Published : 07 Sep 2026, 10:43 PM
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত অব্যাহত রাখা হবে কি না, সে বিষয়ে জনগণের মতামত নিতে গণভোটের আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি।
যুদ্ধবিরতি ইরানের বেশিরভাগ মানুষের ইচ্ছার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে রুহানি এ সপ্তাহান্তে যুদ্ধ শেষ করারও আহ্বান জানিয়েছেন। ‘দ্য টেলিগ্রাফ’ পত্রিকা জানায়, সাবেক প্রাদেশিক গভর্নরদের এক সমাবেশে বক্তব্য দিয়েছেন রুহানি।
সেখানে তিনি বলেন, দেশের লক্ষ্য জনগণের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা উচিত। আর সাধারণ মানুষের সামনে কোনও লক্ষ্য বা পরিকল্পনা তুলে ধরার আগে প্রথমেই নীতিনির্ধারক বা নিজেদের কাছে সেটির রূপরেখা সম্পূর্ণ পরিষ্কার থাকাটাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
রুহানি বলেন, “আমরা জনগণকে বলব: আমাদের পরিকল্পনা হল, বিশ্বের বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে আরও ২০ বছর লড়াই চালিয়ে যাওয়া। জনগণ যদি বলে যে তারা এটি মেনে নিচ্ছে তাহলে খুব ভাল, চলুন চালিয়ে যাই। কিন্তু যদি জনগণ তা মেনে না নেয় এবং আমাদের অন্য কোনও পথ দেখায়, তবে কি আমরা সেই পথ মেনে নিতে চাই না?"
রুহানি তার বক্তব্যে সরাসরি ‘গণভোট’ শব্দটি ব্যবহার না করলেও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা তার মন্তব্যকে গণভোট অনুষ্ঠানের আহ্বান হিসেবে দেখছেন।
যুদ্ধ ‘সম্মানজনকভাবে’ এবং জনগণের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে শেষ করার ডাক দিয়েছেন রুহানি, যাতে ইরান যুদ্ধে নিজেদের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা, বিনিয়োগ আকর্ষণ করা এবং তরুণদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ তৈরি করতে পারে।
তিনি বলেন, বর্তমানে যারা যুদ্ধের পক্ষে বেশি সরব রয়েছে, তারা ইরানি সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ নয়।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের সমালোচনা করে রুহানি বলন, কট্টরপন্থি ও সামরিক কণ্ঠস্বরের আধিপত্যে থাকা জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম বিভাজনের কেন্দ্রে পরিণত হলে, প্রেসিডেন্ট থেকে সাধারণ মানুষ- সবাই এর প্রতি আগ্রহ হারাবে।
২০১৩ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন রুহানি। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক চুক্তি করায় তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
সেই চুক্তির আওতায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত রাখার বিনিময়ে দেশটির ওপর থেকে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছিল। পরে যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে সরে যায়।