১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

কলম্বিয়ায় ভূমিকম্প: ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান, মৃত্যু বাড়ার আশঙ্কা

এই বিপর্যয় ১৯৯৯ সালের প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে, যাতে দেশটির কফি উৎপাদনকারী অঞ্চলে ১ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।

কলম্বিয়ায় ভূমিকম্প: ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান, মৃত্যু বাড়ার আশঙ্কা
ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 Aug 2026, 07:07 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:49 PM

কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে বহু দশকের মধ্যে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকা। ধসে পড়া ভবন ও ঘরবাড়ির ধ্বংসস্তূপে মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। 

ধসে পড়া ভবনের ভেতরে বহু মানুষ এখনও আটকে থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ৭ দশমিক ৪ মাত্রার এ শক্তিশালী ভূমিকম্পটি সোমবার ভোরে কলম্বিয়ার কফি উৎপাদনকারী মূল অঞ্চলে আঘাত হানে। 

প্রাকৃতিক এ দুর্যোগে ইতোমধ্যে অন্তত ১৬৪ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

ভূমিকম্পে পেরেইরা ও কালির মতো বড় শহরের বহুতল ভবনগুলো মুহূর্তে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। এছাড়া মানিজালেস শহরের একটি ঐতিহাসিক ক্যাথেড্রালের একটি মিনারে ফাটল ধরেছে।

উদ্ধার অভিযানে পুলিশ, সেনাসদস্যদের পাশাপাশি হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবক যোগ দিয়েছেন। এক্সকাভেটর যন্ত্রের পাশাপাশি অনেকে খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের সন্ধানে রাতভর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এবং রয়টার্স যাচাই করা এক ভিডিওতে দেখা যায়, তীব্র ঝাঁকুনির সময় পেরেইরা বিমানবন্দরের ছাদের বড় অংশ খসে পড়ছে এবং আতঙ্কিত মানুষ আশ্রয়ের জন্য ছুটছেন।

প্রায় ২২ লাখ মানুষের বাস কালি শহরেই সবচেয়ে বেশি অন্তত ৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে ডজনখানেক ভবন হেলে পড়েছে বা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে, যার ফলে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসতে বাধ্য হয়েছেন।

শহরের একটি প্রধান হাসপাতালের শিশুরোগ বিভাগসহ কয়েকটি ওপরের তলা ধসে পড়ে। 

টেলিভিশন চ্যানেল 'ক্যারাকোল'-কে হাসপাতালের পরিচালক ইর্নে তোরেস কাস্ত্রো জানান, ভবনের ভেতর কয়েকজন রোগী আটকা পড়েছেন এবং রাস্তায় ছড়িয়ে থাকা ধ্বংসস্তূপের মাঝেই প্রায় ৬০০ রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

উদ্ধার কাজে অংশ নেওয়া ৪৩ বছর বয়সী স্বেচ্ছাসেবী কারমেন ইয়াসমিন গার্সিয়া জানান, তার দল একটি ধসে পড়া ভবন থেকে সাতজনকে জীবিত উদ্ধার করলেও ভেতরে আরও চারজন মানুষ ও একটি কুকুর আটকে রয়েছে। 

তিনি বলেন, “কিছুক্ষণ আগেও ভেতর থেকে আঁচড় কাটার শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল, কিন্তু এখন আর কিছু শোনা যাচ্ছে না। তবে কুকুরটি বেঁচে আছে এবং আমরা এই মানুষগুলোকে বের করে আনতে পারব বলে বিশ্বাস করছি। আমাদের কোদাল ও লাঠি হাতে আরও বেশি মানুষ প্রয়োজন।”

রিসারালদা প্রদেশের রাজধানী পেরেইরাতে অন্তত ৬৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। শহরটিতে আবাসিক ব্লকগুলো ধসে কংক্রিট ও মোচড়ানো রডের স্তূপে পরিণত হয়েছে। 

এছাড়া ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের সবচেয়ে কাছের গ্রামীণ প্রদেশ চোকোতে আরও ১৩ জন নিহত হয়েছেন।

কয়েক দিন আগে ক্ষমতা নেওয়া কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা জানান, কেবল কালি শহর থেকেই ৩৫ জনের মৃত্যু ও ১৮৮ জন নিখোঁজ হওয়ার খবর মিলেছে। 

লুটপাটের খবর পাওয়ার পর মঙ্গলবার ভোরের মধ্যে শহরে ১ হাজার সদস্যের নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কালি ও পেরেইরা শহরে সোমবার রাতে কারফিউ জারি করা হয়।

সাংবাদিকদের প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য যেকোনো উপায়ে মানুষকে সহযোগিতা করা। স্বদেশের মানুষকে রক্ষা কিংবা সংহতি প্রকাশের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক বা আদর্শগত বিভেদ থাকতে পারে না।”

এই বিপর্যয় ১৯৯৯ সালের শক্তিশালী ভূমিকম্পের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে, যাতে দেশটির কফি অঞ্চলে ১ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। এছাড়া জুনে প্রতিবেশী দেশ ভেনেজুয়েলায় ৬,৩০০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটানো প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পের পর এটি এ অঞ্চলে আরেকটি বড় বিপর্যয়।