ল্যাবে বানানো মাংস খাওয়ার পথ সুগম হল যুক্তরাষ্ট্রে

জীবন্ত প্রাণী থেকে কোষ নিয়ে তা দিয়ে স্টেইনলেস স্টিল ট্যাঙ্কের মধ্যে মাংস বানানো কোম্পানি আপসাইড ফুডস মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) পর্যালোচনার পর তাদের পণ্য বাজারে আনতে পারবে, বিবৃতিতে বলেছে এফডিএ।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 17 Nov 2022, 10:37 AM
Updated : 17 Nov 2022, 10:37 AM

যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) প্রথমবার ল্যাবরেটরিতে প্রাণী কোষ দিয়ে বানানো একটি মাংসজাত পণ্য খাওয়ার পথ সুগম করল।

বুধবার তারা এ সংক্রান্ত এক ঘোষণাও দিয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

জীবন্ত প্রাণী থেকে কোষ সংগ্রহ করে তা দিয়ে স্টেইনলেস স্টিল ট্যাঙ্কের মধ্যে মাংস বানানো কোম্পানি আপসাইড ফুডস মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) পর্যালোচনার পর তাদের পণ্য বাজারে আনতে পারবে, বিবৃতিতে এমনটাই বলেছে এফডিএ।

“বিশ্ব একটি খাদ্য বিপ্লব প্রত্যক্ষ করছে এবং এফডিএ খাদ্য সরবরাহে উদ্ভাবনকে সহযোগিতা করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ,” বিবৃতিতে বলেছেন এফডিএ-র কমিশনার রবার্ট এম কালিফ ও এফডিএ-র সেন্টার ফর ফুড সেইফটি অ্যান্ড অ্যাপ্লাইড নিউট্রেশনের পরিচালক সুসান মেইনে।

বুধবার প্রকাশিত নথিতে এফডিএ বলেছে, তারা আপসাইড ফুডসের কাছ থেকে পাওয়া সব তথ্যউপাত্ত যাচাই করে দেখেছে এবং কোম্পানিটি মানুষের খাদ্য হিসেবে তাদের পণ্যকে নিরাপদ গণ্য করে যে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে সে বিষয়ে এফডিএর আর কোনো প্রশ্নও নেই।

“এফডিএ-র এ ঘোষণায় আমরা আপ্লুত। ঐতিহাসিক এ পদক্ষেপ আমাদের বাজারে যাওয়ার পথ সুগম করেছে,” বলেছেন আপসাইডের কমিউনিকেশন্স ডিরেক্টর ডেভিড কে। 

এফডিএ-র এই পর্যালোচনা ‘কার্যত কোনো অনুমোদন নয়’ এবং এই পর্যালোচনাটি কেবলমাত্র আপসাইডের পণ্যের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে; তবে সংস্থাটি প্রাণী কোষ দিয়ে খাবার বানানো অন্যান্য কোম্পানির সঙ্গেও কাজ করতে আগ্রহী, বিবৃতিতে বলেছে এফডিএ। 

ইউএসডিএ ও এফডিএ উভয়ে মিলেই ২০১৯ সালে সংস্থা দুটির মধ্যে হওয়া এক চুক্তির আওতায় কোষ থেকে বানানো মাংসের নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের ভূমিকা পালন করে।

ইউএসডিএ কোষ থেকে বানানো মাংসজাত পণ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণ ও লেবেলিং দেখভাল করে।

গবাদিপশু পালনের ফলে উচ্চ গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ নিয়ে সচেতনতার পাশাপাশি এখন খামারে চাষ করা পশুপাখির মাংসের বিকল্প কিছুর চাহিদা বাড়ছে।

চলতি বছর মিশরে কপ২৭ জলবায়ু সম্মেলনে আগতদেরও প্রাণীকোষ থেকে বানানো মাংস পরিবেশন করা হয়েছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক