Published : 18 Feb 2026, 10:46 AM
যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ড (সাউথকম) জানিয়েছে, তারা পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে ও ক্যারিবীয় সাগরে তিনটি পৃথক নৌযানে হামলা চালিয়ে ১১ জনকে হত্যা করেছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, সোমবার রাতে এসব হামলার ঘটনাগুলো ঘটেছে আর এতে ১১ জন ‘পুরুষ মাদক-সন্ত্রাসবাদী’ নিহত হয়েছে।
মঙ্গলবার মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে প্রথম হামলাটি চালানো হয়, এতে চারজন নিহত হয়। একই মহাসাগরে আরেকটি নৌযানে দ্বিতীয় হামলায় আরও চারজন নিহত হয়। আর ক্যারিবীয় সাগরে তৃতীয় হামলার ঘটনায় তিনজন নিহত হয়।
সামাজিক মাধ্যম এক্স এ এক পোস্টে সাউথকম বলেছে, “গোয়েন্দা তথ্য নিশ্চিত করেছে, ওই নৌযানগুলো মাদক পাচার অভিযানে রত ছিল আর সেগুলো পরিচিত মাদক পাচারের রুট ধরে এগিয়ে যাচ্ছিল।”
সোমবার রাতের এসব অভিযানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কোনো সদস্য আঘাত পায়নি বলে জানিয়েছে তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন গত সেপ্টেম্বর থেকে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যারিবীয় সাগরে সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারী নৌযানগুলোর বিরুদ্ধে একের পর এক ‘সফল অভিযান’ পরিচালনার দাবি করে আসছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এক মাদকবিরোধী সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে ভেনেজুয়েলার কাছে ক্যারিবীয় সাগর ও লাতিন আমেরিকার পশ্চিম উপকূলের প্রশান্ত মহাসাগরে ৪০টিরও বেশি নৌযানে আঘাত হেনেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের এসব হামলায় ১৩০ জনেরও বেশি সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারী নিহত হয়েছে।
ট্রাম্পের অভিযোগ, ওই অঞ্চল থেকে চোরাচালান হয়ে আসা মাদকে অনেক মার্কিন নাগরিকের মৃত্যু হচ্ছে।
তবে জানুয়ারির প্রথমদিকে মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে এসব হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। মাদুরো মাদক পাচারকারী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন যোগাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ মার্কিন প্রশাসনের।
যেসব নৌযানে তারা হামলা চালিয়েছে সেগুলো সত্যিই মাদক বহন করছিল কি না, এ পর্যন্ত এমন কোনো প্রমাণ হাজির করেনি মার্কিন প্রশাসন।
এসব হামলার আইনি বৈধতা আছে বলে দাবি করে আসছে ট্রাম্প প্রশাসন। কিন্তু অনেক আইন বিশেষজ্ঞ এসব ঘটনাকে ‘বেআইনি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ বলে অভিহিত করেছেন।