পোপ ফ্রান্সিসের মৃত্যুতে বিশ্বজুড়ে শোক
পোপ ফ্রান্সিসের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা।
রোমান ক্যাথলিক গির্জার প্রথম লাতিন আমেরিকান নেতা পোপ ফ্রান্সিস আর নেই। সোমবার ৮৮ বছর বয়সে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ভ্যাটিকান। সম্প্রতি তিনি মারাত্মক নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন।
পোপ ফ্রান্সিসের মৃত্যুতে বিশ্বনেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন:
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প:
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প স্যোশাল মেডিয়া প্লাটফর্ম ট্রুথ স্যোশালে লিখেছেন, “পোপ ফ্রান্সিস শান্তিতে ঘুমান। ঈশ্বর তার এবং তিনি যাদের ভালবাসতেন সবার মঙ্গল করুন।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার:
“সারা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের সঙ্গে আমিও পোপ ফ্রান্সিসের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছি। এই জটিল সময়েও তার নেতৃত্বে ছিল বিনয় আর সাহসের সমন্বয়।”
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী:
মোদী বলেন, “তিনি ছিলেন সহানুভূতি, বিনয় ও আধ্যাত্মিক সাহসের প্রতীক। ভারতে তার প্রতি মানুষের ভালোবাসা স্মরণীয় থাকবে।”
ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মারকোস জুনিয়র:
“আমি এই পোপকে ভালোবাসি। আমার জীবদ্দশায় তিনি সেরা পোপ,” বলেন মারকোস।
তিনি আরও বলেন, “গভীর বিশ্বাস আর বিনয়ের মানুষ ফ্রান্সিস কেবল প্রজ্ঞা দিয়ে নয়, সহানুভূতির হৃদয় দিয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিশেষ করে দরিদ্র ও অবহেলিতদের জন্য।”
ব্রিটেনের রাজা চার্লস:
“আমার স্ত্রী ও আমি পোপ ফ্রান্সিসের মৃত্যুর খবরে গভীরভাবে শোকাহত। জীবনের শেষ সময়েও তিনি বিশ্বজুড়ে মানুষের প্রতি উৎসর্গিত ছিলেন।”
ইতালির প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাত্তারেল্লা:
“পোপ ফ্রান্সিসের মৃত্যুতে আমি ব্যক্তিগত শোক অনুভব করছি। তিনি সবসময় আমার জন্য এক প্রেরণার জায়গা ছিলেন। তার শিক্ষা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় গসপেলের বার্তা, মানুষের মধ্যে সংহতি, দুর্বলদের পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং মানবতার শান্তির কথা।”
ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি:
“তিনি জানতেন কীভাবে প্রার্থনার মাধ্যমে শান্তি ও আশার বাণী ছড়াতে হয়। তিনি ইউক্রেইনের জন্য প্রার্থনা করেছেন। আমরা ক্যাথলিক ও সব খ্রিস্টানদের সঙ্গে মিলেই শোক জানাচ্ছি। চিরস্মরণীয় থাকুন তিনি!”
গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসোতাকিস:
“পোপ ফ্রান্সিস যে ভালোবাসা ও বোঝাপড়ার উত্তরাধিকার রেখে গেলেন, সেটি যেন শ্রেষ্ঠভাবে রক্ষা করা হয়।”
কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুতো:
“তিনি ছিলেন সেবামূলক নেতৃত্বের প্রতিচ্ছবি। দরিদ্র ও প্রান্তিকদের প্রতি তার সহানুভূতি, ন্যায়বোধ এবং মানবিক মূল্যবোধ কোটি মানুষের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।”
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন:
“লেবানন হারাল এক প্রিয় বন্ধু ও শক্তিশালী সমর্থককে। পোপ ফ্রান্সিস সবসময় আমাদের জন্য প্রার্থনা করেছেন এবং বিশ্বকে আমাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।”
পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী লুইস মণ্টেনেগ্রো:
“তিনি ছিলেন অসাধারণ এক পোপ, যিনি মানবতা, সহানুভূতি আর মানুষের পাশে থাকার অনন্য দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন।”
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ:
“তিনি আমাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন কীভাবে আমরা পৃথিবীকে – আমাদের বাসভূমি’ – ভালোবাসতে পারি। তার সম্মানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে।”
জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস:
“পোপ ফ্রান্সিস ছিলেন দুর্বলদের কণ্ঠস্বর, মিলনের দূত, আর উষ্ণ হৃদয়ের মানুষ। তার মৃত্যুর খবরে আমি গভীরভাবে ব্যথিত।”
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন:
“পোপ ফ্রান্সিসের মৃত্যুতে আমি আন্তরিক শোক জানাই। রুশ অর্থডক্স গির্জা ও ক্যাথলিক গির্জার মধ্যে সংলাপ এবং রাশিয়া-ভ্যাটিকান সম্পর্ক উন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।”
আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলে:
আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট বলেন, “আজকের দিনে আমাদের রাজনৈতিক মতপার্থক্য গৌণ মনে হয়। তার (পোপ) প্রজ্ঞা ও মমতা চিরস্মরণীয়।”
ইতালির প্রধানমন্ত্রীর জর্জিয়া মেলোনি:
মেলোনি বলেন, “আমি তার বন্ধুত্ব, পরামর্শ ও শিক্ষা লাভের সৌভাগ্য অর্জন করেছি।”
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ:
তিনি বলেছেন, “সর্বদা পোপ ছিলেন নিপীড়িতদের পাশে, বিনয় নিয়ে।”
ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হার্জগ:
তিনি বলেন, “একজন বিশ্বাসী ও সহমর্মী মানুষ হিসেবে পোপ শান্তির বার্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রার্থনা করেছেন।”
ফিলিপিন্সের বিশপদের সংগঠনের প্রধান কার্ডিনাল:
পাবলো ভার্জিলিও ডেভিড বলেন, “হে ঈশ্বর, আমি অত্যন্ত মর্মাহত। আমাদের গির্জাগুলোর ঘণ্টাধ্বনির মাধ্যমে তার আত্মার শান্তির জন্য প্রার্থনায় মানুষকে আহ্বান জানান।”
পোপ ফ্রান্সিসের মৃত্যুতে বিশ্ব যেমন শোকস্তব্ধ, তেমনি বিশ্বের নানা প্রান্তে রাজনৈতিক নেতারা তার নৈতিক নেতৃত্ব ও মানবতার বার্তা স্মরণ করছেন গভীর শ্রদ্ধায়।
