Published : 15 Oct 2025, 03:13 PM
প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হানা আঘাতে ভেনেজুয়েলার উপকূলের কাছে ক্যারিবীয় সাগরে সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারীদের একটি নৌযানের ছয় আরোহী নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প বলেন, নির্ধারিত একটি সন্ত্রাসী সংগঠনের বিরুদ্ধে আঘাতটি হানা হয়েছে।
কিন্তু কোন গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আঘাতটি হানা হয়েছে, তিনি তার বিস্তারিত তুলে ধরেননি; জানিয়েছে রয়টার্স।
কোনো প্রমাণ না দিয়ে ট্রাম্প বলেন, “গোয়েন্দারা নিশ্চিত করেছে, ওই নৌযানটি মাদকদ্রব্য বহন করছিল আর এটি নিষিদ্ধ মাদক সন্ত্রাসী চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল।”
নিজের পোস্টে ট্রাম্প প্রায় ৩০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। এতে দেখা গেছে, সাগরের পানিতে স্থিরভাবে ভেসে থাকা একটি নৌযানে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানছে আর সেটি বিস্ফোরিত হচ্ছে।
ট্রাম্প নিজ দেশের লস অ্যাঞ্জেলেস শহরে মার্কিন সেনা মোতায়েন থেকে শুরু করে দেশের বাইরে সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছেন। এসবের মাধ্যমে তিনি মার্কিন সামরিক শক্তিকে নতুন কিন্তু প্রায়ই বিতর্কিত পথে ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন বলে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। তার সর্বশেষ উদাহরণ, ভেনেজুয়েলার উপকূলে সন্দেহভাজন নৌযানে আঘাত হানার ঘটনা।
সম্প্রতি পেন্টাগন (যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়) মার্কিন কংগ্রেসকে জানিয়েছে যে ট্রাম্প নির্ধারণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্র মাদক চক্রগুলোর বিরুদ্ধে ‘একটি অ-আন্তর্জাতিক সশস্ত্র সংঘাতে’ লিপ্ত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কিছু সামরিক আইনজীবী জানিয়েছেন, খোলা সাগরে সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারীদের গ্রেপ্তার না করে তাদের হত্যা করার জন্য ট্রাম্প প্রশাসন যে আইনি ব্যাখ্যা দিয়েছে তা যুদ্ধ আইনের বাধ্যবাধকা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা উপকূলের কাছে দক্ষিণ ক্যারিবীয় অঞ্চলে বড় ধরনের সামরিক সমাবেশ গড়ে তুলছে। পুয়ের্তো রিকোতে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান মোতায়েনের পাশাপাশি ওই অঞ্চলের সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের আটটি যুদ্ধজাহাজ টহল দিচ্ছে। এগুলোতে কয়েক হাজার নাবিক ও মেরিন সেনা আছে। এদের সঙ্গে একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত ডুবোজাহাজও আছে।
এর আগে ওই অঞ্চলে কথিত মাদকবাহী নৌযানের বিরুদ্ধে অন্তত চারটি হামলা পরিচালনা করেছে মার্কিন বাহিনী। কিন্তু কোনোটির বিষয়েই ট্রাম্প প্রশাসন পর্যাপ্ত তথ্য সরবরাহ করেনি। কাদের তারা হত্যা করেছে, তাদের পরিচয় কী, ধ্বংস করে দেওয়া নৌযানগুলোতে কী ধরনের, কতো মাদক বহন করা হচ্ছিল- এগুলোর কিছুই তারা জানায়নি।
অপরদিকে ভেনেজুয়েলার মার্কিনবিরোধী বামপন্থি প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বারবার অভিযোগ করছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর চেষ্টা করছে।
প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে গ্রেপ্তার করার পথ খুলে দেবে, এমন তথ্য দেওয়ার জন্য অগাস্টে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ঘোষিত পুরস্কারের পরিমাণ দ্বিগুণ করে পাঁচ কোটি ডলার করেছে। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদক পাচার ও অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ ওয়াশিংটনের। মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।