১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া ১০ দিন, ‘আলোচনায় অগ্রগতি’, এরপর হামলা

ইরানের শাসকদেরকে ‘একদল নিষ্ঠুর ও ভয়াবহ লোক’ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমরা আর এসব সহ্য করব না। আমাদের লক্ষ্য হলো এই হুমকিগুলো নির্মূল করে আমেরিকানদের রক্ষা করা।”

ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া ১০ দিন, ‘আলোচনায় অগ্রগতি’, এরপর হামলা
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এনডিটিভি

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Feb 2026, 05:26 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:03 PM

ইরানের রাজধানী তেহরানে ইসরায়েলি বিমান হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। 

ওয়াশিংটন ও জেরুজালেম থেকে সামরিক অভিযানের যে ক্রমাগত সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছিল, শনিবার ভোরে তেহরানে শক্তিশালী বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে তারই প্রতিফলন ঘটল, বলছে এনডিটিভি।

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে একটি ‘অর্থবহ’ সমঝোতায় আসার জন্য ‘১০ থেকে ১৫ দিন’ সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। 

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, এই সময়ের মধ্যে তেহরান ইতিবাচক সাড়া না দিলে ‘খারাপ কিছু’ ঘটবে। সেই অনানুষ্ঠানিক সময়সীমার শেষ প্রান্তেই এই হামলা চালানো হল।

শনিবার সকালে তেহরানে অন্তত তিন থেকে চারটি বড় ধরণের বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। 

প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় তেহরানের এমন কিছু এলাকা লক্ষ্য করা হয়েছে যা দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কার্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। 

তবে রয়টার্স কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ৮৬ বছর বয়সী এই নেতা সেই সময় রাজধানীতে ছিলেন না এবং তাকে আগেই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ইসরায়েলি হামলার কয়েক ঘণ্টা পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেন, আমেরিকান বাহিনী ইরানে ‘বড় ধরনের অভিযান’ শুরু করেছে। 

এক ভিডিও বার্তায় তিনি তার অভিযানকে ‘ইরানি শাসকগোষ্ঠীর আসন্ন হুমকির বিরুদ্ধে জবাব’ আখ্যা দিয়েছেন।

ইরানের শাসকদেরকে ‘একদল নিষ্ঠুর ও ভয়াবহ লোক’ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমরা আর এসব সহ্য করব না। আমাদের লক্ষ্য হলো এই হুমকিগুলো নির্মূল করে আমেরিকানদের রক্ষা করা।” 

তিনি তেহরানের বিরুদ্ধে কয়েক দশক ধরে মার্কিন স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ আনেন।

২০২৫ সালের ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক সংঘর্ষের পর থেকেই ইসরায়েলি নেতারা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। 

জানুয়ারি মাসেও তারা একাধিক আগাম হামলা চালিয়েছেন এবং বারবার বলেছেন যে যে ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বাড়তে দেওয়া হবে না।

ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পশ্চিমা গোয়েন্দা তথ্যে দেখা যায়, ওয়াশিংটনের হুমকি সত্ত্বেও ইরান তাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। এর ফলে ওয়াশিংটন ও জেরুজালেমে এই ধারণা তৈরি হয় যে তেহরান তাদের ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছে। সে কারণেই তাদের এবারের যৌথ হামলা আগের যে কোনো বারের চেয়ে অনেক দীর্ঘ ও তীব্রতর হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

কিন্তু এর মধ্যে আশা বাড়ছিল সুইজারল্যান্ডের জেনিভায় ওয়াশিংটন-তেহরান আলোচনাকে ঘিরে। ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে বলে বৃহস্পতিবারও জানিয়েছেন ওই আলোচনার মধ্যস্থতাকারী ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

যুক্তরাষ্ট্র, ইরান দুই পক্ষ আলোচনায় ‘অগ্রগতি’ হওয়ার কথাও জানিয়েছিল। কিন্তু গত বছরের জুনের মতোই এবারও আলোচনার মাঝপথেই ইরানে হামলা করে বসল ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র।

রাশিয়া, ইউরোপের প্রায় সব দেশ এবং জাতিসংঘ ইরান নিয়ে সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানালেও শনিবারের হামলার পর আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের পথ আরও সংকীর্ণ হয়ে পড়ল।

ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী এরই মধ্যে বলেছে, শত্রুরা ‘পুরোপুরি পরাস্ত না হওয়া পর্যন্ত’ তারা পাল্টা অভিযান চালিয়ে যাবে।