েছে, প্রাথমিক অগ্নিকাণ্ডের পরও জাওয়িয়া তেল শোধনাগার  কোম্পানির একটি তেল প্রক্রিয়াজাতকরণ প্ল্যান্টকে লক্ষ্য করে আরও একটি ড্রোন হামলা চালানো হয়। 

ড্রোনটি প্রধান তেল ট্যাংক ও পাইপলাইনের কাছে গিয়ে পড়লেও এতে নতুন করে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

এনওসি সতর্ক করে বলেছে, এই ধরনের নাশকতা অব্যাহত থাকলে তারা ‘ফোর্স মেজর’ (জরুরি পরিস্থিতিতে চুক্তি স্থগিতের আইনি ক্ষমতা) ঘোষণা করে শোধনাগারের সব কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হবে। 

অন্যদিকে, ব্রেগা অয়েল কোম্পানি তেল স্থাপনাগুলোকে জাতীয় সম্পদ উল্লেখ করে সব পক্ষকে লড়াই থামানোর আহ্বান জানিয়েছে।

২০১১ সালে নেটো সমর্থিত অভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকেই লিবিয়ায় রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে। 

বর্তমানে দেশটিতে দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী সরকার রয়েছে, ত্রিপোলিনির্ভর জাতিসংঘ স্বীকৃত আব্দুল হামিদ দ্বিবেবার সরকার এবং পূর্বে সামরিক কমান্ডার খলিফা হাফতার সমর্থিত সরকার।

হামলার পর ত্রিপোলির প্রধানমন্ত্রী দ্বিবেবা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধানদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। 

এছাড়া, লিবীয় পার্লামেন্টের জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদ কমিটি শোধনাগারটিকে ‘জাতীয় অর্থনীতির মূল ভিত্তি’ উল্লেখ করে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।