১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ট্রাম্প যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ালে ইউরোপের দেশগুলোতে হামলার পরিকল্পনা ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর হামলা আরও বাড়লে এর জবাবে দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলার বিষয়টি বিবেচনা করে দেখেছে ইরানি বাহিনী।

ট্রাম্প যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ালে ইউরোপের দেশগুলোতে হামলার পরিকল্পনা ইরানের
ইরান ও ইইউ এর পতাকা। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 19 Aug 2026, 07:44 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:52 PM

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধের তীব্রতা আরও বাড়ালে ইউরোপে থাকা মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার চালানোর কথা ভাবছে ইরান। 

বুধবার ‘দ্য ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস’ এক প্রতিবেদনে ইরানের শাসনব্যবস্থার ভেতরের দুই সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।

সূত্ররা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর হামলা আরও বাড়লে এর জবাবে দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলার বিষয়টি মূল্যায়ন বা বিবেচনা করে দেখেছে ইরানি বাহিনী।

এই দেশগুলোর মধ্যে আছে বুলগেরিয়াও, যারা গত মাসে মার্কিন জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান চলাচলের জন্য বেজমার বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে।

তাছাড়া, নতুন করে মার্কিন হামলা শুরু হলে এর জবাবে ইরানের পাল্টা হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় আছে সাইপ্রাসও। গত মার্চে সাইপ্রাসের একটি ব্রিটিশ বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা হয়েছিল।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস এর প্রতিবেদনে এও বলা হয়েছে যে, সংঘাত আরও তীব্র হলে হরমুজ প্রণালিতে সমুদ্রের তলদেশের ফাইবার-অপ্টিক কেবলগুলোতে কীভাবে হামলা চালানো যায়, তাও ইরানি বাহিনী এর আগে আলাদাভাবে খতিয়ে দেখেছিল।

এক সূত্র বলেছে, ট্রাম্প যদি ইরানের অবকাঠামোতে হামলার হুমকি বাস্তবায়ন করেন, তবে তেহরান যুদ্ধ আরও বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

অন্য সূত্র বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের জবাবে ইরান কোনও 'সীমা’ রাখবে না। যুক্তরাষ্ট্র বাড়াবাড়ি করলে ইরান যে কোনও মূল্যে নিজেকে রক্ষা করবে এবং আঞ্চলিক সীমানা পেরিয়ে ইউরোপেও আঘাত হানবে। ইরানের অবকাঠামোতে মার্কিন হামলা তেহরানকে এমন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করবে।

জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে গত মাসে ইরানের হামলায় তিন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হওয়ার ঘটনার কথা উল্লেখ করে দুই সূত্র বলেছে, দূর-পাল্লার হামলায় লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানার সক্ষমতা যে তেহরানের রয়েছে, এটি তারই প্রমাণ।

এই সূত্রদের একজন বলেন, “এটি ইউরোপের জন্য একটি বার্তা যে, তাদের কাছেও ক্ষেপণাস্ত্র পৌঁছতে পারে। তাই এই যুদ্ধে নিজেদের অবস্থান কোথায় হওয়া উচিত, তা ইউরোপের জানা দরকার। আমাদের কোনও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালানোর মতো বড় ভুল করা হলে এই যুদ্ধ আঞ্চলিক সীমানা ছাড়িয়ে ইউরোপেও পৌঁছে যেতে পারে।”

ইরান অবশ্য এখনও ইউরোপে তাদের হামলা চালানোর পরিকল্পনার খবর প্রকাশ্যে নিশ্চিত করে জানায়নি।

তবে সামরিক বিশ্লেষকরা ‘ফিন্যান্সিয়াল টাইমস’-কে বলেছেন, ইরান মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপে অবস্থিত মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলা চালাতে পারে।

তবে তারা এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদের সক্ষমতা এবং তেহরানের কাছে থাকা দূরপাল্লার অস্ত্রের মজুদ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।